কমরেড অজয় রায়ের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণ সভা

কমরেড অজয় রায়ের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণ সভা

সতেজ চাকমা: সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং বাংলাদেশের বাম আন্দোলনের অন্যতম নেতা লেখক এবং কলামিষ্ট অজয় রায়ের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ। এ উপলক্ষ্যে জঙ্গিবাদ বিরোধী মঞ্চ খ্যাত সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের উদ্যোগে রাজধানীর পাবলিক লাইব্রেরীর মিলনায়তনে স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সভাপতি জিয়াউদ্দীন তারেক আলী। স্মরণ সভায় অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাবেক মন্ত্রী এবং ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে অজয় রায়ের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। তাঁর মত নির্লোভ রাজনীতিবিদ এবং মানবিক মানুষের অনুকরণীয় সকলের অনুস্মরণীয় বলেও উল্লেখ করেন এই সাংসদ।

জনসংহতি সমিতির শ্রদ্ধা নিবেদন

ঐক্য ন্যাপের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইসহাক এ. সবুর তাঁর বক্তব্যে বলেন, আমরা গুনী মানুষদের উজ্জ্বলতম দিনগুলোর সাফল্যগুলিকে স্মরণ করি। তাঁদের চেতনাকে ধারণ করে রেখে যাওয়া অসমাপ্ত কাজগুলোকে সমাপ্ত করার ঐতিহাসিক দায়কে কাঁধে তুলে নেওয়ার প্রয়াস চালানো হয়। অজয় রায়ের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্তির জন্য সবাইকে অসাম্প্রদায়িক মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
এছাড়া উক্ত অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের অন্যতম ট্রাস্টি ডা: সরোয়ার আলী। তিনি বলেন, আমার সকালবেলার ঘুম ভাঙত অজয় দা’র উদিগ্ন কন্ঠে। কখনো নাসিরনগর কখনো রামুর ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কিছু করার উদ্যোগ নিতেন অজয় দা বলে স্মৃতিচারণ করেন এই বিশিষ্ট ব্যক্তি। ছাত্র রাজনীতির পর যৌবনে কমিউনিষ্ট পার্টির রাজনীতির সাথে যুক্ত থেকে বৃদ্ধ বয়সেও অজয় রায় সর্বদা মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বাংলাদেশ জাসদের সাধারন সম্পাদক সাবেক সাংসদ নাজমুল হক প্রধান বলেন, অজয় দা বয়সের ভারে নুয়েও অনেক কাজ করতে পারতেন। কাজের প্রতি অসাধারণ নিষ্ঠা এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসা ছিল তার সম্বল।

বাংলাদেশ কমিউনিষ্ট পার্টির সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স তাঁর বক্তব্যে বলেন, তাঁর (অজয় রায়) সাথে নানা তর্ক ও বিতর্কের মধ্যেও তাঁর মধ্যে যা দেখেছি তাঁর ভেতর ছিল ‘মানুষ’ এবং সকলকে নিয়ে দেশকে এগিয়ে যাওয়ার প্রয়াস। ব্যক্তিস¦ার্থ তাঁর জীবনে ছিল না বলেও জানান এই বাম নেতা।

এছাড়া অজয় রায়ের দীর্ঘদিনের জীবন সঙ্গী তাঁর স্ত্রী জয়ন্তি রায় স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্যে বলেন, অজয় রায় টাকা জমিয়ে গরিবদের সহায়তা করতেন। সকল দলের মানুষকে তিনি বাসায় নিয়ে এসে সবাইকে নিয়ে কাজ করার প্রয়াস চালাতেন তিনি।

উক্ত আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সদস্য সভাপতি অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ তালুকদার, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারন সম্পাদক ডা. শাহদাৎ হোসেন, মনিসিংহ স্মৃতি ট্রাস্টের শেখর দত্ত । এছাড়া উক্ত স্মরণ আয়োজনে বিভিন্ন প্রগতিশীল রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা এই বরেন্য ব্যক্তিকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সভাপতি জিয়াউদ্দীন তারেক আলীর সমাপনি বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শেষ হওয়া উক্ত স্মরণ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় স্টাফ সদস্য অনন্ত বিকাশ ধামায়, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সাবেক সভানেত্রী নারী নেত্রী চঞ্চনা চাকমা সহ বাংলাদেশ কমিউনিষ্ট পার্টি , ঐক্য ন্যাপ, জাসদ, বাসদ সহ বিভিন্ন প্রগতিশীল রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked with *

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক মন্তব্য