মানবেন্দ্র নারায়ন লারমাকে জানতে এসেছি- চিত্রাংকন প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহনকারী শিশু শিল্পীরা

মানবেন্দ্র নারায়ন লারমাকে জানতে এসেছি- চিত্রাংকন প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহনকারী শিশু শিল্পীরা

সতেজ চাকমা: ঢাকায় মানবেন্দ্র নারায়ন লারমার ৩৬ তম মৃত্যুবাষিৃকী উপলক্ষ্যে বিপ্লবী মানবেন্দ্র নারায়ন লারমার ৩৬ তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন জাতীয় কমিটির নানা আয়োজনের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার বকুল তলায় কেন্দ্রীয় খেলাঘরও আয়োজন করেছে চিত্রাংকন প্রতিযোগীতার।

আজ ১০ নভেম্বর রোজ রবিবার মানবেন্দ্র নারায়ন লারমা স্মরণে আয়োজিত উক্ত আয়োজনে রাজধানীর বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিশু শিল্পীরা তাঁদের নিজস্ব তুলিতে আঁকেন নানা কিছু। এই আয়োজনের অন্যতম আয়োজক খেলাঘরের জাতীয় পরিষদের সদস্য মোজাম্মেল আলীম আইপিনিউজকে বলেন, বাঙালি শিশুদেরকে আদিবাসীদের অধিকার সম্পর্কে জানানো এবং তাঁদের সাথে মেলামেশার মাধ্যমে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। তিনি আরো বলেন, তাঁরা (শিশুরা) আগে কখনো সেভাবে আদিবাসীদের দেখেনি, তাঁদের কথা শুনেনি, আলোচনা শুনেনি এবং মানবেন্দ্র নারায়ন লারমার জীবন ও সংগ্রাম সম্পর্কে জানার তেমন কোনো সুযোগ হয়নি। এসব কিছু জানার জন্যই তাদের সাথে এই আয়োজন।

খোদেজা বেগম নামে বীর শ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রব স্কুল এন্ড কলেজের এক শিশু শিক্ষার্থীর অভিভাবক তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, আমরা কখনো এই মানুষটি (এম. এন লারমা) সম্পর্কে জানতাম না। কিন্তু খেলাঘরের এই আয়োজনের মাধ্যমে জেনে তাঁকে (মানবেন্দ্র নারায়ন লারমা) আরো জানার আগ্রহ তৈরী হল।

অন্যদিকে সুমি আক্তার নামে আরেক অভিভাবক বলেন, আমার বাচ্চার জন্য এই মানুষটিকে (মানবেন্দ্র নারায়ন লারমা) জানা হল এবং আদিবাসীদের অধিকার নিয়ে আরো গভীরভাবে জানতে পারলাম এবং এই অনুষ্ঠানে এসে আদিবাসীদের সাথে মেলামেশার সুযোগ ঘটল বলে আহ্লাদ প্রকাশ করেন তিনি।

চিত্রাংকন প্রতিযোগীতায় অংশ নেয়া আজিমপুর অগ্রণী স্কুলের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী শাহিন সুলতানা ইশরাত বলেন, এখানে আমি পাহাড়ী মানুষকে নিয়ে জানতে এসেছি। খুব ভালো লাগছে তাঁদের দেখে।

উক্ত প্রগিযোগীতায় অংশ নেয়া নিউ পল্টন স্কুলের ৯ম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থী বলেন, এই মানুষটি (মানবেন্দ্র নারায়ন লারমা) সম্পর্কে জানার আগ্রহ আরো বেড়ে গেল। তাঁর যে এত অবদান আমরা জানতে পারতাম না এই প্রতিযোগীতায় অংশ না নিলে।

অন্যদিকে জারিফ হোসাইন নামে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর বর স্কুলের ৪র্থ শ্রেণীর এই শিক্ষার্থী বলেন, ভালো লাগছে আজকে পাহাড়ী মানুষকে দেখে। তাঁদের সাথে মিশতে পেরে খুশি লাগছে।

বিশের অধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহনে অনুষ্ঠিত হওয়া উক্ত আয়োজনের অনেক ইতিবাচক দিক তুলে ধরেন উপস্থিত বিভিন্ন সংগঠনের অতিথিরা।

উক্ত প্রতিবেদককে জানান এভাবে পারষ্পরিক জানা-শোনার মাধ্যমে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ এবং প্রতিষ্ঠা পাবে অসাম্প্রদায়িক এবং মানবিক একটি রাষ্ট্র হিসেবে যেখানে পরষ্পর হাত ধরে হাঁটবে আদিবাসী এবং বাঙালি শিশু। আয়োজনে অংশ নেয়া শিশু শিল্পীদেরকে বিপ্লবী মানবেন্দ্র নারায়ন লারমার ৩৬ তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন জাতীয় কমিটির পক্ষ থেকে সার্টিফিকেট ও পুরষ্কার প্রদানের মাধ্যমে শেষ হয় এই আয়োজনটি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked with *

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক মন্তব্য