চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীন আদিবাসী শিক্ষার্থীদের পরিচিতমূলক গেট-টুগেদার অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীন আদিবাসী শিক্ষার্থীদের পরিচিতমূলক গেট-টুগেদার অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের নবীন আদিবাসী শিক্ষার্থীদের পরিচিতিমূলক গেট-টুগেদার অনুষ্ঠান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জারুলতলায় অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে গেট-টুগেদার আয়োজক কমিটি’২০ এর আহ্বায়ক সুখী কুমার তঞ্চঙ্গ্যার সভাপতিত্বে এবং নবীন শিক্ষার্থী কনক কুমার চাকমা ও চাম্পাউ ম্রোর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কাঞ্চন চাকমা।

এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাইদুল ইসলাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আশুতোষ চাকমা, ত্রিপুরা স্টুডেন্টস ফোরাম চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সভাপতি নয়ন ত্রিপুরা, রঁদেভু শিল্পীগোষ্ঠীর সভাপতি ধর্মরাজ তঞ্চঙ্গ্যা, রঁদেভু শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক প্রান্তিকা চাকমা, বাংলাদেশ মারমা স্টুডেন্টস কাউন্সিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি উথোয়াই চিং মারমা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রত্যয় নাফাক, বাংলাদেশ রাখাইন স্টুডেন্টস এসোসিয়েশনের প্রতিনিধি নিলা ওয়ান রাখাইন, পহর জাঙাল প্রকাশনা পর্ষদের প্রতিনিধি জবা তঞ্চঙ্গ্যা প্রমুখ।

উক্ত সভায় নবীনদের পক্ষে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের নবীন শিক্ষার্থী ধনরঞ্জন ত্রিপুরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. কাঞ্চন চাকমা বলেন, আমাদের কঠিন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হয়। আমাদের অনেক প্রতিবন্ধকতা পেড়িয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে নানা সমস্যায় পড়তে হয়। তার মধ্যে অন্যতম একটি হলো ভাষাগত সমস্যা। প্রান্তিকতার কারণে আমরা অনেকেই সঠিক বাংলা উচ্চারণ করতে পারিনা। তিনি আরো বলেন, অর্থনৈতিক সমস্যা নিয়ে আমাদের পড়াশুনা চালিয়ে নেয়া অনেক কঠিক হয়ে পড়ে। তিনি শিক্ষার্থীদের যেকোনো প্রয়োজনে সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন এবং শিক্ষার্থীদের শুধু পুঁথিগত শিক্ষায় পড়ে না থেকে গবেষণা করার আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাইদুল ইসলাম বলেন, আমরা যদি একটি গাছ হয় তবে শিক্ষার্থীরা সেই গাছের পাপড়ি। বর্তমানে দেশের পরিস্থিতিতে অনেক সংকট চলছে। রাষ্ট্র বিভিন্ন দিক থেকে আদিবাসীদের বঞ্চিত করে রেখেছে। ছাত্র সমাজকে শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে এবং সমাজের জন্য কাজ করতে হবে। বন্ধের সময় নিজ নিজ এলাকায় অন্যান্য শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা করাতে হবে, উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করতে হবে। তিনি আরো বলেন, আদিবাসীদের নিজস্ব ইতিহাস, সংস্কৃতিকে রক্ষা করতে হবে। বৃহৎ গোষ্ঠীর আধিপত্যবাধের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। তিনি এবছর বিশ্ববিদ্যালয়ে যতজন নবীন ভর্তি হয়েছে আগামী বছর তার দ্বিগুন হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আশুতোষ চাকমা বলেন, আজকে নবীনদের মধ্যে একটুকরো পার্বত্য চট্টগ্রামকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে এবং সকল আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সম্মিলন ঘটেছে। আমরা সবাই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আদিবাসী পরিবাবের সদস্য। আমাদেরকে সুখে-দুঃখে সবাইকে একসাথে থাকতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় একজনকে যেভাবে প্রয়োজন ভেঙে নতুন রূপে তৈরি করে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নয়ন ত্রিপুরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে শিক্ষাজীবন নতুনরূপে শুরু হয়। বিশ্বিবদ্যালয়ে কোন সাবজেক্টে ভর্তি হয়েছি সেটা বড় কথা নয়, কি শিখতে পেরেছি সেটাই সবচেয়ে বড় কথা।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ধর্মরাজ তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, আমাদের শিক্ষিত হতে হবে, মানুষ হতে হবে। আমাদেরকে আমাদের সমাজকে নিয়ে ভাবতে হবে। অনেকে সাবজেক্ট নিয়ে হীনমন্যতায় ভুগে। আমাদের সকল আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে একত্রে থাকতে হবে এবং সবার জন্য কাজ করতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উথোয়াই চিং মারমা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা সবাই এক একটি স্বপ্ন নিয়ে এসেছি। আমাদেরকে পড়াশুনাকে অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে। আমরা যে এলাকা থেকে এসেছি আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য, আমাদের সমাজকে এগিয়ে নেয়ার জন্য কাজ করতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রত্যয় নাফাক বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেলেও এখনো দেশের নানা প্রান্তে স্কুল নেই, পর্যাপ্ত শিক্ষার উপকরণ নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্ব মানের শিক্ষা প্রদানের কথা থাকলেও দেশে এখনো তা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়কে পাঠদানমূলক ও গবেষণামূলক শিক্ষা প্রদান করা দরকার।আমাদেরকে নিজ জাতিগোষ্ঠী, সমাজের কাছে দায়বদ্ধতা থাকতে হবে।

এছাড়া সভায় আরো বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্যে রাখেন প্রান্তিকা চাকমা, নিলা ওয়ান রাখাইন, জবা তঞ্চঙ্গ্যা প্রমুখ।

পরিশেষে সভার সভাপতি সুখী কুমার তঞ্চঙ্গ্যার বক্তব্যের পর সভা শেষ হয় এবং এরপর নবীনদের বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি ঘটে।

উল্লেখ্য যে, নবীন আদিবাসী শিক্ষার্থীদের এই পরিচিতমূলক গেট-টুগেদার অনুষ্ঠানটি পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সার্বিক তত্ত্বাবধানে প্রতিবছর সম্পন্ন হয়ে থাকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked with *

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক মন্তব্য