রাঙামাটিতে তিন দিন ব্যাপী পার্বত্য চট্টগ্রাম জুম সংস্কৃতি মেলা শুরু

রাঙামাটিতে তিন দিন ব্যাপী পার্বত্য চট্টগ্রাম জুম সংস্কৃতি মেলা শুরু

পার্বত্য চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন জুম ইসথেটিকস কাউন্সিলের (জাক) উদ্যোগে রোববার থেকে রাঙামাটিতে তিন দিন ব্যাপী পার্বত্য চট্টগ্রাম জুম সংস্কৃতি মেলা শুরু হয়েছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে দেশ বরেণ্যে নাট্যজন মামুনুর রশিদ আশা ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশ বহু মাত্রিক দেশ, বহু জাতির বসবাস। ৪০টি ভাষাভাষির ৪৫টির অধিক পাহাড়িদের বসবাস রয়েছে। তাদের সাংস্কৃতি ও শিক্ষাকে উপেক্ষা করে বহু মাত্রিক দেশ পাওয়া সম্ভব না। আজকে যে ১৫ তম পার্বত্য চট্টগ্রাম জুম সংস্কৃতি মেলা শুরু হচ্ছে তার মাধ্যমে নতুন করে এখানে নতুন দিগন্তের সৃষ্টি হবে, নতুন করে সংস্কৃতি চর্চার প্রেরণা যোগাবে।

তিনি আরও বলেন, পাহাড়িদের যে সংস্কৃতি রয়েছে তা বাড়াতে হবে, চিন্তাভাবনা করতে হবে। আমাদের দেশে সংস্কৃতি নিয়ে সবচেয়ে বাজেট কম। সমানে যে বাজেট আসছে তাতে সংস্কৃতি নিয়ে কয়েকগুন বাজেট বাড়াতে। সংস্কৃতি নিয়ে বাজেট যাতে সুষ্ঠভাবে বন্টন হয় এবং পাহাড়িরা সংস্কৃতি চর্চায় বাজেটের বিষয়ে নিশ্চিত করতে হবে।

বৈচিত্রময় সংস্কৃতির মেলায় দাড়াও জুম পাহাড় শ্লোগানকে সামনে রেখে রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট মাঠে ১৫ তম পার্বত্য চট্টগ্রাম জুম সংস্কৃতি মেলার উদ্ধোধন করেন বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী রনজিত দেওয়ান।আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন দেশ বরণ্যে নাট্যজন মামুনুর রশীদ। জুম ঈসথেটিকস কাউন্সিলের সভাপতি শিশির চাকমার সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনষ্টিটিউটের পরিচালক রুনেল চাকমা, খাগড়াছড়ি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনষ্টিটিউটের পরিচালক জীতেন চাকমা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মনোজ বাহাদুর গুর্খা, কবি মৃত্তিকা চাকমা। স্বাগত বক্তব্যে রাখেন জুম ঈসথেটিকস কাউন্সিলের সাধারন সম্পাদক রনেল চাকমা।

এর আগে ম্রো বাঁশি ও মারমা সম্প্রদায়ের মং, ঢোল বাজানোর সাথে সাথে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বালনের মধ্য দিয়ে তিন দিন ব্যাপী মেলার উদ্বোধন করা হয়। পরে জাকের শিশু শিল্পীরা উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করে।

অনুষ্ঠানে সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদানের জন্য কবি ও লেখক সুগত চাকমা, ক্যশৈপ্রু খোকা ও সংগীততে অমর শান্তি চাকমাকে সন্মাননা প্রদান করা হয়। সন্ধ্যায় মারমা ও তংচংগ্যা সাংস্কৃতিক দলের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতি অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

উল্লেখ্য, আগামী ১২ এপ্রিল থেকে তিন দিন ব্যাপী পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়িদের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী প্রধান সামাজিক উৎসব বিজু-সাংগ্রাইং-বৈসু-বিষু-বিহু-চাংক্রান উৎসব শুরু হবে।

সূত্র: হিলবিডি টোয়েন্টিফোর ডটকম

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked with *

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক মন্তব্য