অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ এদেশের সমাজ প্রগতির অন্যতম পথিকৃৎ

অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ এদেশের সমাজ প্রগতির  অন্যতম পথিকৃৎ

২৭ সেপ্টেম্বর পল্টনের মৈত্রী মিলনায়তনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র উদ্যোগে মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের উপদেষ্টা, ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়ন বিশেষ গেরিলা বাহিনীর অন্যতম সংগঠক, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)-এর সভাপতি অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ-এর শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের সভাপতিত্বে শোকসভায় বক্তব্য রাখেন সিপিবি’র উপদেষ্টা মনজুরুল আহসান খান, বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু, ন্যাপের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন, ঐক্য ন্যাপের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাড. এস এম সবুর, সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য লক্ষ্মী চক্রবর্তী, সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স। সভা পরিচালনা করেন প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন।

সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি পর্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনি ১৯৫৭ সালের ৩ এপ্রিল পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের জন্য আইন পরিষদে প্রস্তাব উত্থাপন করেন। কমরেড সেলিম বলেন, ষাটের দশকে চীন-সোভিয়েত বিভক্তির সময় তিনি দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করেন এবং বামপন্থী আন্দোলনের বৃহত্তম অংশকে মুক্তিযুদ্ধের ধারায় সম্পৃক্ত রাখার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনি বলেন, অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ এদেশের সমাজ প্রগতির আন্দোলনর অন্যতম পথিকৃৎ। তিনি বর্তমান বাস্তবতায় সমাজ পরিবর্তনের আন্দোলনকে গতিশীল করার জন্য ন্যাপের বিভিন্ন অংশের ঐক্য কামনা করেন।

সিপিবি’র উপদেষ্টা মনজুরুল আহসান খান বলেন, অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ বিশ্বজনমতকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে আনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তারই উদ্যোগে ন্যাপ-সিপিবি-ছাত্র ইউনিয়ন গেরিলা বাহিনী গড়ে উঠে। তিনি বলেন মুক্তিযুদ্ধের পর দেশ গড়ার জন্য অধ্যাপক মোজাফফর জাতীয় সরকার গঠন ও জাতীয় ঐক্য গড়ার আহ্বান জানান। তিনি অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বাম জোটের সমন্বয়ক মোশাররফ হোসেন নান্নু বলেন, অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে একটি যুগের অবসান হয়েছে। তিনি তাঁর জীবনকে বিলীন করে দিয়েছিলেন গণমানুষের মুক্তির লক্ষ্যে। তিনি সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে আমৃত্যু লড়াই চালিয়ে গেছেন।

ন্যাপের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন বলেন, অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান সংগঠক। তাঁর প্রচেষ্টায় সোভিয়েত ইউনিয়ন ও পূর্ব ইউরোপীয় সমাজতান্ত্রিক দেশসমূহ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকে সমর্থন দিয়েছিল। সোভিয়েত ইউনিয়ন সরকার জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল।

গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ ছিলেন গণমানুষের নেতা। তিনি বাংলাদেশের সমাজ বাস্তবতায় সচেতনভাবেই ধর্ম-কর্ম-সমাজতন্ত্রের কথা বলেছিলেন।

ঐক্য ন্যাপের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাড. এস এম সবুর বলেন, অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ ছিলেন নেতাদের নেতা। তিনি সারা জীবন ব্যয় করেছেন একটি প্রগতিশীল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য।

শোকসভার শুরুতে শোকসঙ্গীত পরিবেশন করে উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked with *

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক মন্তব্য