লকডাউনে বাসা ভাড়া না পাওয়ায় রাজধানীতে এক আদিবাসী পরিবারকে মারধর

লকডাউনে বাসা ভাড়া না পাওয়ায় রাজধানীতে এক আদিবাসী পরিবারকে মারধর

গত ১৭ মে রাজধানী ঢাকার গুলশানের কালাচাঁদপুর এলাকায় বাসা ভাড়া না পেয়ে একটি গারো পরিবারের চার সদস্যকে মারধোর ও বাসার বাইরে বের করে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। রবিবার বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক(এসআই) মো. বেলাল হোসেন। রাত দশটার দিকে গুলশান থাকার দু’জন পুলিশ সদস্য গিয়ে আক্রান্তদেরকে বাসায় তুলে দিয়ে আসেন।

রাজধানীর গুলশান থানাধীন কালাচাঁদপুর বড় মসজিদের কাছে ৯৯/ক হোল্ডিং নম্বরের বাসার ৫ম তলায় মেয়েদের নিয়ে থাকেন শুভ্রা ঘাগ্রা(৩৫)। তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে বাসার কারো চাকরি নেই। অর্থনৈতিক সংকট চলছে। প্রতিমাসের ১০ তারিখে বাসা ভাড়াবাবদ ১৪ হাজার টাকা(বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি বিলসহ) দিতে হয়।

তিনি আরো যোগ করেন, অনেক কষ্টে গত মাসের(এপ্রিল) ভাড়া পরিশোধ করতে পারলেও চলতি মাসের ভাড়া বকেয়া রয়ে গেছে। ১০ তারিখ চলে যাওয়ার পর থেকেই প্রতিদিন ভাড়ার জন্য তাগিদ দিয়ে আসছেন বাসার মালিক মো. নজরুল ও তাঁর স্ত্রী ফাতেমা বেগম। আগামী ২০ তারিখে ভাড়া দেয়ার কথা বলে রেখেছি। কিন্তু গত ১৬ মে সকাল দশটায় ভাড়া না পেয়ে গালি দেয়াসহ অশোভন আচরণ করেন বাসার মালিক। তারই ধারাবাহিকতায় পরদিন ১৭ এপ্রিল বিকালে আমাদের বাসা থেকে বের করে দেয়াসহ শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।

ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে শুভ্রা ঘাগ্রা বলেন, রবিবার বিকালে নিকটস্থ দোকান থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে বের হয় আমার দুই মেয়ে ঝুমু ঘাগ্রা(১৭) ও মৌ ঘাগ্রা(২০)। তাদের সঙ্গে ছিল আমার তিন বছরের নাতনি এরিসা। বাজার থেকে ফিরে বাসায় ঢুকতে চাইলে মূল গেটে বাঁধা দেয় বাসার দারোয়ান। বাসায় ঢুকতে না দেয়ার কারণ জানতে চাইলে বাসার মালিকের নির্দেশ রয়েছে বলে জানায় দারোয়ান।

তবে বাদীপক্ষের সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বাসার মালিক। এই ঘটনায় সোমবার বিকালে বাসার মালিক মো. নজরুল, তাঁর স্ত্রী ও ছেলের বিরুদ্ধে গুলশানা থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে, যার নম্বর ৭৬৯। দলীয় প্রভাব খাটিয়ে প্রকৃত ভিন্ন খাতে রূপ দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে বাসার মালিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন হামলার শিকার গারো পরিবারটির সদস্যরা।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার দিন মামলা দায়ের করতে গেলে নেয়নি গুলশান থানা পুলিশ। এমনকি সাধারণ ডায়েরিও গ্রহণ করা হয়নি। ঘটনার পরদিন ১৮ এপ্রিল বিকালে থানায় গিয়ে আরেকবার চেষ্টা করেও মামলা দায়ের করাতে পারিনি। তবে এদিন সাধারণ ডায়েরি রেখেছে গুলশান থানা পুলিশ। বাসার মালিক ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন শুভ্রা ঘাগ্রা।

তথ্যসূত্র: দৈনিক জনকণ্ঠ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked with *

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক মন্তব্য