হকারদের পেটে লাটি মারবেন নাঃ পঙ্কজ ভট্টাচার্য

হকারদের পেটে লাটি মারবেন নাঃ পঙ্কজ ভট্টাচার্য

আজ ২৯ অক্টোবর, মঙ্গলবার, সকাল ১১টায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররম লিংক রোডে মহানগরীর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যনার ফেস্টুনসহ কয়েক হাজার হকার জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে। মিছিলটি জিপিও থেকে স্টেডিয়াম ১নং ও ২নং গেট-সার্জেন্ট আহাদ পুলিশ বক্স-গুলিস্তান-ফ্লাইওভার-গোলাপশাহ মাজার-জিরোপয়েন্ট-পল্টন মোড় দিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে উপস্থিত হয়ে সমাবেশ করে। পল্টন মোড় থেকে কদম ফোয়ারা পর্যন্ত পুরো রাস্তায় হকাররা বসে পড়ে।

হকার ব্যবস্থাপনার জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নের দাবিতে এবং পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আব্দুল হাশিম কবীর। বক্তব্য রাখেন ঐক্য ন্যাপের সভাপতি, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের অন্যতম নেতা বর্ষীয়ান জননেতা পঙ্কজ ভট্টচার্য, হকার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার হায়াত, কার্যকরি সভাপতি মুর্শিকুল ইসলাম শিমুল, সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় নেতা রফিক তালুকদার, নাসির হোসেন, আক্তার হোসেন, মো. রনি, মানবাধিকার কর্মী অ্যাড. মুনাজ সুলতানা মুন্নী প্রমুখ।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রবীণ রাজনীতিবিদ পঙ্কজ ভট্টচার্য্য বলেন, হকাররা রাজনীতি করে না, পেটনীতি করে। প্রধানমন্ত্রী, পুলিশ-প্রশাসন হকারদের গায়ে হাত দিবেন না সেই অধিকার আপনাদের নেই। হকারদের পেটে লাথি মারলে বাধবে লড়াই এবং পরিস্থিতির জন্য সরকার ও প্রশাসনকে দায়-দায়িত্ব নিতে হবে।

তিনি আরো বলেন, হকারদের আন্দোলন সংগ্রামের ১০ দফা ন্যায্য। প্রতিটি দাবি বাস্তবায়নযোগ্য তাই সরকারের উচিত ১০ দফা মেনে নেওয়া তাহলে দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা মহানগরীর ফুটপাত যে চলমান সমস্যা তার নিরসন হবে। তিনি নিজেকে হকার পরিচয় দিয়ে বলেন আমিও কথার ফেরিওয়ালা, কথা হকারি করি।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী হকাররা ফুটপাতে বসে শৃংখলার সাথে ব্যবসা পরিচালনা করছিল কিন্তু হঠাত কোন অদৃশ্য কারণে আবারও ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদ করা হচ্ছে, মামলা-হামলা-নির্যাতন চালানো হচ্ছে। নেতৃবৃন্দ সমাবেশ থেকে এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী হকাররা বসবে প্রশাসন কোন ধরনের গোলযোগ সৃষ্টি করলে ভয়াবহ পরিণতি হবে যার দায়-দায়িত্ব প্রশাসনকেই বহন করতে হবে।

ফুটপাতে চাঁদাবাজি সম্পর্কে নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা সব ধরনের চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষই ফুটপাতে চাঁদাবাজির সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে। সরকার বা সিটি কর্পোরেশন যদি হকারদের নিকট থেকে সাপ্তাহিক অথবা মাসিক ভিত্তিতে টোল বা ট্যাক্স নেয় তাহলে সব ধরনের চাঁদাবাজি বন্ধ হয়ে যাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked with *

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক মন্তব্য