চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এম এন লারমার ৩৬ তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এম এন লারমার ৩৬ তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

মহান নেতা মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার ৩৬ তম মৃত্যুবার্ষিকী ও জুম্ম জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ,চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা কর্তৃক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এক স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

স্মরণ সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ সাধারন সম্পাদক উৎপল চাকমার সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ছাত্রনেতা শ্রী আশুতোষ চাকমা।

সভায় উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মিন্টু চাকমা,বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সংসদের সদস্য ধীষণ প্রদীপ চাকমা,বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন,চবি সংসদ এর সাধারণ সম্পাদক আশরাফী নিতু,পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সহ সভাপতি জনক তংচংগ্যা, রঁদেভূ শিল্পী গোষ্ঠীর সভাপতি অলি চাকমা এবং বাংলাদেশ মারমা স্টুডেন্ট কাউন্সিল, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক উথোয়াই চিং মারমা প্রমুখ।

স্মরণ সভার শুরুতে জুম্ম জাতীয়বাদের প্রবক্তা মহান নেতা মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই সংগ্রামে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক রুমেন চাকমা।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মিন্টু চাকমা বলেন,
পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসে এম. এন. লারমা ছিলেন নিপীড়িত, নির্যাতিত, অধিকার হারা মানুষের নেতা।তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের গুনেধরা সমাজব্যবস্থায় জন্মগ্রহণ করেও শোষিত বঞ্চিত মানুষের কথা বলেছিলেন।

তিনি উগ্রজাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে সংসদ ত্যাগ করে পার্বত্য চট্টগ্রামের নিপীড়িত জুম্ম জাতির অস্তিত্ব রক্ষার জন্য সশস্ত্র সংগ্রাম পরিচালনা করেছিলেন।

পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমান প্রেক্ষাপট সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, এম. এন. লারমার আদর্শকে ধারণ করে মহান পার্টি পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি ১৯৯৭ সালে জুম্মজাতির পক্ষে সরকারের সাথে পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। কিন্তু চুক্তির ২২ বছর অতিক্রম করেও সরকার তা বাস্তবায়ন করছেনা।

তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করে বলেন, রাঙামাটিতে গিয়ে তিনি যে বক্তব্য রেখেছেন সেটি চুক্তি বিরোধী। একদিকে সরকার চুক্তি বাস্তবায়নের কথা বলছে অন্যদিকে লঙ্ঘন করে চলেছে। উস্কানিমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক বীজ বপনের চেষ্টা করছেন বলে তিনি এ বক্তব্য উপস্থাপন করেছিলেন।তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান।

পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের উপর যদি আতঙ্ক সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হয় তাহলে জুম্ম জনগণ বিকল্প পথ বেছে নেবে বলে তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন। সেই সাথে পার্টির লড়াই সংগ্রামে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সংসদ এর সদস্য ধীষণ প্রদীপ চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম তথা সারাবিশ্বের মানুষ এমন এক সময়ে দিন অতিক্রম করছে একদিকে একদল লোক শ্রেণিহীন, বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে সেই লড়াই সংগ্রামকে দমিয়ে রাখার জন্য একদল ক্ষমতাকে, মানুষের অধিকারকে কুক্ষিগত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।সেখান থেকে উত্তরণের পথ এই ছাত্র সমাজকে খুঁজে নিতে হবে বলে তিনি মনে করেন।

সামন্তবাদী সমাজ ব্যবস্থার প্রভাব পার্বত্য চট্টগ্রামে এখনও বিরাজমান বলে তিনি মনে করেন।যার ফলে শাসকগোষ্ঠী পুঁজিবাদের বেড়াজালে অধিকার হারা জুম্ম জনগনকে আবদ্ধ রাখতে সক্ষম হয়েছে ।
সেখান থেকে মুক্তির জন্য পুরনো সমাজব্যবস্থাকে পরিবর্তন করে প্রগতিশীল চিন্তাভাবনা করতে হবে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি বলেন,পৃথিবীর ইতিহাসে একমাত্র মহান নেতা এম. এন. লারমা তের চৌদ্দটি জাতিগোষ্ঠীকে একত্র করে জুম্মজাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক আশরাফী নিতু বলেন,মহান নেতা এম. এন. লারমা জুম্ম জাতি তথা সমগ্র পৃথিবীর অধিকার হারা,শোষিত, নিপীড়িত মানুষের নেতা ছিলেন।

তিনি বলেন,এম. এন. লারমার আদর্শকে ধারণ করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।
সেইসাথে অধিকার আদায় সংগ্রামে ছাত্র ইউনিয়ন পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের পাশে থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রঁদেভূ শিল্পীগোষ্ঠীর সভাপতি অলি চাকমা বলেন,বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামের দিকে তাকালে দেখা যায় পাহাড়ী আদিবাসী তথা নিপীড়িত মানুষের জীবনে চরম অস্তিত্ব সংকট বিরাজ করছে।
শাসকগোষ্ঠী জুম্ম জাতিকে দমিয়ে রাখার জন্য সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে। আর সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য রঁদেভূ শিল্পীগোষ্ঠী কাজ করে যাচ্ছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ মারমা স্টুডেন্ট কাউন্সিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক উথোয়াই চিং মারমা বলেন,এম. এন. লারমা পার্বত্য চট্টগ্রামে জুম্ম জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে শ্রেণিবৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থা করতে চেয়েছিলেন।

তিনি বলেন,পার্বত্য চট্টগ্রামকে অস্থিতিশীল রাখার জন্য শাসকগোষ্ঠী জাতিভেদ প্রথায় লিপ্ত হয়েছে।
সেখান থেকে উত্তরণের জন্য সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

এরপর এম. এন. লারমার স্মরণে বিশ্বশান্তি প্যাগোডার ডাইনিং রুমে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করা হয়।

এর আগে স্মরণ সভার প্রথম পর্বে রাত ১২.০১ মিনিটে এস.আলম কটেজের অস্থায়ী শহীদ বেদীতে মহান নেতা এম. এন লারমা ও বীর শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে পুস্পমাল্য অর্পণ করা হয়।

এবং স্মরণ সভার দ্বিতীয় পর্বের শুরুতে মহান বিপ্লবী নেতা মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার ৩৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রঁদেভূর ১৭তম সংখ্যা বিশেষ সংকলন ‘মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা প্রয়াণ দিবস সংখ্যা-২০১৯’ সংখ্যাটি মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked with *

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক মন্তব্য