শ্যামনগর উপজেলার আদিবাসী মুন্ডাদের জন্য বিশেষ বরাদ্ধের দাবি

শ্যামনগর উপজেলার আদিবাসী মুন্ডাদের জন্য বিশেষ বরাদ্ধের দাবি

নাজমুল আলম মুন্না নামের একজন উন্নয়ন কর্মী তার ফেসবুক ওয়ালে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার আদিবাসী মুন্ডাদের জন্য বিশেষ বরাদ্ধের দাবি জানিয়েছেন। তিনি শ্যামনগর ঘুরে কয়েকজনের সাথে কথা বলে ঐ এলাকার বাস্তব অবস্থা তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন তার ওয়ালে।

সুন্দরবন আদিবাসী মুন্ডা সংস্থা (সামস) এর পরিচালক কৃষ্ণপদ মন্ডলের বরাত দিয়ে তিনি লেখেন, শ্যাননগর উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে প্রায় ৪৪০টি আদিবাসী মুন্ডা পরিবারে রয়েছে তিন হাজারেরও বেশি জনসংখ্যা। তার মধ্যে এপর্যন্ত প্রায় ২৪০টি মুন্ডা পরিবার সরকারী বা বেসরকারীভাবে একবার দুইবার কোনমতে করোনায় ত্রাণ সহায়তা পেয়েছে। এখানে বসবাসকারী সব মুন্ডা পরিবার যেহেতু দিন মজুর, সুন্দরবনের মাছ ও কাকড়া ধরে জীবন জিবিকা নির্বাহ করে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে সবার পরিবারে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ নেই তারা এখন খাদ্য সংকটে আছে। আগামী দিনগুলোতে যদি তারা কাজ করতে না পারে তাহলে সবাই চরম বিপদের সম্মুখীন হবে। সেজন্য এসব মুন্ডা পরিবারগুলো যাতে নিয়মিত সরকারী বা বেসরকারী খাদ্য সহায়তা পেতে পারে সেরকম ব্যবস্থা বা পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরী বলে মনে করি। সকলের পাশাপাশি আদিবাসীরা যেন বি ত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আদিবাসীদের করোনা সহায়তা নিশ্চিত করার জন্য আদিবাসীদের পারিবারিক তথ্য সংগ্রহ করে স্থানীয় আদিবাসী প্রতিনিধিদের সাথে পরিকল্পনা গ্রহণ করে পর্যায়ক্রমে এই সহায়তা অব্যাহত রাখা যেতে পারে।

শ্যামনগর উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউল হক দোলনের বক্তব্যটিও তিনি তুলে ধরেন এভাবে- চেয়ারম্যান মহোদয় বলেন সমস্ত উপজেলা জুড়ে হাজার হাজার আদিবাসীদের বসবাস রয়েছে। ত্রাণ বিতরণে তাদেরকে অধিকতর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারি ত্রাণতো ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে সব ইউনিয়নে ত্রাণ বিতরন করা হয়েছে। কিন্তু শ্যামনগর সদরের কাশিপুরে বসবাসরত মুন্ডারা সরকারি কোন ত্রাণ সহায়তা পায়নি। কাশিপুর ইউনিয়নে আমার বাড়ি এখানে ৩৫ টি মুন্ডা, বাগদি ও হিজড়া পরিবার রয়েছে তাদের মধ্যে মাত্র ৯ টি পরিবার এখনো কোন ত্রাণ পায়নি। এবিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় এনজিও লিডার্স এর সহায়তায় তাদেরকে ত্রাণ দিয়েছি। ত্রাণে কোন কোন আইটেম দিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন ৫/৬ দিন আগে প্রতি পরিবারকে ১০ কেজি চাল, ৩ কেজি আলু, ১ কেজি ডাল ও ২ টা সাবান দেওয়া হয়। তাছাড়া মুন্ডাসহ সকল আদিবাসীদের বিষয়টি বিবেচনা করে বিশেষ বরাদ্ধের জন্য সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামালকে অবহিত করেছি প্রায় ১১ দিন আগে। তিনি শ্যামনগর এসেছিল তখন আমি তাকে বলেছিলাম শ্যামনগর হচ্ছে দেশের সবচেয়ে বড় উপজেলা এই জেলায় বসবাস করা মানুষগুলো বিভিন্ন সময়ে নানান দুর্যোগের মুখোমুখি হয়ে থাকে। যেমন ঘুর্নিঝড় আইলা, ফনি, বুলবুলের আঘাতে এই জেলার মানুষ ক্ষতবিক্ষত হয়ে রয়েছে তারপর আবার মহামারী করোনার ভাইরাসে লন্ডভন্ড হয়ে যাচ্ছে এখানকার জনজীবন। এখানে অনেক বেশি ত্রাণ ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ বরাদ্ধ চেয়েছি কিন্ত আজও তার খোজ নেই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked with *

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক মন্তব্য