এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু আগামীকাল

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু আগামীকাল

আগামীকাল শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। এ উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, তাঁরা আশা করছেন এবার প্রশ্ন ফাঁস হবে না।

প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে রটনার ৮০ শতাংশের বেশি গুজব বলে মনে করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি আরো বলেছেন, ‘তবে যে ২০ শতাংশ এখনো সত্যি আছে, আমরা সেই ২০ শতাংশের জায়গাও রাখতে চাই না। গত বছরের পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের কোনো অভিযোগ আসেনি। তাই গত বছর যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল সেগুলো এবার আমরা আরো জোরদার করেছি।’

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ২১ লাখ ৩৫ হাজার ৩৩৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নেবে। এর মধ্যে ১০ লাখ ৭০ হাজার ৪৪১ জন ছাত্র এবং ১০ লাখ ৬৪ হাজার ৮৯২ জন ছাত্রী। দেশের তিন হাজার ৪৯৭টি কেন্দ্রে ২৮ হাজার ৬৮২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেবে। বিদেশের আটটি কেন্দ্রেও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

এবারও বাংলা দ্বিতীয় পত্র এবং ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র ছাড়া অন্য সব বিষয়ে সৃজনশীল প্রশ্নে পরীক্ষা হবে। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী, সেরিব্রাল পালসিজনিত প্রতিবন্ধী এবং যাদের হাত নেই—এমন প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থী শ্রুতি লেখক সঙ্গে নিতে পারবে। তাদের ২০ মিনিট অতিরিক্ত সময় দেওয়া হবে। আর অটিস্টিক ও ডাউন সিনড্রোম প্রতিবন্ধীরা অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময়ের পাশাপাশি শিক্ষক, অভিভাবক বা সাহায্যকারীর বিশেষ সহায়তায় পরীক্ষা দিতে পারবে।

শিক্ষামন্ত্রী তাঁদের পদক্ষেপগুলো তুলে ধরে বলেন, পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থী অবশ্যই পরীক্ষা কক্ষে তার জন্য নির্ধারিত আসন গ্রহণ করবে। পরীক্ষা শুরুর ২৫ মিনিট আগে এসএমএসের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের কাছে প্রশ্নপত্রের সেট কোড জানিয়ে দেওয়া হবে। শুধু কেন্দ্রসচিব একটি সাধারণ ফোন ব্যবহার করতে পারবেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবার শুধু এসএসসিতে ১৭ লাখ ৪০ হাজার ৯৩৭ জন অংশ নেবে। তবে এই ব্যাচ ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে যখন নবম শ্রেণিতে পড়ত তখন রেজিস্ট্রেশন করেছিল ২২ লাখ ৮৮ হাজার ৩২৩ জন। অর্থাৎ পরীক্ষায় বসছে না পাঁচ লাখ ৪৭ হাজার ৩৮৬ জন শিক্ষার্থী।

এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আগে টেস্ট পরীক্ষায় যারা তিন-চার বিষয়ে ফেল করত তাদেরও পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হতো। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরেই বলা হচ্ছিল, টেস্টে যারা পাস করবে না তাদের যেন কেন্দ্রে পাঠানো না হয়। এটা ড্রপ আউট না।’

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর প্রমুখ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked with *

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক মন্তব্য