নোয়াম চমস্কি : আদিবাসীরা ধরিত্রিকে পরিবেশের বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করছে

নোয়াম চমস্কি : আদিবাসীরা ধরিত্রিকে পরিবেশের বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করছে

আয়ারা সিমন
অনুবাদ: পাপেল চাকমা
১৯৫০ দশকে নোয়াম চমস্কির যুগান্তকারী বইয়ের পর্যালোচনায় বিশুদ্ধ ব্যাকরণে (জেনারেটিভ গ্রামারে) বিশ্ব ভাষা বিজ্ঞানের সূচনা করে; তবে বুদ্ধিজীবী এবং দার্শনিকরা সর্বদা রাজনীতি দ্বারা প্রভাবিত ছিল। রচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে এক সাক্ষাতকারে তিনি উল্লেখ করেন যে, তিনি তাঁর প্রথম রাজনৈতিক প্রবন্ধ চতুর্থ স্তর হিসেবে রচনা করেন কিন্তু গণমাধ্যম কেবলমাত্র ১৯৬৭ সালে তাঁর স্বাভাবিক প্রবণতা বা ঝোঁকগুলো বুঝতে সক্ষম হয়। ফলে গত বছর, যখন পুনঃপ্রতিষ্ঠিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-কিউবা সম্পকের্র মধ্য দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক অন্যান্য ল্যাটিন আমেরিকার রাষ্ট্রসমূহের প্রতি তার রাষ্ট্রনীতির পরিবর্তন কিনা জানার জন্য নয়া আন্তর্জাতিকতারা (নিউ ইন্টারন্যাশনালিস্ট) চেষ্টা চালায়, এবং এ বিষয়ে ইহা চমস্কির নিকট তাঁর ব্যাখ্যার জন্য দ্বারস্থ হয়।
তিনি বিশদভাবে বর্ণনা করেন যে, গত শতাব্দীতে বা তার কাছাকাছি সময়ে, ল্যাটিন আমেরিকার রাষ্ট্রসমূহ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন সাম্রাজ্যবাদী কর্তৃত্ব থেকে শৃঙ্খল মুক্ত হয়েছে এবং যেখানে সফলতা এবং বিফলতা রয়েছে। “তার একটা ফসল হলো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে আর ল্যাটিন আমেরিকা শাসন করার মত অবস্থানে নেই,” বলে তিনি উল্লেখ করেন। “উত্তর এবং দক্ষিণ আমেরিকার সম্মেলনগুলোতে তা সুস্পষ্টভাবে বোঝা যায়। আমি ১৯৪৫ সালের ফেব্রুয়ারির কনফারেন্সের কথা উল্লেখ করছি, যেখানে ল্যাটিন আমেরিকানরা যা বলেছিল তা তারা করেছিল। এ বিষয়ে কোনপ্রকার সন্দেহ ছিল না। ২০১২ সালে কলম্বিয়ার কার্টাজেনাতে উত্তর এবং দক্ষিণ আমেরিকার কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যে দেশটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এখনো কমবেশি মিত্রতা বজায় রেখে চলেছে। এই সম্মেলনে কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া সম্ভব হয়নি। এর অন্যতম কারণ ছিল সকল বিষয়ে অন্য সকল দেশ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডা সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন অবস্থানে ছিল।” অতএব যদিও কিউবাকে একঘরে অবস্থান থেকে সরিয়ে আনার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে কৃতিত্ব দেওয়া হয়, চমস্কি মনে করেন, প্রকৃতপক্ষে তার বিপরীত অবস্থানই অধিকতরভাবে যথাযথ এবং নির্ভুল।
তবে ‘বিপদজনক অঞ্চল সম্পর্কিত বৈশ্বিক নজরদারী’ (Global Witness’ on Dangerous Ground) এর প্রতিবেদনের তথ্য অনুসারে যেটি প্রত্যক্ষ করা যায় যে, পরিবেশবাদী কর্মীদের জন্য, বিশেষত যারা আদিবাসী তাদের জন্য ল্যাটিন আমেরিকা হচ্ছে সর্বাপেক্ষা বিপজ্জনক স্থান। ৩০ মিনিটের কথোপকথনের সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক বিষয়টি হচ্ছে যে, বিগত ১০ হতে ১৫ বছরে আদিবাসীদের প্রচেষ্টার কারণে চমস্কি ল্যাটিন আমেরিকার ভবিষ্যত সম্পর্কে সর্বাধিক পরিমাণে আশাবাদী।
বলিভিয়া এবং ইকুয়েডর-এর মতো বিশাল আদিবাসী জনসংখ্যা সম্পন্ন দেশগুলোতে এসব জনগোষ্ঠীসমূহ নির্দ্বিধায় নির্ভয়ে নিজেদের মতামত ব্যক্ত করেছে এবং এমনকি নির্বাচনকে প্রভাবিত করেছে। অপরপক্ষে এসব জনগোষ্ঠীসমূহকে আদিম মনে করা হলেও তারা ভবিষ্যতের জন্যে পথ প্রদর্শন করে চলেছে। “এটা সমগ্র বিশ্বের জন্য অগ্রগতির একটি বিশাল পদক্ষেপ” হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন। ইহা অবিশ্বাস্য যে, সারা বিশ্বজুড়ে বিপর্যয়ের হাত থেকে মানবজাতিকে বাঁচানোর জন্য যারা কর্মপ্রয়াস চালিয়ে আসছেন তারা হচ্ছেন আদিবাসীরা। আমি বোঝাতে চাইছি যে, যারা বিপর্যয়কর প্রস্তরের নীচে বসবাস করেন না তারা কেবল জানেন যে, অদূর ভবিষ্যতে আমরা একটি সম্ভাব্য পরিবেশের বিপর্যয়ের সম্মুখীন। সমগ্র বিশ্বব্যাপী একমাত্র আদিবাসীরাই রয়েছে যারা এ মহাপ্রলয় প্রতিরোধের সংগ্রামে লিপ্ত রয়েছে।
যেহেতু কাঠ, আকরিক এবং পাম-তেল এর মতো প্রাকৃতিক সম্পদের চাহিদা ক্রমবর্ধমান, তাই সেসব বৃহৎ কর্পোরেট কোম্পানীর বিরুদ্ধে সম্মুখ লড়াইয়ে আদিবাসীরাই লিপ্ত রয়েছে, যেসব কোম্পানীর রয়েছে অঢেল অর্থ ও ক্ষমতা, একই সাথে বিশাল নিরাপত্তা বাহিনী এবং ভাড়াটে খুনি দল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked with *

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক মন্তব্য