আটককৃত জেএসএস নেতাদের মুক্তির দাবিতে ঢাকায় পিসিপি’র বিক্ষোভ সমাবেশ

আটককৃত জেএসএস নেতাদের মুক্তির দাবিতে ঢাকায় পিসিপি’র বিক্ষোভ সমাবেশ

সতেজ চাকমা: গত ২৫ মে রোজ শনিবার বান্দরবানে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কেএসমং মারমা ও বান্দরবান জেলা জেএসএসের সাধারন সম্পাদক এবং রোয়াংছড়ি উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ক্যাবামং মারমা সহ গ্রেফতারকৃত জেএসএস নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবীতে ঢাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ ঢাকা মহানগর শাখা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে সমাজবিজ্ঞান চত্বর ঘুরে কলাভবন প্রদক্ষিণ করে আবারো অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে গিয়ে সমাপ্ত হয়। পরে সেখানে সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি শুভদেব চাকমার সভাপতিত্বে এবং তথ্য প্রচার সম্পাদক ব্যাবিলন চাকমার পরিচালনায় একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে পিসিপি ঢাকা মহানগর শাখার সদস্য রমেল তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামকে সবসময় একটি ভীতিকর অবস্থার মধ্যে রাখার জন্য সেখানে সবসময় কোনো না কোনো সমস্যাকে জিইয়ে রাখা হয়। আর সে সমস্যাগুলোর অজুহাতে পাহাড়ের জুম্ম জনগণের অধিকারের লড়াইয়ে নেতৃত্বে থাকা জনসংহতি সমিতির নেতৃবৃন্দকে সবসময় টার্গেট করা হয়। যার ফলশ্রুতিতে বিগত ২৫ মে বান্দরবানে জেএসএসের কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কেএসমং মারমা এবং বান্দরবান জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক ক্যাবামং মারমা সহ অপরাপর নেতাকর্মীদের উপর মিথ্যা অভিযোগে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে গ্রেফতার করা হয়।তিনি গ্রেফতারকৃতনেতাকর্মীদের নি:শর্ত মুক্তির দাবী সহ অবিলম্বে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের দাবী জানান উক্ত সমাবেশ থেকে ।

সংহতি বক্তব্যে পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য সরল তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, বান্দরবানের আওয়ামীলীগ নেতা চাথুইমং মারমাকে কে বা কারা অপহরণ করে হত্যা করেছে তার দায় একতরফাভাবে কেন জনসংহতি সমিতির নেতৃবৃন্দের উপর চাপানো হবে।সাম্প্রতিক সময়ে বান্দরবান এবং পুরো পার্বত্য চট্টগ্রামে নির্মমভাবে জেএসএস নেতাকর্মীদের হত্যার পর তো কাউকে গ্রেফতার করতে আমরা দেখি নি। পাহাড়ের প্রশাসনকে তিনি দলকানা না হয়ে নিরপেক্ষ হওয়ার আহ্বান জানান এবং পাহাড় থেকে সেনা-শাসন তুলে নেওয়ার জোড় দাবী জানান । এছাড়া তিনি আওয়ামীগ নেতা চাথুইমং মারমার হত্যাকান্ডসহ অপরাপর জেএসএস নেতাকর্মীদের হত্যাকান্ড এবং সকল প্রকার সংঘটিত সহিংসতার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং বিচারের দাবী করেন।

বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারন সম্পাদক অলীক মৃ তার সংহতি বক্তব্যে বলেন, পাহাড়কে সবসময় একটি সমস্যার জালে আটকে রাখা হয়। আর সেই জালে জড়ানো হয় জনসংতি সমিতির নেতৃবৃন্দকে।একতরফাভাবে এই দায় চাপানো রাষ্ট্রের পরিহাস ছাড়া আর কিছু নয়।তিনি অবিলম্বে গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি দিয়ে পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি স্থাপনের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের জোড় দাবী জানান।

সভাপতির বক্তব্যে পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের ঢাকা মহানগর শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি শুবদেব চাকমা বলেন, আমাদেরকে বার বার কোথাও না কোথাও দাঁড়াতে হয় মিছিল নিয়ে। মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে জনসংহতি সমিতির নেতৃত্বকে ধ্বংস করার জন্য বারবার গ্রেফতার করে জেলে পুড়ানো হয়। কিন্তু পাহাড়ের জুম্ম জনগণের অধিকারের লড়াইয়ে নিয়োজিত অধিকারকর্মীরা আবারো প্রজ্বলিত হয় বলে দাবী করেন এই ছাত্র নেতা। তিনি গ্রেফতারকৃত জেএসএস এবং পিসিপি’র সকল নেতাকর্মীদের মুক্তি দেওয়ার জোড় দাবী করেন এবং অবিলম্বে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের দাবী করেন। অন্যথায় পাহাড়ে অনাগত দিনে কোনো অনাকাংখিত পরিস্তিতির দায় রাষ্ট্রকে নিতে হবে বলে হুশিয়ার করেন এই ছাত্র নেতা।তার সমাপনি বক্তব্যের মধ্য দিয়ে উক্ত সমাবেশটি শেষ হয়। এছাড়া উক্ত সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারন সম্পাদক ছাত্রনেতা সুলভ চাকমা প্রমুখ।

উল্লেখ্য, বিগত ২২ মে ২০১৯ ইং বাস্দরবান জেলার কুহালং ইউনিয়নের উজিমুখ হেডম্যারপাড়া থেকে বান্দরবান পৌরসভার সাবেক কমিশনার ও পৌর আওয়ামীলীগ সহ-সভাপতি চাথুই মং মারমাকে অজ্হাতনামা দুর্বৃত্তরা অপহরণ করে নিয়ে যায় এবং তাকে হত্যা করা করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২৫ মে ২০১৯ইং পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কে.এস.মং মারমা ও বান্দরবান জেলা জে.এস.এসের সাধারন সম্পাদক এবং রোয়াংছড়ি উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ক্যাবামং মারমা কে আলোচনার জন্য আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক অপরাহ্ন ২ ঘটিকায় আমন্ত্রণ জানিয়ে নিয়ে যাওযা হয়। ২ ঘন্টা কথাবার্তা বলার পর বিকাল ৪ ঘটিকার সময় বান্দরবান থানায় তাদেরকে সোপর্দ করা হয়। অপরদিকে, কোলক্ষ্যং মৌজার হেডম্যান তোয়াইহ্লা প্রু মারমা এবং জর্দান পাড়ার কার্বারী মংহ্লা ত্রিপুরাসহ আরো তিনজনকে আটক করে থানায় নেয়া হয়। তাদের সকলের বিরুদ্ধে পৌর আওয়ামীলীগ সহ-সভাপতি চাথুই মং মারমাকে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্ত কর্তৃক অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় জড়িত দেখানো হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked with *

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক মন্তব্য