ঢাবির ক্যাম্পাসে দৃপ্ত পদচারণা অপ্রতিরোধ্য চিবলের: ডাকসুর একমাত্র আদিবাসী সদস্য

ঢাবির ক্যাম্পাসে দৃপ্ত পদচারণা অপ্রতিরোধ্য চিবলের: ডাকসুর একমাত্র  আদিবাসী সদস্য

সতেজ চাকমা: যোশীয় সাংমা চিবল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে যার সরব পদচারণা। হুইল চেয়ারের মধ্যে সীমাবদ্ধ জীবনের সমস্ত প্রতিবন্ধকতাকে পেছনে ফেলে চিবল যেন ঢাবির ক্যাম্পাসে দীর্ঘ ২৯ বছরের অচলায়তন ভেঙে যে ডাকসু তার প্রাণ ফিরে পেয়েছে তার মাঝে তিনিই একমাত্র অপ্রতিরোধ্য আদিবাসী ছাত্র প্রতিনিধি। টিএসসি থেকে শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যিনি ঘুরছেন সবসময় আর হ্যান্ডসেক করে বা নানাভাবে কুশল বিনিময় করছেন বাঙালি ও আদিবাসী সকল ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে। মাঝে সাজে টিএসসির সবুজ চত্বর,পায়রা চত্বর কিংবা করিডোরে তার দেখা মেলে একখানা ইউকোলেলে হাতে নিয়ে। তিনি গান করেন। একই সাথে বাজানও । অসাধারণ তার গান।

তিনি বাংলাদেশের বৃহৎ আদিবাসী গারো জাতির মানুষ। জন্ম ময়মনসিংহের গারো পাহাড়ের কাছে ধোবাউড়া উপজেলার ধাইরপাড়া গ্রামে। বাবা ফণীন্দ্র সাংমা, মা বটিকা সাংমা। শারিরীক প্রতিবন্ধকতাকে মেনে নিয়ে সামনে এগোনোর সংগ্রামে সবসময় সাথে রয়েছেন মামা সোহাগ রিছিল। ২৯ বছরের অচলায়তন ভেঙে বিগত ১১ মার্চ ২০১৯ ইং নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রাণ ফিরে পাওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদে ৪০ হাজার শিক্ষার্থীর ২৫ জন ছাত্র প্রতিনিধি’র একজন তিনি। ডাকসুর এক নম্বর সদস্য এবং সদস্যদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোট (১২ হাজার ৮৬৮ ভোট) পেয়ে বিজয়ী এই ছাত্রনেতা। সবচেয়ে বড় কথা প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত বাংলাদেশ সৃষ্টির মূল কারিগর এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়–য়া মূল ¯্রােত ধারার বাঙালি ছাত্র-ছাত্রীদের পাশাপাশি ভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির অধিকারী দুই শতাধিক আদিবাসী শিক্ষার্থীর একমাত্র প্রতিনিধি এই চিবল সাংমা। ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে সংস্কৃত বিভাগে ভর্তি হন এই শিক্ষার্থী। এই রাষ্ট্রকাঠামোর মধ্যে নানা নিপীড়ন ও নির্যাতনের ভিড়ে নিজস্ব সংস্কৃতির মাধ্যমে স্বকীয় পরিমন্ডলে বিকশিত হতে থাকা আদিবাসীদের নিয়ে ভানার ভিড়ে তিনি গান ধরেন।গারো পাহাড়ের ঘন সবুজকে নিয়ে মন ভোলানো সুরে গান ধরেন-

আইয়ামো গিসিক রা’আতা
আবরি সিমডিম ঘিপা ও
আনসেমহ বিয়া রোনা আচিক আসঙ ও
অর্থাৎ, আমার মন আটকে যায়
ওই ঘন সবুজ পাহাড়ে
ভালো লাগে ঘুরতে ঐ গারো পাহাড়ে

ডাকসুতে প্রতিনিধিত্বকারী এই আদিবাসী ছাত্র প্রতিনিধি আদিবাসী শিক্ষার্থীদের নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পসে তাঁর প্রত্যাশার কথা জানিয়ে বলেন, ”ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়–য়া বাঙালি শিক্ষার্থী ব্যতীত ভিন্ন ভাষা-ভাষী ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অধিকারী আদিবাসী শিক্ষার্থীদের নিয়ে টিএসসি ভিত্তিক একটি সামষ্টিক আদিবাসী সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করে বাঙালি সংস্কৃতির সাথে সমৃদ্ধ আদিবাসী সংস্কৃতিকে ঢাবি’র ক্যাম্পাসে তুলে ধরে সৌহার্দের মেলবন্ধন সৃষ্টি করা এবং অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় সামিল হওয়া।” শারিরীক নানা প্রতিবন্ধতাকে পেছনে ফেলে এতসব স্বপ্নের ভিড়ে ঢাবির ক্যাম্পাসে চিবল পদচারণা করছেন দৃপ্ত পায়ে।এই স্বপ্নই আদিবাসীদের মূল প্রাণ, বেঁচে থাকার রসদ।

শুধু চিবল নয় রোকেয়া হল ছাত্র সংসদে অভ্যন্তরীণ ক্রীড়া সম্পাদক হিসাবে আদিবাসী নারী শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব করছেন কমলা মারমা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked with *

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক মন্তব্য