আনারস চাষীদের কথা ভাবছি কি? – তরু চাকমা

আনারস চাষীদের কথা ভাবছি কি? – তরু চাকমা

এ সময়টা আনারসের ভরা মৌসুম বলা যায়। দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আনারসের ফলন হলেও পার্বত্য চট্টগ্রামের আনারসের চাহিদা অনেক বেশি। তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে রাঙ্গামাটিতে এর ফলন হয় বেশি। এ সময়টাতে প্রতি বছর পুরো এলাকায় আনারসের স্তুপ দেখা যায়। আনারসের রসালো গন্ধে পুরো শহর ভরে যায়। শহরের প্রায় প্রতিটি বাজারে ও জায়গায় আনারসের পসরা সাজানো হয়। এখান থেকেই খুচরা ও পাইকারি দামে বিক্রি হয়। এভাবেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এ আনারস ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু এবছর সেই চিত্র নেই বললেই চলে।

কোভিড ১৯ এর বৈশ্বিক মহামারিতে পৃথিবী এখন অচল প্রায়। সকল দেশ লকডাউনে গেছে। বাংলাদেশও গত ২৬ মার্চ থেকে লকডাউনে আছে। এ লকডাউনে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের ন্যায় পার্বত্য চট্টগ্রামও বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে। নিম্ন মধ্যবিত্ত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীরা বেশি পরিমাণে এর ফলাফল ভোগ করছে। বাগান চাষীরা আরো বেশি বেকায়দায় রয়েছে। এদের অধিকাংশই মৌসুমী এ ফলনের আয়ের উপর পুরো বছরের ব্যয়ভার বহন করে। করোনার প্রাদুর্ভাব ও লকডাউনে এসমস্ত আনারস চাষীদের এখন মাথায় হাত উঠেছে। পাইকার নেই তাই বাগান বিক্রি হচ্ছে না। বাজারে আনা হলেও ক্রেতা নেই। এমতাবস্থায় আনারসগুলো হয় পচে যাচ্ছে না হয় পানির দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

করোনা মোকাবেলায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনার আলোকে আমাদের সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোও নিয়মিত আমাদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। এরই অংশ হিসেবে রোগ প্রতিরোধের জন্য নিয়মিত ভিটামিন-সি খাওয়ারও পরামর্শ দিচ্ছেন। আমরা জানি, আনারসে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-সি থাকে। কিন্তু, এসময়ে উৎপাদিত এরকম ফল বা কৃষিপণ্য নষ্ট হয়ে যাওয়া মোটেই সমর্থনযোগ্য নয়।

সরকার বা প্রশাসন সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নতুন উৎপাদিত কৃষিপণ্য বা এসমস্ত ফলমূল বাজারজাতকরণে উদ্যোগ নিলে সবাই লাভবান হতে পারত। এতে জনগণের চাহিদাও মেটানো যেত আর উৎপাদনকারী কৃষকরাও লাভবান হত। রাঙ্গামাটি সদর থেকে প্রতিদিন মিনিমাম চার ট্রাক করে মাছ যদি এখনো খালাস হতে পারে তাহলে কেন আনারসের এরকম বেহাল অবস্থা হবে? জানা গেছে, রাঙ্গামাটি সদর, কাপ্তাই ও মহালছড়ি মিলে প্রতিদিন এখনো আট/নয় ট্রাক করে মাছ যাচ্ছে রাজধানীর উদ্দেশ্যে। পার্বত্য চট্টগ্রামের সচেতনমহল ও ফল উৎপাদনকারীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল সরকার বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে এ অঞ্চলে হিমাগার স্থাপন করা যাতে এসমস্ত পচনশীল, অথচ অত্যন্ত চাহিদা সম্পন্ন ও উপকারী এইসব টাটকা ফল ও শাক-সবজি সংরক্ষণ করা যায়। কিন্তু, দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষগুলো বরাবরই এ দাবি উপেক্ষা করে গিয়েছে।

যেকোন দুর্যোগ মোকাবেলায় সফলতা বা ব্যর্থতা তা সরকার বা প্রশাসনের সঠিক পরিকল্পনা, ব্যবস্থাপনা ও নেতৃত্বের উপর নির্ভর করে। বাজার ব্যবস্থাপনাটাও কর্তৃপক্ষের উপর বর্তায় বৈকি। কৃষকের উৎপাদিত ফসল ন্যায্য মূল্যে বিক্রি হবে সেটা দেখার বিষয় সরকার বা প্রশাসনের। চলমান লকডাউনে একদিকে দিনমজুর বা নিম্ন আয়ের মানুষেরা কাজের অভাবে অভুক্ত থাকবে, অপরদিকে কৃষকের উৎপাদিত ফসল অবিক্রিত অবস্থায় পঁচে যাবে তা হতে পারে না। তাদের সবাইকে রক্ষার দায়িত্ব সরকারের। সরকারের ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত থাকুক এবং পাশাপাশি ফসল চাষীদের উপরও সরকারের সদয় দৃষ্টি বর্ষিত হবে সেই আশাবাদ ব্যক্ত করছি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked with *

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক মন্তব্য