ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু নিপীড়নঃ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সংবাদ সম্মেলন

ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু নিপীড়নঃ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সংবাদ সম্মেলন

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,
মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিবাদন গ্রহণ করুন। আমাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আপনারা আজকের এ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়েছেন, তজ্জন্যে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।

প্রিয় ভায়েরা,
প্রতি বছর আমরা সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম এবং আমাদের সংগঠনের নিজস্ব সূত্রে যেসব তথ্য পাই তারই আলোকে ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর উপর সাম্প্রদায়িক সহিংসতার চালচিত্র তুলে ধরি। এরই ধারাবাহিকতায় বিগত ডিসেম্বর মাসের ৩০ তারিখ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থাকায় ২০১৮ সালের সাম্প্রদায়িক চালচিত্র আমরা তুলে ধরেছিলাম চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি। সেই সময়ে আমরা বলেছিলাম, পূর্ববর্তী বছরগুলোর তুলনায় সেবছর অর্থাৎ ২০১৮ সালে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার পরিস্থিতির খানিকটা উন্নতি ঘটেছে। ২০১৬ সালে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা যেখানে ছিল ১৪৭১টি, ২০১৭ সালে তা নেমে আসে ১০০৪-এ। আর ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ঘটনার সংখ্যা এসে দাঁড়ায় ৮০৬-তে। এর মধ্যে হত্যার শিকার হয়েছেন ৯০ জন, মরদেহ উদ্ধার হয়েছে ১৫ জনের (প্রাথমিকভাবে হত্যাকান্ড বলে প্রতীয়মান), কথিত ধর্ম অবমাননার অভিযোগে শাস্তি প্রদানের ঘটনা ঘটেছে ১০টি, , অপহরনের ঘটনা ৩৯টি, নিখোঁজের ঘটনা ১৮টি, ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনা ১৪টি, ধর্ষণের ঘটনা ৩২টি, গণধর্ষণের ঘটনা ১৬টি, যৌন হয়রানীর ঘটনা ২৬টি, প্রতিমা চুরির ঘটনা ১৪টি, মন্দিরে চুরি/ডাকাতির ঘটনা ৭টি, প্রতিমা ভাংচুর ১৬৯টি, মন্দিরে হামলা/ভাংচুর/অগ্নিসংযোগের ঘটনা ৫৮টি, শ্মশান/ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি দখলের ঘটনা ২১টি, দখলের অপপ্রয়াস ১১টি, বসতবাড়ি, জমিজমা দখল/উচ্ছেদের ঘটনা ১২২টি, দেশত্যাগের হুমকির ঘটনা ১১৫টি, বসতঘর/সম্পত্তি ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে হামলা/ভাংচুর/অগ্নিসংযোগ/লুটপাট/ডাকাতির ঘটনা ২৩৫টি, চাঁদাবাজীর ঘটনা ২০টি, হত্যার হুমকির ঘটনা ৩১টি, হত্যাচেষ্টার ঘটনা ২৩টি। শারীরিক হামলার শিকার হয়েছেন এ বছরে ৪৪৭ জন। দখলের/উচ্ছেদের অপতৎপরতায় ৫৮৮টি পরিবার/প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতারণাপূর্ণভাবে গো-মাংস ভক্ষণ করিয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার ঘটনা ৩টি।

প্রিয় বন্ধুগণ,
নির্বাচনোত্তর জানুয়ারি মাস থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত সাম্প্রদায়িক সহিংসতার যে চালচিত্র তা আমাদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। কেননা, এই চার মাসে হত্যার শিকার হয়েছে ২৩জন , মরদেহ উদ্ধার হয়েছে ৬জনের (প্রাথমিকভাবে হত্যাকান্ড বলে প্রতীয়মান), হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে ১০টি, হত্যার হুমকি পেয়েছে ১৭জন, শারীরিকভাবে আক্রান্ত হয়েছে ১৮৮জন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়ীঘরে লুটতরাজের ঘটনা ঘটেছে ৩১টি, চাঁদার দাবীর ঘটনা ঘটেছে ৭টি, বাড়ীঘর জমি-জমা থেকে উচ্ছেদ হয়েছে ১৬২জন, জবরদখলের প্রয়াসের ঘটনা ঘটেছে ৩৮টি, দেশত্যাগের হুমকি পেয়েছে ১৭জন, আক্রান্ত মঠ মন্দিরের সংখ্যা ২৯টি, ধর্মস্থানের সম্পদ লুন্ঠনের ঘটনা ঘটেছে ৯টি, বিগ্রহ চুরির ঘটনা ৬টি, জোর জবরদখলকৃত ধর্মস্থানের সংখ্যা ৬টি, ধর্মস্থান জবরদখলের ঘটনার অপপ্রয়াস ১০টি, বিগ্রহ ভাংচুরের ঘটনা ৪৩টি, গণধর্ষনের ঘটনা ৫টি, ধর্ষণের ঘটনা ৭টি, ধর্ষণের অপপ্রয়াস ১টি, যৌন হয়রানির ঘটনা ১০টি, ধর্ষণ ও উত্যক্তের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছেন ৩জন,নিখোঁজ ৩জন, অপহৃত হয়েছে ৬জন, অপহরনের প্রয়াসের ঘটনা ২টি, অপহরন করে জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরনের ঘটনা ১টি, জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরনের অপপ্রয়াস ২টি, ধর্মান্তরিত হয়েছেন ১০৪জন, কথিত ধর্ম অবমাননার অভিযোগ হয়েছে ৫জনের বিরুদ্ধে, প্রতারনাপূর্ণভাবে গো-মাংস ভক্ষন করিয়ে ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত হানার প্রয়াসের ঘটনা ঘটেছে ১টি, হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভুতিকে আঘাত হানার ঘটনা ঘটেছে ৫টি এবং অনুরূপ অন্যান্য ঘটনা ঘটেছে আরো ২০টি। ২০১৮ সালের গোটা বছরের চালচিত্রকে সামনে এনে নির্দ্বিধায় বলা যায়, সাম্প্রদায়িক সহিংসতার মাত্রা আগের তুলনায় অনেকটা বেড়েছে। কেননা, ২০০৮ সালের এক বছরে যেখানে সাম্প্রদায়িক সহিংসতাসংক্রান্ত ঘটনার সংখ্যা ছিল ৮০৬টি, সেখানে চলতি বছরের প্রথম চার মাসে ২৫০টি। তবে এ চিত্রটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র নয়। কারণ, আমাদের জানার বাইরেও আরো অনেক ঘটনা থাকতে পারে। অদ্যকার এই সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত এ চালচিত্রকে বিবেচনা নিয়ে সরকার, প্রশাসন ও আইনশৃংখলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষ সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের যে ঘোষণা তা বাস্তবায়ন করতে না পারলে সংখ্যালঘু পরিস্থিতি অধিকতর সঙ্কটপূর্ণ হবে বলে মনে করি। আমরা একই সাথে মনে করি, সরকারীদলের ভেতরের ও বাইরের সাম্প্রদায়িক অপশক্তি মেলবন্ধনের মধ্য দিয়ে সারা দেশে সম্ভাব্য জঙ্গী হামলার জন্যে সংখ্যালঘুদের উপর বিভিন্নমুখীন নির্যাতন চালিয়ে পরিবেশ তৈরিতে লিপ্ত রয়েছে। অর্পিত সম্পত্তির মামলায় স্বাক্ষর জাল করে সরকারী দলের সিরাজগঞ্জ- ৬ আসনের সাংসদ হাসিবুর রহমান স্বপনের ৩৫ শতক জমি আত্মসাতের ঘটনায় আদালতের দায়েরকৃত মামলা এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করতে চাই।

প্রিয় সাংবাদিক ভায়েরা ও বোনেরা,
আমরা নিরতিশয় উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি, পঞ্চগড় কারাগারে মিথ্যা মামলায় আটক রেখে এ্যাড. পলাশ কুমার রায়-কে গায়ে আগুন দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তুলনামূলক না হলেও বলতে চাই, ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকার কারাগারে ৪ জাতীয় নেতাকে হত্যার পর কারাভ্যন্তরে এ জাতীয় ঘটনা আর ঘটেছে কিনা আমাদের জানা নেই। এহেন নৃশংসতা মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লংঘন। মানবাধিকার কর্মী প্রিয়া সাহার পৈতৃক বাড়ী জ¦ালিয়ে দেয়া হয়েছে। জ¦ালিয়ে দেওয়ার পর এ বাড়ীতে আবারো হামলার ঘটনা ঘটেছে। অথচ, পুলিশ ও প্রশাসন দুর্বৃত্তদের নাগাল পাচ্ছে না।

প্রিয় বন্ধুগণ,
সাংবাদিক প্রবীর সিকদারের ঘটনা নিশ্চয়ই আপনাদের জানা আছে। ৭১-র মুক্তিযুদ্ধকালে তাঁর পিতা, দুই কাকা, এক মামা, বৃদ্ধ দাদু- এই ৬ জনকে তিনি হারিয়েছিলেন। স্বাধীনতাবিরোধী চক্র তাঁদের নির্মমভাবে হত্যা করেছিল। ২০০১ সালে স্বাধীনতাবিরোধী চক্র নিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় আসার প্রাক্কালে ২০০০-২০০১ সালে ‘সেই রাজাকার’ শিরোনামে তাঁর তথ্যবহুল সংবাদগুলো সেদিন সারা দেশকে রাজাকারবিরোধী চেতনায় উদ্ভাসিত করেছিল। এই সাহসী ভূমিকার কারণে ২০০১ সালে তাঁর উপর হামলা হলে তিনি এক পা হারিয়ে ফেলেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সেদিন তাঁর চিকিৎসায় মানবিকতার সাথে এগিয়ে আসেন। পা হারানোর পরেও এই সাংবাদিক তাঁর সাহসী ভূমিকা অব্যাহত রাখার কারণে গত ২০১৫ সালে তথ্য প্রযুক্তি আইনের এক মিথ্যা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিজ্ঞ সাংবাদিক বন্ধুরা, আপনারা সেদিন তার প্রতিবাদে উচ্চকিত হয়েছিলেন। আমরা আপনাদের সেই গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকাকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করতে চাই। আদালত যোগসাজসীভাবে তাঁকে ৩ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়া স্বত্বেত্ত মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে প্রবীর সিকদার পরদিন জামিনে মুক্তি পেয়ে নিজ বাড়ীতে ফিরে যান। সেই প্রবীর সিকদার ও তাঁর আত্মীয়-স্বজন অতি সম্প্রতি আবারো দুর্বৃত্তদের নামমুখী হামলা ও চক্রান্তের শিকার হয়েছেন। গত ৮ মে কানাইপুরের গণহত্যা দিবসের ৪৮ তম বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগদান করতে গেছেন ভেবে হেলমেট পরিহিত ২৫/৩০ জন সশস্ত্র দুর্বৃত্তের দল আবারো তাঁর খোঁজে তাঁর ভাই সুবীর সিকদারের ফরিদপুরের কানাইপুরের বাড়ীতে হামলা চালিয়ে কয়েক জায়গায় পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে চলে যায়। শুধু তা-ই নয়, গত ১৫ মে প্রবীর সিকদারের ভগ্নীপতি হবার কারণে সরকারী রাজেন্দ্র কলেজের অধ্যাপক তপন দেবনাথের বাসায় আক্রমন চালিয়ে দুর্বৃত্তের দল তাঁর প্রতিবন্ধি সন্তানসহ ঐ বাসার সকলকে বের করে দিয়ে এতে তালা লাগিয়ে সবাইকে ফরিদপুর ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য করে। ঐদিনই প্রভাবশালী মহলবিশেষের ছত্রচ্ছায়ায় আরেকটি দল প্রবীর সিকদারের শ্যালক গৌর সাহা, বলাই সাহা ও বন্ধু সাহার তিনটি দোকান বন্ধ করে দেয়। পরে তাদের বাড়ীতে হানা দিয়ে বন্ধু সাহার স্ত্রী ডলি সাহা, তাঁর সন্তান ও ভাগ্নেকে বাসে তুলে ঢাকায় পাঠিযে দেয়। সবক্ষেত্রেই দুর্বৃত্তের দল এই বলে শাসিয়েছে প্রবীর সিকদার চিরকালের জন্যে লেখালেখি বন্ধ করলে তবে-ই তারা ফরিদপুরে ফিরতে পারবে। আমরা প্রবীর সিকদার ও তাঁর পরিবারের উপর এ ধরণের হুমকি, হামলায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আমরা আরো জানতে পেরেছি, থানায় বা আদালতে এসব ঘটনা নিয়ে মামলা করতেও তাদের দেয়নি। সর্বশেষ গতকাল ১৮ মে প্রবীর সিকদারের ভাই সুবীর সিকদার ও কাকা নিমাই সিকদারকে সপরিবারে ফরিদপুর ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রবীর সিকদার ও তাঁর পরিবার এবং তাদের আত্মীয় স্বজন তাদের জীবন, সম্পদ ও ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীরভাবে আতংকিত ও শংকিত । আজকের এই সংবাদ সম্মেলন থেকে আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং এ ব্যাপারে সরকার ও প্রশাসনের ঊর্ধতন মহলের আশু দৃষ্টি কামনা করছি।

প্রিয় বন্ধুগণ,
আমরা আজকের এই সংবাদ সম্মেলন থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামে বিরাজিত অস্থির পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। গত জানুয়ারি থেকে মার্চ-এই তিন মাসের মধ্যে প্রাতৃঘাতী সংঘর্ষে পাহাড়ে ৬জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। শান্তিচুক্তির বাস্তবায়নে ও পার্বত্য ভূমিবিরোধ নিরসনে ধীর গতি থেকে উদ্ভুত হতাশা থেকে এহেন অস্থিরতা তৈরী হয়েছে বলে আমরা মনে করি। অন্যদিকে মনে করি, এহেন অস্থির পরিস্থিতি তৈরী করে ও তা জিইয়ে রেখে মহলবিশেষ পার্বত্যবাসীর মূলধারাকে নিঃশেষের প্রয়াস চালাচ্ছে। এহেন পরিস্থিতির আশু অবসানে আমরা সরকারের কাছে জোর দাবী জানাই।

প্রিয় ভায়েরা ও বোনেরা,
আমরা লক্ষ্য করছি, বিভিন্ন সামাজিক গণমাধ্যমে সাম্প্রদায়িক মহলবিশেষ তীব্র ধর্মীয় বিদ্বেষপূর্ণ সাম্প্রদায়িক উস্কানীমূলক বক্তব্য অব্যাহতভাবে প্রচার করে চলেছে। এসব বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তারা শুধু ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের ধর্ম সর্ম্পকে অহেতুক কটুক্তি, মিথ্যা ও কুষচিপূর্ণ প্রচারণায় চালাচ্ছে না, ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের ‘বিধর্মী, ও কাফের আখ্যা দিয়ে তাদের উপাসনালয়ে হামলা, বিগ্রহ ভাংচুর এমনকি দেশছাড়ার ও হত্যার হুমকি দিচ্ছে। আমরা সুস্পস্টভাবে বলতে চাই, এ সাম্প্রদায়িক মহল এদেশীয় ও আন্তর্জাতিক সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসী ও জঙ্গীবাদীদের মদদদাতা, পৃষ্ঠপোষক। তারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ক্ষুন্নে ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরীতে বিশেষভাবে তৎপর। তাদের দোসররা নানান কায়দায় হয় দারিদ্র্যতার সুযোগ নিয়ে নয়তোবা ভয়-ভীতি দেখিয়ে নিরাপত্তাহীন পরিস্থিতি তৈরী করে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে ধর্মান্তরিত করার অশুভ প্রক্রিয়াও নেমেছে যা ৭১-র কথা-ই স্মরণ করিয়ে দেয়। তাদের এহেন কর্মকান্ড বিশেষ ক্ষমতা আইন ও তথ্য প্রযুক্তি আইনে গুরুতর অপরাধের সামিল। এদের এহেন অপকর্ম অব্যাহত থাকা সত্বেও সরকারের নিস্ক্রিয় ও নিস্পৃহ ভূমিকায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আজকের এই সংবাদ সম্মেলন থেকে আমরা এহেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ক্ষুন্নকারীদের চিহ্নিত করে তাদের অনতিবিলম্বে বিচারের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করার জন্যে সকরারের কাছে জোর দাবী জানাচ্ছি।

প্রিয় সাংবাদিক ভায়েরা,
আজকের এই সংবাদ সম্মেলন থেকে পঞ্চগড় কারাগারে এ্যাডভোকেট পলাশ রায়ের হত্যা, সাংবাদিক প্রবীর সিকদারের খোঁজে তাঁর ফরিদপুরের বাসভবনে সশস্ত্র দুবর্ৃৃত্তদলের হামলা, মানবাধিকার কর্মী প্রিয়া সাহার পৈতৃক বাড়ী অগ্নিসংযোগে ধ্বংস, বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী সুলতান কামাল, শাহরিয়ার কবীর, মুনতাসীর মামুনের উপর হত্যার হুমকি এবং সাম্প্রদায়িকমহলবিশেষ কর্তৃক ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘুদের উপর পুণরায় হুমকি, হামলা অব্যাহত রাখার প্রতিবাদে এবং সামাজিক গনমাধ্যমে উস্কানীমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রিতি ক্ষুন্নকারীদের চিহ্নিত করে অনতিবিলম্বে তাদের গ্রেপ্তারের দাবিতে আগামী ২৫ মে সকাল ১১টায় সকল সংখ্যালঘু সংগঠনকে সমন্বিত করে সারা দেশে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচী ঘোষণা করছি। ঢাকায় এ কর্মসূচী পালিত হবে জাতীয় প্রেস ক্লাব চত্বরে সকাল সাড়ে দশটায়। ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘুদের জাতীয় সমন্বয় কমিটিভুক্ত ২৩ টি সংগঠন বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ, বাংলাদেশ খ্রিস্টান এ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু সমাজ সংস্কার সমিতি, বাংলাদেশ বুদ্ধিষ্ট ফেডারেশন, বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতি (জাতীয় কমিটি), জগন্নাথ হল এ্যালামনাই এ্যাসোসিয়েশন, হিউম্যান রাইটস কংগ্রেস ফর বাংলাদেশ মাইনোরিটি, বাংলাদেশ ঋষি পঞ্চায়েত ফোরাম, বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদ, শ্রীশ্রী ভোলানন্দগিরি আশ্রম ট্রাষ্ট, বাংলাদেশ হিন্দু লীগ, বাংলাদেশ মাইনোরিটিজ সংগ্রাম পরিষদ, স্বজন (সাংবাদিক সংগঠন), অনুভব(তফসিলি সম্প্রদায়), বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট, মাইনোরিটি রাইটস ফোরাম (বাংলাদেশ), ওয়ার্ল্ড হিন্দু ফেডারেশন, বাংলাদেশ চ্যাপ্টার, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ, বাংলাদেশ রবিদাস উন্নয়ন পরিষদ, বাংলাদেশ মতুয়া সংঘ (ওরাকান্দি), আন্তর্জাতিক রবিদাস উন্নয়ন পরিষদ ইত্যাদি কর্মসূচীর সাথে ইতোমধ্যে সংহতি জ্ঞাপন করেছে।
প্রিয় বন্ধুগণ,
দীর্ঘক্ষণ সময় ধরে আপনারা আমাদের বক্তব্য শুনেছেন। আপনারা আপনাদের ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে আমাদের এ বক্তব্য সরকার ও গোটা জাতির সামনে তুলে ধরবেন- এই আমাদের প্রত্যাশা। পবিত্র ঈদ-উল ফিতরের আগাম শুভেচ্ছ জানিয়ে আমার বক্তব্যের এখানেই সমাপ্তি টানছি।
…………………………
১৯ মে, ২০১৯ রবিবার, ভিআইপি লাউঞ্জ, জাতীয় প্রেস ক্লাব, ঢাকা

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked with *

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক মন্তব্য