“পার্বত্য চট্টগ্রামসহ আদিবাসীদের উন্নয়নে অগ্রাধিকার এবং জাতীয় বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দের’’ দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

“পার্বত্য চট্টগ্রামসহ আদিবাসীদের উন্নয়নে অগ্রাধিকার এবং জাতীয় বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দের’’ দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

জাতীয় সংসদে গত ১৩ জুন মাননীয় অর্থমন্ত্রী “সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ। সময় এখন আমাদের, সময় এখন বাংলাদেশের” শীর্ষক ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য যে প্রস্তাবিত বাজেট উত্থাপন করেছেন, সেখানে আদিবাসী, বঞ্চিত, অবহেলিত, পিছিয়েপড়াসহ সকল মানুষের আশা আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটবে বলে প্রত্যাশা করেছিলাম। মাননীয় অর্থমন্ত্রী এবার আগে থেকেই ঘোষণা দিয়েছিলেন, এবারের বাজেট হবে একটি স্মার্ট বাজেট। ২০১৮ সালের সুলিখিত একটি নির্বাচনী ইশতেহার নিয়ে আসা নতুন সরকার, অর্থ মন্ত্রণালয়ের নতুন নেতৃত্ব, দেশের উন্নয়নের গতিপ্রকৃতি এবং অবহেলিত আদিবাসী মানুষের প্রতি সরকারের অঙ্গীকার, সকল বিবেচনাতেই আগামী বছরের বাজেট নিয়ে মানুষের মধ্যে এক ধরনের আগ্রহ ছিল। আশা করেছিল, অন্তত এবার কোন গতানুগতিক বাজেট হবে না! কারণ বাজেট যেহেতু সরকারের একটি আয়-ব্যয়ের বার্ষিক পরিকল্পনা এবং সরকারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন রূপরেখা, তাই যদি এটি সুশৃঙ্খলভাবে না করা হয় বা কোন জনগোষ্ঠীকে বঞ্চিত করে করা হয় তাহলে সবসময়ই তার প্রকৃত কার্যকারিতা প্রশ্নের সম্মুখীন হবে।

ঐতিহাসিক কারণেই বাংলাদেশের আদিবাসীরা পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠী। বাজেটে আদিবাসীদের জন্য বরাদ্দ থাকলেও তা যথেষ্ট কিনা এই নিয়ে সচেতন মহলের মনে সংশয় থেকেই যায়। বাংলাদেশের প্রায় ৫৪ টি আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর ৩০ লক্ষাধিক পিছিয়ে পড়া আদিবাসী জনগণের জীবনমান উন্নয়নের জন্য বিগত বাজেটগুলোর কোনটিতেই পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়নি। বরং জাতীয় বাজেটে আদিবাসীরা বরাবরই অবহেলার শিকার হয়েছে। বিগত কয়েক বছরের বাজেট বক্তৃতায় আদিবাসীদের সম্পর্কে কোন স্পষ্ট বিবরণী, একটি আলাদা অনুচ্ছেদ/প্যারাগ্রাফ-এর উপস্থিতি ছিল না। এমনকি তাদের জনসংখ্যা অনুপাতে বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখা হয়নি। বাজেট প্রক্রিয়া ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আদিবাসীদের সরাসরি অংশগ্রহণও ছিল না। তাই, এবার অন্ততপক্ষে এ আশা ছিল যে, আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর ভাগ্য পরিবর্তনে সরকারের বিভিন্ন অঙ্গীকার, প্রতিজ্ঞা ও নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিফলন ঘটবে আগামী বাজেটে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সরকার ও ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বিভিন্ন সময়ে আদিবাসীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন অঙ্গীকার করেছেন, তার মধ্যে, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন, পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনকে শক্তিশালী করা, আদিবাসীদের প্রতি বৈষম্যমূলক সকল প্রকার আইন ও অন্যান্য অন্যায় ব্যবস্থার অবসান করা এবং সমতলের আদিবাসীদের জন্য একটি পৃথক ভূমি কমিশন গঠন করা ইত্যাদি অন্যতম। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক যে, প্রস্তাবিত বাজেটে এসব অঙ্গীকারগুলোর কোনটিই সুনির্ষ্টিভাবে গুরুত্ব পায়নি।

এবাবের প্রস্তাবিত বাজেট-এর প্রতিক্রিয়া
অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় বলেছেন, ‘দারিদ্র্য হার ৪০ শতাংশ থেকে কমে ২১ শতাংশে নেমে এসেছে। অতি দারিদ্র্যের হার ২৫ শতাংশ থেকে কমে ১১ শতাংশ হয়েছে।’ ‘দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় এখন বেড়ে ১,৯০৯ ডলার হয়েছে।’ কিন্তু আদিবাসীদের মাঝে দারিদ্যের হার সম্পর্কে কী সরকারের কাছে কোন বিভাজিত (ডিসএগ্রিগেটেট) তথ্য রয়েছে বা তাদের প্রকৃত মাথাপিছু আয় কত কিংবা তাদের মাঝে আসল দারিদ্যের হার কত এখন? এসব তথের‌্য উত্তরও বাজেট বক্তৃতায় থাকা উচিত ছিল। শুধুমাত্র গড়ের হিসাবে উন্নয়নকে পরিমাপ করা হলে আদিবাসীরা বঞ্চিতই থেকে যাবে, কখনই তাদের প্রকৃত বঞ্চনার তথ্য বেরিয়ে আসবে না। আমাদের ধারণা মতে, আদিবাসীদের মাঝে দারিদ্র্যের হার এখনো ৬৫% এর কম হবে না। তাই তাদেরকে বিশেষ বিবেচনা করে বাজেটে গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। আমাদের সকলের প্রত্যাশা, দেশের আদিবাসীদের আর্থ-সামাজিক অবস্থা-সহ তাদের সঠিক জনসংখ্যা ও জাতিসত্তার নির্ণয়ের করা। যা টেকসই উন্নয়নের অভীষ্ট পূরণে এবং সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে অতীব প্রয়োজন। কিন্তু এ উদ্যোগ গ্রহণের জন্য এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে কোন বরাদ্দ দেখছি ন।

আমরা বাজেট বক্তৃতায় জানতে পেলাম, ২০০৫-০৬ অর্থবছরের তুলনায় ৮ গুন বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট ধরা হয়েছে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। কিন্তু সে অনুযায়ী, আদিবাসীদের জন্য বরাদ্দ বাড়েনি। বরং গতবছরের তুলনায় এবার পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ কমানো হয়েছে। গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে এ মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ ছিল মোট ১,৩০৯ কোটি টাকা। কিন্তু এবার তার তুলনায় ১১৫ কোটি টাকা কমিয়ে রাখা হয়েছে ১,১৯৪ কোটি টাকা। যেখানে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের শত অঙ্গীকার থাকার পরও এষনও সে চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি। পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের কাজ এখনো ঠিকমতো এগোয়নি। এ অবস্থায় যেখানে বাজেট অন্যান্য বছরের তুলনায় এমনিতে বেশি হওয়ার কথা সেখানে উল্টো বাজেট কমানো কোন সঠিক সিদ্ধান্ত হতে পারে না। আর এদিকে সমতলের আদিবাসীদের জন্য আলাদা কোন সরাসরি বাজেট প্রক্রিয়া এবারও অনুপস্থিত।

বাজেট বক্তৃতায় আদিবাসী বিষয়ে স্পষ্ট বিবরণী, প্যারা বা অনুচ্ছেদ অনুপস্থিত
অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটটি দেশের সকল মানুষের জন্য। …………. ‘দেশের কৃষক, কামার কুমার, জেলে, তাঁতী, ব্যবসায়ী, বেদে, বিভিন্ন নৃগোষ্ঠী, হিজড়া, শিক্ষক, ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ারসহ সকল পেশার মানুষের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে এই বাজেট প্রস্তুত করা হয়েছে।’ কিন্তু আমরা লক্ষ্য করলাম, এবারের ১০০ পৃষ্ঠার বাজেট বক্তৃতায় বিগত বছরের মতো দেশের অবহেলিত ৩০ লক্ষাধিক আদিবাসীদের বিষয়ে কোন একটি প্যারা বা অনুচ্ছেদ বাজেট বক্তৃতায় রাখা হয়নি। যা আমাদের আবারও হতাশাগ্রস্ত করেছে। তবে, সাধুবাদ জানাই, বাজেট বক্তৃতায় এমন ঘোষণা দেয়ার জন্য যে, আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে তিনকোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বেকারত্বের অবসান ঘটানো হবে। বাজেট বক্তৃতায়, বিশেষ জনগোষ্ঠীর প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ১৮২.৭০ কোটি টাকা প্রস্তাব রাখা হয়েছে, সেখানে যেন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জন্যও ব্যয় করা হয় সে প্রত্যাশা থাকল।

‘নির্বাচনী ইশতেহার ২০১৮’-এর আদিবাসী বিষয়ে অঙ্গীকারের সাথে অসামঞ্জস্য
ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ এর নির্বাচনী ইশতেহার ২০১৮ এর ৩.২৯ অনুচ্ছেদে ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী, ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও অনুন্নত সম্প্রদায়ের জন্য লক্ষ্য ও পরিকল্পনা সম্পর্কে অঙ্গীকারে বলেছিলেন,
* অর্পিত সম্পত্তি সংশোধনী আইন দ্বারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকৃত স্বত্বাধিকারীদের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে।
* জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন করা হবে। সংখ্যলঘু বিশেষ সুরুক্ষা আইন প্রণয়ন করা হবে।
* সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জমি, জলাধার ও বন এলাকায় অধিকার সংরক্ষণের জন বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণসহ ভূমি কমিশনের কার্যক্রম অব্যাত থাকবে। অনগ্রসর ও অনুন্নত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, দলিত ও চা-বাগান শ্রমিকদের সন্তানদের শিক্ষা ও চাকরির ক্ষেত্রে বিশেষ কোটা এবং সুযোগ-সুবিধা অব্যহত থাকবে।
* সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতি বৈষম্যমলক সকল প্রকার আইন ও অন্যান্য অন্যায় ব্যবস্থার অবসান করা হবে।
* ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের অধিকারের স্বীকৃতিএবং তাদের ভাষা, সাহিত্য সংস্কৃতি ও জীবনধারার স্বাতন্ত্র্য সংরক্ষণ ও তাদের সুষম উন্নয়নের জন্য অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হবে।
নির্বাচনী ইশতেহার এদেশের আদিবাসীসহ সকল মানুষের জন্য লেখা একটি সুচিন্তিত ও সুলিখিত প্রতিজ্ঞার দলিল। কিন্তু আমরা নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখিত আদিবাসী বিষয়ে অঙ্গীকারগুলো বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেয়ার মতো অর্থ বরাদ্দ উক্ত প্রস্তাবিত বাজেটে দেখতে পাইনি।

আদিবাসী বিষয়ে ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা (২০১৬-২০) বাস্তবায়নের রূপ এ বাজেটে অনিশ্চিত
৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় (২০১৬-২০) বলা হয়েছে, সরকার ‘আদিবাসী অধিকার বিষয়ক জাতিসংঘ ঘোষণাপত্র ২০০৭’ বাস্তবায়নের বিষয়টি বিবেচনা করবে এবং ‘আদিবাসী ও ট্রাইবাল জাতিগোষ্ঠী বিষয়ক আইএলও কনভেনশন নং ১৬৯’ রেটিফাই করবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি সম্পর্কে ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, “সরকার ১৯৯৭ সালে সম্পাদিত সিএইচটি শান্তি চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবে। পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নে সহায়তাদানের জন্য সিএইচটি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, সিএইচটি আঞ্চলিক কাউন্সিল ও তিনটি পার্বত্য জেলা কাউন্সিলকে শক্তিশালী করা হবে। শান্তিচুক্তির বিধান অনুযায়ী এইচডিসিগুলোর কাছ বাকি বিষয়/বিভাগ পুরোপুরি হস্তান্তরের কাজ সম্পন্ন করা হবে এবং এভাবে এই কাউন্সিলগুলোকে অর্থসম্পদ বরাদ্দসহ প্রশাসনিক, আর্থিক এবং উন্নয়ন তহবিল দিয়ে শক্তিশালী করা হবে।”

ভূমি অধিকার সম্পর্কে বলা হয়েছে, “ভূমিতে অধিকার নিশ্চিত করতে ২০০১ সালের সংশোধিত ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি আইন অনুসরণ করে ভূমি কমিশনের উদ্যোগে পার্বত্য অঞ্চলের ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি করা হবে। পার্বত্য অঞ্চলে কমিউনিটির মালিকানায় ভূমি প্রথাকে মর্যাদা দান করা হবে। শান্তি চুক্তির বিধান অনুযায়ী মূল অংশীজনদের সাথে পরামর্শক্রমে ভূমি জরিপ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। নৃ-তাত্ত্বিক সম্প্রদায় সংশ্লিষ্ট ভূমি বিরোধ মোকাবেলার উপযোগী একটি যথোপযুক্ত ভূমি নীতি প্রণয়ন করা হবে। একটি স্থায়ী ভূমিস্বত্ব ব্যবস্থা চালু করা হবে।”

৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের শেষ অর্থবছরের বাজেট এটি। সরকারের পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিগত বছরের মতো এবারও আদিবাসীদের উন্নয়নের জন্য সুলিখিত অঙ্গীকারগুলো বাস্তবায়নে প্রস্তাবিত বাজেটে সুনির্দিষ্ট কোন বরাদ্দ ধরা হয়নি। যার ফলে, আদিবাসীদের জন্য দেয়া প্রতিশ্রুতিগুলো এ অর্থবছরেও বাস্তবায়নের মুখ দেখবে না! আমরা মনে করি, একটি জনগোষ্ঠীকে শুধু আশার আলো দেখিয়ে বাস্তবায়নের উদ্যোগ না নিলে পরিকল্পনার সুষম প্রতিফলন কখনোই ঘটবে না।

সমতল আদিবাসীদের জন্য একটি পৃথক ভূমি কমিশন গঠনে বরাদ্দ অনুপস্থিত
সমতলের বিশ লক্ষাধিক আদিবাসী জনগোষ্ঠী বরাবরই উন্নয়ন বাজেটে অবহেলিত ও বঞ্চিত থাকে। তাদের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় গঠন এবং মন্ত্রণালয় বা খাতভিত্তিক বাজেট প্রণয়ণের দাবি করে আসছে আদিবাসীরা দীর্ঘদিন ধরে। ২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহার থেকে শুরু করে ২০১৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারেও ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ সরকার সমতলের আদিবাসীদের জন্য একটি পৃথক ভূমি কমিশন গঠনের অঙ্গীকার করে আসছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক যে, কোনবারই এ উদ্যোগ গ্রহণে বরাদ্দ রাখা হয় নি। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি।

সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীতে আদিবাসীদের অন্তর্ভূক্তিকরণ কতটুকু?
আগামী বছরের জন্য সামাজিক সুরক্ষায় বাজেট ধরা হয়েছে ৭৪,৩৬৭ কোটি টাকা। যা বাজেটের ১৪.২১ শতাংশ এবং জিডিপির ২.৫৮ শতাংশ। গত বাজেটের চেয়ে এটি ১০,১৯০ কোটি টাকা বেশি। খুবই দুঃখজনক যে, বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা (পার্বত্য চট্টগ্রাম ব্যতীত)-র জন্য থোক বরাদ্দ ৫০ কোটি টাকা ছাড়া সামাজিক সুরক্ষায় আদিবাসীদের জন্য সুনির্দিষ্ট কোন বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে না। তবে সামগ্রিকভাবে সামাজিক সুরক্ষার এই বরাদ্দ বৃদ্ধি যদি অবহেলিত ও প্রান্তিক মানুষের অবস্থার উন্নতির লক্ষ্য হয় তাহলে এখানে অবশ্যই আদিবাসীদের জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধি করা উচিত এবং আরো প্রকল্প গ্রহণ করা দরকার। আর আদিবাসীদের জন্য যতটুকু বরাদ্দই থাকুক না কেন সেখানে যেন তাদের সরাসরি অংশগ্রহণে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নীতি থাকে যেন বাজেটের অপচয় রোধ হয় এবং অপব্যবহার বন্ধ হয়। সামাজিক সুরক্ষা বাজেটের প্রায় ২০ শতাংশ টাকা অপচয় হয়। তা রোধ করা দরকার। সমতলের সহজ সরল আদিবাসীরা আমলাতন্ত্রের জটিলতার মধ্যে কতটুকু সামজিক সেবা লাভ করতে পেরেছে, তা সত্যিই ভাবার বিষয়। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচী; ভিজিএফ, ভিজিডি, এফএফই, কাবিখা, কাবিটা ইত্যাদি বড় বাজেটগুলোতে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভূক্তি খুবই কম। টিআইবি-এর একটি গবেষণায় ওঠে এসেছে, একটি বয়স্ক ভাতার কার্ড পেতে নিয়মবহির্ভূতভাবে ৫০০-৫,০০০ টাকা, প্রতিবন্ধী ভাতা পেতে ১,০০০-৫,০০০ টাকা, বিধবা ভাতা পেতে ৫০০-২,০০০ টাকা, মাতৃত্বকালীন ভাতা পেতে ৫০০-৪,০০০ টাকা, ভিজিএফ/ভিজিডি ১,০০০-২,০০০ টাকা, গৃহ নির্মাণে ৬,০০০-২০,০০০ টাকা আদিবাসীদের কাছ থেকে উত্তোলন করা হয় । আদিবাসীরা অধিকাংশই প্রান্তিক ও গরীব। তাদের কাছে এই নিয়মবহির্ভূতভাবে দেয়ার মতো অর্থ ও লবিং ক্ষমতা থাকে না বলে এ সেবা থেকে তারা প্রায়শই বঞ্চিত হয়। শুধু তাই নয় তাদের জন্য সুনির্দিষ্টভাবে দেয়া বরাদ্দ “বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা (পার্বত্য চট্টগ্রাম ব্যতীত)” বাস্তবায়নেও উপজেলা পর্যায়ে নানা অনিয়ম, নিয়মবহির্ভূতভাবে অর্থ আদায় ইত্যাদি অভিযোগ পাওয়া যায়।

আদিবাসী জনগোষ্ঠী
বাংলাদেশের আদিবাসীরা সমতলে ও পাহাড়ে বাস করে। সমতলে সাওতাল, ওঁরাও, মুন্ডা, মাহাতো, পাহাড়িয়া, মালো, পাহান, রাজবংশী, রাজোয়ার, কর্মকার, তেলি, খাসি, পাত্র, মণিপুরী, গারো, ত্রিপুরা, হাজং, কোচ, বানাই, রাজবংশী, ডালু, বর্মণ, হোদি, রাখাইন প্রভৃতি জনগোষ্ঠী বাস করে। অপরদিকে রাঙ্গামাটি, বান্দরবন ও খাগড়াছড়ি এই তিন পার্বত্য জেলায় চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চংগ্যা, ম্রো, লুসাই, খিয়াং, খুমি, চাক, পাংখোয়া, বম, সাঁওতাল, রাখাইন, অসমিয়া জাতিগোষ্ঠী বাস করে। আদিবাসী ফোরাম ও কাপেং ফাউন্ডেশনের মতে, এদেশে ৫৪টির মতো আদিবাসী জাতিগোষ্ঠী রয়েছে, যার জনসংখ্যা ৩০ লক্ষাধিক। কিন্তু সরকারি হিসেবে বাংলাদেশের মোট আদিবাসী জনসংখ্যা ১৫ কোটি ৫৮ লাখ । যদিও, তখন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন-২০১০-এ মাত্র ২৭ টি জাতিসত্তার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। কিন্তু এ আইনের ২০১৯ সালে ৫০ টি জাতিগোষ্ঠী অন্তর্ভূক্ত করে নতুন তফসিল যুক্ত হয়েছে। তাদের জনসংখ্যা হিসেব করা হলে এখন সরকারিভাবেই আদিবাসীদের জনসংখ্যা বেড়ে যাবে।

আদিবাসীরা এই দেশের অন্যতম গরিব ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। দেশে দারিদ্রের হার ২১ শতাংশ বলা হলেও আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে এ হার প্রায় তিন গুণ, ৬০ শতাংশের ওপরে। রাঙামাটি আর বান্দরবানে দারিদ্র্যের হার যথাক্রমে ৬৪ শতাংশ এবং ৬৩.২ শতাংশ, সমতলের আদিবাসী অধ্যুষিত জেলা দিনাজপুরে এই হার ৬৪.৩ শতাংশ। আদিবাসীদের গড় আয় জাতীয় গড় থেকে কম। পাহাড়ের আদিবাসীদের ক্ষেত্রে ২৬ শতাংশ কম, সমতলের আদিবাসীদের ক্ষেত্রে ৪১ শতাংশ কম। সমতলের দুই-তৃতীয়াংশ আদিবাসী কার্যত ভূমিহীন। সমতলের আদিবাসীদের মতো পাহাড়ের আদিবাসীরাও আর্থসামাজিক বঞ্চনার শিকার; তারা নানারকম মানবাধিকার লঙ্ঘনেরও শিকার। সরকারি ও বেসরকারিভাবে তাদের জীবন মান উন্নয়নে কিছু পদক্ষেপ গৃহীত হলেও তা যথেষ্ট নয়।

সমতলের আদিবাসীদের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে (২০১৯-২০ অর্থবছরে) কী বরাদ্দ আছে?
প্রকৃতপক্ষে, সমতলের আদিবাসীদের জন্য সরাসরি কোন বাজেট বরাদ্দ নেই। তবে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে “সমতল ভূমিতে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে ‘বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা (পার্বত্য চট্টগ্রাম ব্যতীত)” কর্মসূচীর আওতায় তাঁদের জন্য ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। সেটি ১ ০কোটি টাকা বাড়িয়ে আগামী অর্থ বছরের জন্য বরা হয়েছে ৫০ কোটি টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এ-ক্ষেত্রে দেয়া বরাদ্দের তুলনায় বরাদ্দ এবার ১০ কোটি টাকা বাড়লেও এ-ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় লক্ষ্যণীয়ঃ
* যদিও নমিনাল টাকার অঙ্কে বরাদ্দ উত্তরোত্তর বেড়েছে – মূল্যস্ফীতি বিচারে আসলে তা বাড়েনি;
* প্রতি বছর জাতীয় বাজেট বৃদ্ধির হারের চেয়ে এ বরাদ্দ বৃদ্ধির হার কম; এবং
* এ কর্মসূচিতে যে থোক বরাদ্দ দেয়া হয় তা নিতান্তই কম। হিসেব কষলে সমতলের একজন আদিবাসীর ভাগে পড়ে বছরে মাত্র ২৫০ টাকা।

সমতলের আদিবাসীদের জন্য বরাদ্দকৃত বাজেটের পরিমাণ (গত ১০ বছরে) নিম্নরূপঃ
সূত্রঃ গৃহীত উন্নয়ন কর্মসূচির এডিপি বরাদ্দের সংক্ষিপ্তসার
দুঃখজনক ব্যাপার হলো, এই থোক বরাদ্দের অর্থ বাস্তবায়নে সমতল আদিবাসীদের কোন অংশগ্রহন বা ক্ষমতা নেই। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন মূখ্য সচিবের অধীনে সংশ্লিষ্ট উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সমতলের আদিবাসীদের মধ্যে উন্নয়ন মূলক প্রকল্পের অর্থ বন্টন করেন।
আবার সমতলের জন্য বরাদ্দ-এর বন্টন প্রক্রিয়ার মধ্যেও রয়েছে নানা জটিলতা। আদিবাসীদের জন্য বরাদ্দকৃত এই প্রকল্পের মধ্যে অন্যান্য জনগণকেও বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ফলে প্রকৃত আদিবাসী উপকারভোগী জনগণের সংখ্যা ক্রমেই কমে যাচ্ছে। একদিকে যেমন অর্থ বরাদ্দের পরিমাণ আদিবাসী জনসংখ্যা অনুযায়ী খুবই কম আবার অন্যদিকে, প্রতি বছর সবগুলো উপজেলার আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে একসাথে নির্দিষ্ট পরিমাণ এ বরাদ্দ প্রদান করা হয় না। তাই কোনো কোনো উপজেলার আদিবাসীদের এ সহায়তা থেকে বঞ্চিত হতে হয়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সমতলের আদিবাসীদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে ‘বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা’ নামে থোক বরাদ্দ ছিল ৩০ কোটি টাকা। এ টাকার অর্ধেক অর্থাৎ ১৫ কোটি টাকা দেশের ৮ টি বিভাগের ১২০ টি উপজেলায় আদিবাসীদের আয়বর্ধন প্রকল্প/শিক্ষা বৃত্তি ও অন্যান্য খাতে খরচের জন্য বিভাজন করা হয়। ঐ বছরের বাজেটে দেখা যায়, কতগুলো উপজেলা রয়েছে যেখানে আদিবাসী অধ্যুষিত কিন্তু বাজেট নেই। আবার আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকা নয় কিন্তু বরাদ্দ ২০ লক্ষ টাকার ওপর। যেমন ময়মনসিংহ বিভাগের দুর্গাপুর, ধোবাউড়া ও নালিতাবাড়ী উপজেলাগুলো আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকা হয়েও কোন বাজেট হয়নি আবার নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলায় মাত্র ১৫ পরিবারের মতো আদিবাসী রয়েছে কিন্তু এ উপজেলায় বাজেট ২১.৮৯ লক্ষ টাকা। এরকম আরো অসম বন্টন ও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়। যা রোধ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। তা’না হলে এ তুচ্ছ বরাদ্দের সুফল হতেও আদিবাসীরা বঞ্চিত হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সভাপতি করে এবং উপজেলার বিভিন্ন সরকারী কর্মকর্তা, ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয় কয়েকজন আদিবাসী প্রতিনিধিসহ একটি বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করে এ অর্থ বন্টনের কাজ করা হয়। সমতলের আদিবাসী জনগণ এখনও ভালোভাবে এ অর্থ বরাদ্দের সুষ্ঠু বন্টন প্রক্রিয়ার সর্ম্পকে অবগত নয়। আবার কোনো কোনো জায়গায় এ অর্থ বন্টনে স্বচ্ছতা নিয়েও নানান প্রশ্ন ওঠেছে। অর্থ বন্টনের এই বিষয়টিতে স্বভাবতই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে তাই প্রশ্ন থেকেই যায়। সমতলের আদিবাসীদের বরাদ্দকৃত অথের্র সুষ্ঠু ব্যবহার এবং আদিবাসীদের উন্নয়নের মূল প্রকৃতভাবে নিয়ে আসার জন্য প্রয়োজন তাই সমতল আদিবাসীদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয়।

পার্বত্য আদিবাসীদের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে (২০১৯-২০ অর্থবছরে) কী আছে?
প্রতিবছর বাজেটের আকার বাড়লেও এবার সকলকে হতাশ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে গতবছরের তুলনায় বরাদ্দ ১১৫ কোটি টাকা কমানো হয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দ ছিল Ñ উন্নয়ন ও পরিচালন মিলিয়ে Ñ ১,৩০৯ কোটি টাকা, যা আগের বছর থেকে ১২.১৫ শতাংশ বেশী। আমরা লক্ষ্য করলাম, এ মন্ত্রণালয়ে বাজেটের আকার ধারাবাহিকভাবে বিগত বছরগুলোতে বাড়লেও এবার তার ব্যতিক্রম ঘটেছে। গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে এ মন্ত্রণালয়ের জন বরাদ্দ ছিল ১,৩০৯ কোটি টাকা। কিন্তু এবার তার তুলনায় ১১৫ কোটি টাকা কমিয়ে রাখা হয়েছে ১,১৯৪ কোটি টাকা। উল্লেখ্য যে, এ বাজেটের পরিচালন খাতে ধরা হয়েছে ৩৫৩ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন খাতে ধরা হয়েছে ৮৪১ কোটি টাকা। অর্থাৎ বাজেটে পরিচালন খাতে বরাদ্দ ঠিকই গত বছরের ৩২০ কোটি টাকা থেকে ৩৫৩ কোটি টাকাতে বৃদ্ধি পেয়েছে কিন্তু উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ গতবছরের ৯৮৯ কোাট টাকা তুলনায় কমিয়ে ৮৪১ কোটি টাকা রাখা হয়েছে। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বরে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে সম্পাদিত ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি’ অনুযায়ী তার পরবর্তী বৎসরে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ প্রতিষ্ঠা হয়। এই মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের ৩টি জেলার আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন কর্মকান্ডের সমন্বয় সাধন এবং এই অঞ্চলের জনসাধারণের সাংস্কৃতিক উন্নয়নসহ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের যথাযথ ব্যবস্থাদি গ্রহণের কথা রয়েছে। যেখানে ১৪টি আদিবাসী জাতিসত্তার ১০ লক্ষাধিক মানুষসহ তার প্রায় সমপরিমাণ বাঙালি জনগণ সেখানে বসবাস করছে। প্রয়োজন অপেক্ষা কম অর্থ বরাদ্দ এবং আদিবাসীদের মূল সমস্যা সমাধানে নির্দিষ্ট বরাদ্দ না থাকায় পাহাড়ি আদিবাসীদের ভাগ্য পরিবর্তন হচ্ছে না। বিগত বছরের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বাজেট সারণীতে পর্যায়ক্রমে লক্ষ্য করলে বোঝা যাবে, বাজেট বৃদ্ধির হার কত মন্থর। প্রস্তাবিত বাজেটে (২০১৯-২০২০) সালে জাতীয় বাজেটের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। সেখানে পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ের বাজেটে বরাদ্দ ধরা হয়েছে মাত্র ১,১৯৪ কোটি টাকা। বাজেটের আকার বাড়ছে প্রতি বছর, যার ব্যয় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও খাতওয়ারী হয়ে থাকে। এটি সহজবোধ্য যে, মূল বাজেট হতে আদিবাসীদের উন্নয়নে সরাসরি বরাদ্দ পাওয়া অসম্ভব ব্যাপার। পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের জন্য উন্নয়ন ব্যয় বরাদ্দ এবং বাস্তবায়নের জন্য ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ রয়েছে। এই মন্ত্রণালয়ের বাজেট অপ্রতুল। পার্বত্য চট্টগ্রামের বাসিন্দা আদিবাসী ও বাঙালিদের জন্য উন্নয়নমূলক বরাদ্দ মূলত সরকারের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দেওয়া হয়। সুতরাং, বরাদ্দকৃত অর্থ শুধু আদিবাসীদের উন্নয়নের জন্যে ব্যবহৃত হয় না এখানে অন্য খরচও রয়েছে তা মাথায় রেখে বরাদ্দ বাড়ানো উচিত ছিল।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দকৃত বাজেটের পরিমাণ (বিগত ১০ বছরে) নিম্নরূপঃ
বাজেট বরাদ্দে সরকারের নীতি ও চুক্তির বাস্তব প্রতিফলন প্রয়োজন
পঞ্চবার্ষিক (৫ম ও ৬ষ্ঠ) পরিকল্পনায় সরকার আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সামগ্রিক উন্নয়নের কর্মসূচী প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন কথা উল্লেখ করলেও জাতীয় বাজেটে তার প্রতিফলন হয়নি। টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট এজেন্ডা ২০৩০ বাস্তবায়ন এবং বাংলাদেশের আদিবাসী জাতিগোষ্ঠী বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের অধিকার ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সম্পর্কিত বেশকিছু রাষ্ট্রীয় নীতি বা আইন যেমন- পূর্ব বঙ্গীয় প্রজাসত্ব আইন- ১৯৫০, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি ১৯৯৭, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন ১৯৯৮, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলা পরিষদ আইন ১৯৮৯, পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি-বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন ২০০১, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন ২০১০ ইত্যাদি রয়েছে। এ নীতিসমূহের প্রকৃত বাস্তবায়নের জন্য বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ থাকা প্রয়োজন।

২০১৯-২০ অর্থবছরে বরাদ্দ কতো হওয়া উচিত?
আগামী অর্থবছরের (২০১৯-২০) প্রস্তাবিত বাজেট ধরা হয়েছে ৫ লক্ষ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। যেখানে উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ২,১১,৬৮৩ কোটি টাকা। এদেশে আদিবাসীর সংখ্যা ৩০ লক্ষ ধরা হলে আদিবাসীদের জনসংখ্যা অনুযায়ী বরাদ্দ হওয়ার কথা ৪ হাজার ২৩৩ কোটি টাকা। কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে আদিবাসীদের জন্য বরাদ্দ রয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন বাজেট ৮৪১ কোটি টাকা এবং সমতলে থোক বরাদ্দ ৫০ কোটি টাকা মোট ৮৯১ কোটি টাকা। যা একেবারেই অপ্রতুল ও অসম্মানজনক। তেমনিভাবে, গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রায় ১ লাখ ৭৯ হাজার ৬৬৯ কোটি ৩৬ লক্ষ ৩০ হাজার টাকার উন্নয়ন বাজেটে আদিবাসী মানুষের জন্য বরাদ্দ হবার কথা ছিল ৩ হাজার ৫৯৩ কোটি ৩৮ লাখ ৭২ হাজার ৬০০ টাকা। কিন্তু তা হয়নি। এটি জনসংখ্যা অনুযায়ী অংকের হিসাব। যেহেতু আদিবাসীরা ঐতিহাসিকভাবেই শোষণ, বৈষম্য ও মানবসৃষ্ট দারিদ্র্য ও বঞ্চনার শিকার, তাই আদিবাসীদের মাথাপিছু বরাদ্দ, জাতীয় উন্নয়ন বরাদ্দের মাথাপিছুর তুলনায় অন্তত ৩ গুন বেশি হওয়া উচিত। যেহেতু টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের (এসডিজি) দর্শনানুযায়ী কাউকে পিছনে রাখা যাবে না, তাই আদিবাসী মানুষকে মূলধারারসাথে একই কাতারে আনতে হলে তাদের জন্য সমপরিমাণ বরাদ্দ দিলে হবে না। ‘ইতিবাচক বৈষম্য’ (চড়ংরঃরাব উরংপৎরসরহধঃরড়হ) নীতির আওতায় তাদেরকে অন্তত ৩ গুন বেশি বরাদ্দ দিতে হবে।

সমতলের আদিবাসীদের জন্য চলমান ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে যা নেই, অথচ থাকা জরুরি
১. আদিবাসীদের মাতৃভাষায় প্রাথমিক স্তরের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আলাদা বরাদ্দ নেই।
২. উচ্চশিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষায় বৃত্তিসহ আদিবাসী নারী ও তরুণদের আতœ-কর্মসংস্থানের জন্য আলাদা কোনো বরাদ্দ নেই।
৩. আদিবাসীদের সাংস্কৃতিক একাডেমীগুলোর গবেষণা ও উন্নয়নের জন্য আলাদা কোনো বরাদ্দ নেই।
৪. সমতলের আদিবাসীদের জন্য, পাহাড়ের আদিবাসীদের মতো, কোনো ভূমি কমিশন নেই।
৫. সমতলের আদিবাসীদের জন্য মানব-উন্নয়ন উদ্দিষ্ট শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নারীর ক্ষমতায়ন সংশ্লিষ্ট খাতসমূহে বরাদ্দ কত তা কেউই জানেন না।

পার্বত্য আদিবাসীদের জন্য যা নেই ২০১৯-২০ সালের প্রস্তাবিত বাজেটে, অথচ থাকা জরুরি
১. পার্বত্য চট্টগ্রামের মূল সমস্যা সমাধানে যেখানে অর্থ বেশি প্রয়োজন সেখানে পর্যাপ্ত বরাদ্দ নেই Ñ পার্বত্য চুক্তির ২০ বছর অতিবাহিত হয়ে গেলেও এ চুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে সরকারের বারবার অঙ্গীকার সত্ত্বেও পর্যাপ্ত বরাদ্দ জাতীয় বাজেটে রাখা হয় না।
২. পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি-বিরোধ নি®পত্তি কমিশন ২০০১-এর যথাযথ বাস্তবায়ন ও এ আইনের ফলে গঠিত ভূমি কমিশনের কাজ ত্বরান্বিত করার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে বরাদ্দ নেই।
৩. পার্বত্য চুক্তির ফলে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ গঠিত হলেও এটি শক্তিশালীকরণে পর্যাপ্ত বরাদ্দ জাতীয় বাজেটে রাখা হয় না।
৪. জুম্ম শরণার্থী ও অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু পুনর্বাসনের জন্য টাস্কফোর্স গঠিত হলেও এই প্রতিষ্ঠানের জন্য ও পুনর্বাসন বাবদ আর্থিক বরাদ্দ নেই।
৫. পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী জনগোষ্টীর জন্য মানব উন্নয়ন উদ্দীষ্ট শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নারীর ক্ষমতায়ন সংশ্লিষ্ট খাতসমূহে বরাদ্দের পরিমাণ কেউই জানেন না

ক. আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জন্য ‘সাধারণ’ সুপারিশমালা
১. জাতীয় বাজেট বক্তৃতায় আদিবাসী বিষয়ে ¯পষ্ট বিবরণী থাকতে হবে। আদিবাসী জনগণের সঠিক সংখ্যা নিরূপণ এবং সংখ্যার ভিত্তিতে আদিবাসীদের বাজেট বৃদ্ধি করতে হবে।
২. ‘আদিবাসী জনগোষ্ঠী’র জন্য বাজেটে সংশ্লিষ্ট সকল খাত-উপখাত ভিত্তিক লাইন আইটেমসহ বরাদ্দ দেখাতে হবে; এবং তা ‘পার্বত্য’ ও ‘সমতল’ এর আদিবাসীদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন দেখাতে হবে।
৩. আদিবাসী সাংস্কৃতিক একাডেমিগুলোতে আদিবাসী সংস্কৃতি উন্নয়নে বরাদ্দ বৃদ্ধি করতে হবে। নাচ-গানের পাশাপাশি এ একাডেমিগুলোতে আদিবাসীদের সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ও গবেষণার জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখতে হবে।
৪. সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী ও সামাজিক ক্ষমতায়নের বাজেট খাতে আদিবাসীদের উন্নয়নে নির্দিষ্ট প্রকল্প/কার্যক্রম হাতে নিতে হবে এবং নিরাপত্তা বেষ্টনীর অন্যান্য কার্যক্রমেও তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণে নির্দেশনা থাকতে হবে।
৫. উচ্চশিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষায় বৃত্তিসহ আদিবাসী নারী ও তরুণদের আতœ-কর্মসংস্থানের জন্য বাজেট বরাদ্দ থাকতে হবে।
৬. আদিবাসীদের মাতৃভাষায় প্রাথমিক স্তরের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য জাতীয় বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখতে হবে।
৭. সকল মন্ত্রণালয়ের/বিভাগের বাজেটে আদিবাসীদের জন্য সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ রাখা এবং বরাদ্দের সুষ্ঠু বাস্তবায়নে আদিবাসীদের সম্পৃত্ত করতে হবে, এ বিষয়ে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।
৮. বাজেটে পিছিয়ে পড়া বা প্রান্তিক শব্দের সাথে আদিবাসী যুক্ত করতে হবে; আদিবাসীদের জন্য আলাদা অনুচ্ছেদ যুক্ত করতে হবে।
৯. আদিবাসী কৃষক ও উদ্যেক্তাদের ব্যাংক ঋণ সুবিধা প্রদানকল্পে বিশেষ বাজেট বরাদ্দ রাখতে হবে।
১০. বর্তমানে গ্রামাঞ্চলে ৩৬৫ দিনের মধ্যে ১২২ দিন কাজ করতে পারে আদিবাসীরা, বেকার থাকে বাকি সময়; এই সময় তাদের কর্মসংস্থানের জন্য বাজেটে বরাদ্দ রাখতে হবে।
১১. আদিবাসীদের দক্ষ মানবস¤পদ হিসেবে তৈরি করার জন্য কারিগরি শিক্ষায় বাজেট বাড়াতে হবে।
১২. আদিবাসীদের উৎপাদিত পন্যের জন্য গ্রোথ সেন্টার করতে হবে।
১৩. মানব সম্পদ উন্নয়ন উদ্দিষ্ট শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নারীর ক্ষমতায়ন সংশ্লিষ্ট বাজেট বরাদ্দ আলাদাভাবে দেখাতে হবে।
১৪. আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জন্য আসন্ন ২০১৯-২০ অর্থবছরে উন্নয়ন বরাদ্দ হওয়া উচিত ১২ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা।

ক.১ সমতলের আদিবাসীদের জন্য ‘বিশেষ’ সুপারিশমালা
১. সাধারণত বাজেট বরাদ্দ হয় মন্ত্রণালয় ভিত্তিক। সংখ্যাগরিষ্ঠ আদিবাসীর বাস সমতলে। সমতলের আদিবাসীদের বিষয়টি দেখার জন্য এখনও কোন মন্ত্রণালয় বা বিভাগ নেই। তাই, সমতলের আদিবাসীদের জন্য একটি পৃথক মন্ত্রণালয় গঠন করতে হবে।
২. দেশের বিভিন্ন বনাঞ্চলে বিশেষ করে টাঙ্গাইল এবং ময়মনসিংহ জেলার বনে বসবাসকারী আদিবাসীদের ভূমি ও নাগরিক অধিকার এবং তাদের উন্নয়নে বিশেষ বাজেট বরাদ্দের প্রয়োজন।
৩. পাহাড়ের আদিবাসীদের মতো সমতলের আদিবাসীদের জন্যও ভিন্ন ভূমি কমিশন গঠন করতে হবে।
৪. সমতলের আদিবাসীদের জন্য আলাদা বাজেট করতে হবে।
৫. আদিবাসী শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে বরাদ্দ বাড়াতে হবে।

ক.২ পার্বত্য আদিবাসীদের জন্য ‘বিশেষ’ সুপারিশমালা
১. পার্বত্য আদিবাসীদের অধিকার ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন স¤পর্কিত বেশকিছু রাষ্ট্রীয় নীতি বা আইন যেমন- পূর্ববঙ্গীয় রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন- ১৯৫০, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি ১৯৯৭, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন ১৯৯৮, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলা পরিষদ আইন ১৯৮৯, পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি-বিরোধ নি®পত্তি কমিশন আইন ২০০১, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন ২০১০ ইত্যাদি রয়েছে। এ নীতিসমূহের বাস্তবায়নের জন্য জাতীয় বাজেটে পর্যাপ্ত পরিমাণে অর্থ বরাদ্দ রাখা উচিত।
২. পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও পার্বত্য জেলা পরিষদসমূহের সুশাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা শক্তিশালীকরণে পর্যাপ্ত বাজেট রাখতে হবে।
৩. জুম্ম শরণার্থী ও অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু পুনর্বাসনের জন্য টাস্কফোর্স ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে জাতীয় বাজেটে পর্যাপ্ত আর্থিক বরাদ্দ রাখতে হবে।
৪. আদিবাসীদের পানি ব্যবস্থাপনার জন্য বিশেষ ভর্তুকি বা বরাদ্দ রাখতে হবে।

দেশের একটি জনগোষ্ঠীকে উপেক্ষা করে এই রকম বাজেটের আকার বড় করলেও করলেও দেশের সুষম উন্নয়ন সম্ভব নয়। দেশের ৩০ লক্ষাধিক আদিবাসী মানুষের অবস্থার পরিবর্তন নিয়ে আসার জন্য বাজেটে যে ধরনের প্রয়াস থাকা প্রযোজন ছিল, উক্ত প্রস্তাবিত বাজেটে না অনুপস্থিত। তাই এ ধরনের বাজেটের মাধ্যমে সকলকে নিয়ে টেকসই উন্নয়নের অভীষ্ট পূরণ করা সম্ভব নয়।

গ. আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সংশোধনী আনতে আমাদের দাবি
আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে যেহেতু উত্থাপন হয়ে গেছে। আগামী ৩০ জুন এটি পাশ হবে। উত্থাপিত বাজেটের সংশোধন বা বরাদ্দের হেরফের ইতিহাসে আমরা খুবই কম দেখেছি। প্রস্তাবিত বাজেটের বড় কোন পরিবর্তনের নজির ইতিহাসে নেই। তাই এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে আদিবাসী বিষয়ে নি¤œ সুপারিশগুলো বিবেচনা করে সংশোধনী নিয়ে আসার দাবি জানাচ্ছি।

১. পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে সিএইচটি’-এর আদিবাসীদের জন্য প্রস্তাবিত উন্নয়ন বরাদ্দ বাড়িয়ে কমপক্ষে ২,৫০০ কোটি টাকা করতে হবে।
২. আগামী অর্থবছরে (২০১৯-২০) সমতলের আদিবাসীদের জন্য উন্নয়ন বরাদ্দ কমপক্ষে ১,৫০০ কোটি টাকা বৃদ্ধি করা এবং সমতলের আদিবাসীদের বিষয়টি দেখার জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি আলাদা অধিদপ্তর গঠন করতে হবে ।

……………………………………………..
বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম # অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি) # কাপেং ফাউন্ডেশন, ২০ জুন ২০১৯, তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হল, জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকা।
,

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked with *

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক মন্তব্য