রাজধানীতে তিন দিনব্যাপী হিল আর্টিস্ট গ্রুপের চিত্র প্রদর্শনী উদ্ধোধন

রাজধানীতে তিন দিনব্যাপী হিল আর্টিস্ট গ্রুপের চিত্র প্রদর্শনী উদ্ধোধন

সতেজ চাকমা: পার্বত্য চট্টগ্রামের চিত্র শিল্প নিয়ে কাজ করা শিল্পীদের সংগঠন ‘হিল আর্টিস্ট গ্রুপের’ তিন দিনব্যাপী চিত্র প্রদর্শনীর উদ্ধোধন করা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা এই প্রদর্শনীর উদ্ধোধন করেন।

প্রদর্শনী উদ্ধোধনীতে অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট লেখক ও কলামিষ্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ। হিল আর্টিস্ট গ্রুপের সহ-সভাপতি ধন মনি চাকমা’র সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য উপস্থাপন করেন উক্ত সংগঠনটির সাধারন সম্পাদক জয়দেব রোয়াজা।

শুভেচ্ছা বক্তব্যে তিনি বলেন, এই প্রদর্শনী অনুষ্ঠান প্রতিবছর করার কথা ছিল। কিন্তু পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে আমরা এই প্রদর্শনীর আয়োজন করতে পারি না। তিনি আরো বলেন, ১৯৯২ সাল থেকে আমরা হিল আর্টিস্ট গ্রুপের কাজ শুরু করি। কিন্তু নানা প্রতিবন্ধকতা এবং পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে পাহাড়ের চিত্র শিল্পীরা আজও সেভাবে সংগঠিত হতে পারেনি এবং সেরকম কোনো কাজ উপহার দিদে পারেনি। তিনি আগামীতে এ ধারা অব্যাহত রাখার জন্য শিল্পীদের স্বতষ্ফূর্ত অংশগ্রহন এবং সবার সহযোগীতা প্রত্যাশা করেন।

উক্ত অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি লেখক ও কলামিষ্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, এই চিত্র প্রদর্শনীতে এসে মনে হয়েছে আমি পার্বত্য চট্টগ্রামেই প্রবেশ করেছি। এই ছবিগুলোতে পাহাড়ের প্রকৃতি, নিসর্গ, সৈন্দর্য সবগুলোই মূর্ত হয়ে উঠেছে।

তিনি আরো বলেন, বিমূর্ত ধারার শিল্প চর্চা ভালো। কিন্তু পাহাড়ের প্রাণ, প্রকৃতি আদিবাসী মানুষের হাসি-কান্না ও জীবনের নানা দিক তুলে ধরতে পাহাড়ী শিল্পীদের বিমূর্ত ধারার পরিবর্তে বাস্তবাদী ধারার ছবি আঁকার আহ্বান জানান।

বিশিষ্ট এ কলামিষ্ট আরো জানান, ইউরোপ, আমেরিকার শিল্পীদের নকল করার কোনো প্রয়োজন নেই। পাহাড়ী মানুষের নিজস্ব জীবনের চিত্রগুলো তুলে ধরতে হবে। পাহাড়ী মানুষের সংগ্রাম ও দু:খ বেদনাকে শিল্পের মাধ্যমে তুলে ধরার জন্য তিনি তরুণ প্রজন্মের শিল্পীদের আহ্বানও জানান।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা বলেন, পাহাড়ে শিল্প চর্চার শুরু অনেক আগে থেকে। বাংলাদেশের বরেণ্য চিত্র শিল্পী শিল্পচার্য জয়নুল আবেদীনের চার বছরের বড় চুনিলাল দেওয়ান এ শিল্পচর্চার গোড়াপত্তন করেন। এছাড়া পাহাড়ের বিশিষ্ট চিত্র শিল্পী গৌতম চাকমা’র শিল্পকর্মের কথাও স্মরণ করেন উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান।

তিনি আরো বলেন, অনেক আগে থেকে এই চিত্র শিল্পীরা শিল্প চর্চা করলেও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে তাঁদের (শিল্পীদের) মূল্যবান চিত্রকর্মগুলো আজ নেই। এইসব হারিয়ে গেছে।

পাহাড়ের প্রাণ প্রকৃতি ও জীবন হারিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, পাহাড়ী শিল্পীদের আরো উৎকর্ষতা বাড়াতে হবে। ক্ষীয়মান ভাষা, শিল্প ও সংস্কৃতিগুলোকে চিত্রকলার মাধ্যমে তুলে ধরতে হবে বলেও উল্লেখ করেন নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা।

অনুষ্ঠানের সভাপতি ধন মনি চাকমার সমাপনি বক্তব্যের মধ্য দিয়ে এই চিত্র প্রদর্শনীর উদ্ধোধন করা হয়। উল্লেখ্য যে, প্রতিবছর এই চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হলেও বিগত বছর পৃষ্ঠপোষকতা’র অভাবে উক্ত প্রদর্শনীর আয়োজন করা সম্ভব হয়নি বলে জানান আয়োজকরা। আজ থেকে শুর হওয়া এই চিত্র প্রদর্শনী চলবে আগামী ২১ তারিখ পর্যন্ত। রাজধানীর ধানমন্ডীর ২৭ নম্বরের ১৬ নং রোড এর গ্যালারী-২৭ এ আয়োজন করা এই চিত্র প্রদর্শনীতে পাহাড়ের বিভিন্ন চিত্র শিল্পীর ও রং তুলিতে ফুটে উঠেছে পাহাড়ী আদিবাসী মানুষের জীবনের সংগ্রাম, পাহাড়ের বর্ণাঢ্য প্রকৃতি ও আশা-নিরাশা এবং বিরহ-মিলনের চিত্র।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked with *

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক মন্তব্য