ডাকসু নির্বাচন আদিবাসী শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা

ডাকসু নির্বাচন আদিবাসী শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা

প্রিয় সুধী,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যয়নরত আদিবাসী শিক্ষার্থীবৃন্দের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা গ্রহণ করুন।
আপনারা জানেন,দীর্ঘ অচলায়তন ভেঙে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আপামর শিক্ষার্থীর প্রাণের দাবী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই উদ্যোগকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যয়নরত আদিবাসী শিক্ষার্থীরা আন্তরিকভাবে শুভেচ্ছা জানায়। এদেশের ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা আন্দোলন, স্বৈরাচার প্রতিরোধ আন্দোলনসহ বহু গণতান্ত্রিক আন্দোলনে দেশের আদিবাসীদেরও রয়েছে বীরত্বপূর্ণ অংশগ্রহণের ইতিহাস। সেভাবেই গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক চেতনায় সমৃদ্ধ আগামীদিনের বাংলাদেশ বিনিমার্ণেও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যয়নরত আদিবাসী শিক্ষার্থীরা অংশীদার হতে চায়। আমাদের প্রত্যাশা আসন্ন ডাকসু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থীর গর্বের ঠিকানা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফিরে পাবে তার হৃত গৌরব ও ঐতিহ্য।

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগন,
অন্যান্য আপামর সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতোই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত আদিবাসী শিক্ষার্থীরাও মনে করে শিক্ষার্থীবান্ধব, আধুনিক, মননশীল এবং গবেষণাভিত্তিক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণের জন্য দরকার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণপ্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের প্রতনিধিত্বমূলক অংশগ্রহণ। আমরা আশা করি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় হবে মুক্তবুদ্ধিচর্চার উর্বর ক্ষেত্র। আমরা স্বপ্ন দেখি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হবে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা বিশ্বাস করি প্রগতির ইতিহাস বহনকারী এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস হবে নানান মতের, নানান ধর্মের, নানা ভাষার, নানা সংস্কৃতির পারস্পরিক মেলবন্ধনের এক অপূর্ব দৃষ্টান্ত। আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়াশীল বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে সহাবস্থান বিরাজ করবে। আমরা প্রত্যাশা রাখি, গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধসম্পন্ন আধুনিক চেতনার বীজ প্রস্ফূটিত হবে এই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের আনাচে-কানাচে।

প্রিয় বন্ধুগণ,
দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমানে প্রায় ৫ শতাধিক আদিবাসী শিক্ষার্থী জ্ঞান অর্জন করে চলেছে। একাডেমিক পড়াশুনার পাশাপাশি ক্যাম্পাসের যাবতীয় সহশিক্ষা কার্যক্রম, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা প্রভৃতি অঙ্গনে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের রয়েছে স্বতস্ফূর্ত সক্রিয় অংশগ্রহণ। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পড়তে আসা আদিবাসী শিক্ষার্থীদের রয়েছে স্বকীয় ভাষা-সংস্কৃতি, ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ। আমরা মনে করি স্বকীয় আদিবাসী সংস্কৃতি শুধুমাত্র আদিবাসীদের নয় বরং গোটা দেশেরই সম্পদ। আমরা চাই দেশের মূল ধারার সংস্কৃতির সাথে স্বকীয় আদিবাসী সংস্কৃতির পারষ্পরিক মেলবন্ধন ঘটুক। জেনে খুশি হবেন, ইতিমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যয়নরত আদিবাসী শিক্ষার্থীদের একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জুম সাহিত্য ও সংস্কৃতি সংসদ” (DUJLCS), টিএসসিভিত্তিক অপরাপর সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর মতোই সৃষ্টিশীল নানান সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছে। আমরা প্রত্যাশা রাখি,আদিবাসী শিক্ষার্থীদের সামাজিক-সাস্কৃতিক কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান বৃদ্ধি পাবে।
আমাদের প্রত্যাশা: –
১.আদিবাসী শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে যেন ডাকসুতে ন্যুনতম প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হয় তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা থাকবে।

২.ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আদিবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য ৫% শিক্ষা কোটা বাস্তবায়ন হবে।

৩.ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যয়নরত আদিবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক আবাসিক সিট সংরক্ষিত থাকবে, আদিবাসী নারী শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক আবাসিক সিট সংরক্ষিত থাকবে।

৪.আদিবাসী শিক্ষার্থীদের বিপুল অংশের হল সংযুক্তি থাকে জগন্নাথ হলে। তাই জগন্নাথ হলে নির্মিতব্য রবীন্দ্রভবনে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ সিট সংরক্ষিত থাকবে।

৫.বৈচিত্র্যময় আদিবাসী সংস্কৃতির সাথে মূলধারার সংস্কৃতির মেলবন্ধনের লক্ষ্যে সক্রিয় আদিবাসী শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক ও অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রম চর্চা করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে নির্দিষ্ট কক্ষ থাকবে।

৬.ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত আদিবাসী শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন শিক্ষা-সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত সহযোগীতা প্রদান করা হবে।

৭.ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের অধীনে আদিবাসী ভাষা ও সংস্কৃতি সংগ্রহশালা নির্মান করা। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় কেন্দ্রীয় লাইব্রেরী তে আদিবাসী বিষয়ক নানান জার্নাল ও পুস্তক সংরক্ষিত থাকবে।

৮.পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের প্রধানতম সামাজিক উৎসব (বিজু-সাংগ্রাই-বৈসুক-বিহু-বিষু) উপলক্ষে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে ঐচ্ছিক ছুটি-র ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যয়নরত সমতল অঞ্চলের আদিবাসীদের প্রধান সামাজিক উৎসবগুলো পালন করার জন্য ঐচ্ছিক ছুটির ব্যবস্থা থাকবে।

৯.অসচ্ছল আদিবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য ট্রাস্ট ফান্ড থাকবে এবং বৃত্তির ব্যবস্থা থাকবে।

আসন্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের পঠিত বক্তব্য।
২৪শে ফেব্রুয়ারি,২০১৯, মধুর ক্যান্টিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked with *

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক মন্তব্য