রাঙামাটিতে পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের বৈঠক অনুষ্ঠিত

রাঙামাটিতে পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের বৈঠক অনুষ্ঠিত

রাঙামাটি প্রতিনিধিঃ
পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন কর্তৃক আহবানকৃত ভূমি বিরোধ সংক্রান্ত ১৫ হাজার ৯ শ ৬৯টি আবেদনপত্র খাগড়াছড়ি কমিশনের কার্যালয়ে জমা পড়েছে।
এগুলো যাচাই বাচাই চলছে। নির্ধারিত ৪৫ দিনের মধ্যেও যারা ভূমি বিরোধ সংক্রান্ত আবেদন কমিশনে দিতে পারেননি বা ব্যর্থ হয়েছেন তারা চাইলে কমিশনে অভিযোগ দিতে পারবে। কমিশন এসব অভিযোগ গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। কথাগুলো বলেছেন, পার্বত্য ভূমি কমিশনের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আনোয়ার উল হক।
রোববার দুপুর দেড় টায় রাঙামাটি সার্কিট হাউজে কমিশনের বৈঠক শেষে সাংবাদিকের এ কথাগুলো বলেন চেয়ারম্যান। এর আগে সকাল সাড়ে ১০ টায় বৈঠক শুরু হয়।
এ সময় তিনি বলেন, কমিশনের কাজের গতিশীলতা আনার জন্য দ্রুত জনবল নিয়োগ দেওয়া জরুরী হয়ে পড়েছে। জনবল নিয়োগের জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে। এসময় তিনি বলেন, সবচেয়ে বেশী জমা পড়েছে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা থেকে।
বৈঠক সম্পর্কে কমিশনের সদস্য পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় সন্তু লারমা বলেন, কমিশন আন্তরিকতার সাথে কাজ করছে। তিনি বলেন, কমিশনের যে জনবল আছে তা দিয়ে কাজ চালিয়ে নেওয়া হবে। জনবল না হলে কাজের গতি বাড়বে না।
চাকমা সার্কেল চীফ ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায় বলেন,বিভিন্ন ধরণের আবেদন পত্র জমা পড়েছে। জনবল নিয়োগ দেওয়া এখন জরুরী হয়েছে। যে সব আবেদন বেশী গুরুত্বপূর্ণ সেগুলো আগে করা হবে। দেবাশীষ রায় আরো বলেন, কমিশনের কাজ আইন অনুযায়ী হবে। আইনের বাইরে কেউ যাবে না। এতে কারোর প্রতি বৈষম্য করা হবে না। বৈষম্যর কোন সম্ভাবনা নেই।
বৈঠকে মং সার্কেল চীফ সাচিং প্রু চৌধুরী, বোমাং সার্কেল চীফ উচোপ্রু চৌধুরী , রাঙমাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বৃষকেতু চাকমা, বান্দরবান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লা মারমা, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের প্রতিনিধি মোমিনুর রশীদ আমিন উপস্থিত ছিলেন।
এ দিকে এ বৈঠকের প্রতিবাদ, ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন সংশোধনী আইন ২০১৬ বাতিলের দাবীতে পার্বত্য বাঙালীদের সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম সম অধিকার আন্দোলন, পার্বত্য নাগরিক পরিষদ, পার্বত্য গণ পরিষদ, পার্বত্য বাঙালী ছাত্র পরিষদ, পার্বত্য বাঙালী ছাত্র ঐক্য পরিষদের ডাকে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করে। অবরোধের কারণে রাঙামাটি শহরে যাত্রীবাহী কোন যান চলাচল করেনি। বৈঠককে ঘিরে শহরে পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার ছিল।
পার্বত্য চট্টগ্রামে অন্যতম প্রধান সমস্যা ভূমি বিরোধ। এটিকে পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যতম সমস্যা চিহ্নিত করে ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চুক্তির আলোকে ২০০১ সালে গঠন হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন। আইনের কয়েকটি বিষয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের আপত্তির মুখে এই আইনের ১৩ টি ধারা সংশোধনের উদ্যোগ নেয় সরকার। যা গত ৯ আগষ্ট রাষ্ট্রপতির অনুমোধন ক্রমে অধ্যাদেশ আকারে গেজেট প্রকাশ হয়। এটি গত ৬ অক্টোবর সংসদে আইন আকারে পাস হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked with *

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক মন্তব্য