দীঘিনালায় শহীদ ভরদ্বাজ মুনি চাকমার আত্মবলিদানের ২৭তম বার্ষিকী পালন

দীঘিনালায় শহীদ ভরদ্বাজ মুনি চাকমার আত্মবলিদানের ২৭তম বার্ষিকী পালন

পার্বত্য চট্টগ্রামে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রথম শহীদ ভরদ্বাজ মুনি চাকমার আত্মবলিদানের ২৭তম বার্ষিকী পালিত হয়েছে।

আজ ১৩ অক্টোবর ২০১৯, রবিবার বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ(পিসিপি)-এর দীঘিনালা উপজেলা শাখার উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

“শহীদের রক্ত গণতান্ত্রিক আন্দোলনের চেতনার প্রতীক” এই শ্লোগানে আজ সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে ভরদ্বাজ মুনি চাকমা’র স্মরণে নির্মিত অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শহীদ পরিবারের পক্ষে কৃপা বালা চাকমা, দয়া মোহন চাকমা, সমলেন্দু চাকমা, ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর পক্ষ থেকে রিয়েল চা্কমা, বিটু চাকমা এবং পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, হিল উইমেন্স ফেডারেশন ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের নেতৃবৃন্দ।

পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে শহীদ ভরদ্বাজ মুনিসহ অধিকার আদায়ের আন্দোলনে সকল শহীদের প্রতি সম্মান জানিয়ে ১ মিনিট নিরবতা পালনের পর স্মৃতিস্তম্ভের সামনে এক স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।

স্মরণসভায় পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের দীঘিনালা উপজেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মিঠুন চাকমার সভাপতিত্বে ও তথ্য প্রচার সম্পাদক নীল রতন চাকমার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, ইউপিডিএফ-এর দীঘিনালা উপজেলা সংগঠক ইয়ান চাকমা ও রিয়েল চাকমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের উপজেলা শাখার সহ সভাপতি রিটেন চাকমা, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সদস্য টনক চাকমা ও হিল উইমেন্স ফেডারেশনের দীঘিনালা শাখার সদস্য হিটো চাকমা প্রমুখ।

সভায় বক্তারা বলেন, ভরদ্বাজ মুনিকে হত্যার মধ্য দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমনে শাসকগোষ্ঠীর যে চক্রান্ত তা আজো অব্যাহত রয়েছে। নিপীড়ন-নির্যাতন আগের চেয়ে আরো বৃদ্ধি করা হয়েছে। মিছিল-মিটিং, সভা-সমাবেশে বাধা প্রদানের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পথ রুদ্ধ করে জনগণের মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।

বক্তারা আরো বলেন, যে আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ভরদ্বাজ মুনি আত্মবলিদান দিয়েছেন তা এখনো পূরণ হয়নি। পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি বেদখল, নারী নির্যাতন অব্যাহত রয়েছে। পাহাড়ি জনগণের জীবন বিপন্ন করে দেয়ার লক্ষ্যে কখনো সন্ত্রাসী সাজিয়ে গ্রেপ্তার, কখনো অস্ত্র উদ্ধার ও বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে খুন, গুম করা হচ্ছে । অন্যায় ধরপাকড়, ঘরবাড়িতে তল্লাসি নিত্যকার ঘটনায় পরিণত হয়েছে। তাই বাঁচার তাগিদে জাতির বৃহত্তর স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করার আহ্বান জানান বক্তারা।

বক্তারা শহীদ ভরদ্বাজ মুনির আত্মবলিদানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে অধিকার আদায়ের লড়াই জোরদার করার জন্য ছাত্র সমাজসহ সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালের ১৩ অক্টোবর দীঘিনালায় আহুত ছাত্র ও গণসমাবেশে অংশগ্রহণ করতে গেলে সেনা সৃষ্ট দুর্বৃত্ত ও সেটলারদের নৃশংস হামলায় শহীদ হন ৭০ বছরের বৃদ্ধ ভরদ্বাজ মুনি চাকমা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked with *

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক মন্তব্য