বান কি-মুনঃ আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জ্ঞান জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে

বান কি-মুনঃ আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জ্ঞান জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে

জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি-মুন জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিরোধের উপায়সমূহ সম্পর্কে এক আলোচনা সভায় আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীসমূহের অধিকার এবং অবদানসমূহ সর্বাগ্রে গুরুত্বারোপের বিষয়টি নিশ্চিত করতে সরকারসমূহের প্রতি আহ্বান জানান।
থমাস নিলসন
অক্টোবর, ০৯, ২০১৬

জলবায়ু চুক্তি স্বাক্ষরে সফলতার সাথে বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে এক কাতারে নিয়ে আনার জন্য বান কি-মুন আর্কটিক সার্কেল পুরস্কার ২০১৬ অর্জন করেন। এ সপ্তাহে আইসল্যান্ডের র‌্যাকজাভিকে আইসল্যান্ডের সাবেক রাষ্ট্রপতি ওলাফুর র‌্যাঙনার গ্রিমসন এ পুরস্কারটি ঘোষণা করেন।
তাঁর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন স্বরূপ ভাষণে, মহাসচিব জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিরোধে আদিবাসীদের প্রথাগত জ্ঞানসমূহ গুরুত্বারোপের বিষয়ে আলোকপাত করেন।
“সম্মুখ ভাগে অবস্থান করে যে সব আদিবাসী জনসাধারণ এখানে শতাব্দী কাল ধরে বসবাস করে আসছেন তাদের স্মরণ করা হোক। তারা উত্তর মেরু অঞ্চলের বৈচিত্র্যতা এবং টেকসই সম্পদের ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে অবদান রেখে চলেছে। তথাপি উন্নয়শীল দেশ হিসেবে, যে সমস্ত রাষ্ট্রসমূহের জলবায়ু পরিবর্তনে সর্বনিম্ন পর্যায়ে অবদান রয়েছে, সর্বপ্রথমে তারা আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীসমূহের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য এবং মানবাধিকারের প্রতি কঠোরতমভাবে আঘাত করে মারাত্মক পরিণামে পর্যবসিত করে,” আর্কটিক সার্কেল সম্মেলনে ২,০০০ হাজার প্রতিনিধিবর্গের সামনে, বান কি-মুন তুলে ধরেন।
তিনি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকারসমূহের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য সরকারসমূহ প্রতি আহ্বান জানান।
“জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে সামঞ্জস্য রক্ষার্থে রাষ্ট্র কর্তৃক গৃহীত জাতীয় পরিকল্পনাসমূহের মাধ্যমেও আদিবাসী জনসাধারণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে, বিশেষভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি শক্তি উদ্যোগসমূহ যেমনঃ বায়ু চালিত কল সংস্থা এবং জলবিদ্যুৎ প্রকল্পসমূহ, যেগুলো তাদের অঞ্চলে গড়ে তোলা হয়। যার কারণে উত্তেজনা সৃষ্টি এবং স্থানচ্যুতকরণ ও সম্পত্তির হস্তান্তর ঘটেছে। কিভাবে স্বীকৃতি প্রদান করতে হবে এবং কিভাবে আদিবাসী জনগোষ্ঠীসমূহের মূল্যবান তথ্য বা উপদেশ এবং উদ্যোগসমূহ প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে হবে ইহার লক্ষ্যে আদিবাসী বিষয়ক জাতিসংঘ ঘোষণাপত্র হচ্ছে আমাদের দলিল”বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
বান কি-মুন উল্লেখ করেন প্রকৃতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণভাবে বসবাস করতে আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীসমূহের ঐতিহাসিক জ্ঞান হচ্ছে এমন একটি অবদান যেটি টেকসই উন্নয়ন মাত্রা অর্জনে এবং বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিরোধ করার ক্ষেত্রে সহায়তা করবে।
“অর্থনৈতিক উন্নয়নের নামে প্রায় সময় আমরা অগণিত/অসংখ্য বিশেষজ্ঞ, সরকার ও শিল্প নীতিমালা/ কর্মপরিকল্পনা প্রত্যক্ষ করেছি প্রকৃতির সহিত বিরুদ্ধাচরণ/বিরুদ্ধাচার করে চলেছে। আদিবাসী জনগোষ্ঠীসমূহের প্রকৃতি সাথে বন্ধুসুলভ/বন্ধুত্বপূর্ণ সহাবস্থান করার শতবর্ষের পুরনো অভিজ্ঞতা রয়েছে। ঐ সব প্রাজ্ঞতা তাদের কাছ থেকে আমাদের অবশ্যই অর্জন করতে হবে। যখন আমরা এই চ্যালেঞ্জসমূহ/ঝুঁকিসমূহ/সমস্যাগুলো মোকাবেলা করবো আদিবাসী জনগোষ্ঠীসমূহের, তাদের অধিকার এবং অবদানসমূহ সর্বাগ্রে গুরুত্বারোপের বিষয়টি নিশ্চিত করতে আমি আপনাদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি,” মহাসচিব তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন।
সহজবোধ্য বার্তা
অ্যাভিন্ড রাভনা, ট্রমসো’র নরওয়ে আর্কটিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক বলেন বান কি-মুন এর বক্তব্য সুমেরু অঞ্চলের জাতিসমূহের সরকারসমূহের নিকট একটি শক্তিশালী বার্তা প্রেরণ করে থাকবে।
“সরকারসমূহ, উদাহরণ স্বরূপ নরওয়ে যেটি আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীসমূহের অধিকার বিষয়ক আইএলও কনভেনশনে স্বাক্ষর করেছে অবশ্যই তাদের অঙ্গীকারসমূহ স্বীকার করবে। আজকে বান কি-মুন এর বক্তব্যের মাধ্যমে উল্লেখিত বার্তাটি খুবই সুস্পষ্ট হয়ে ওঠেছে। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন এর সমাধানের একটি অঙ্গ হচ্ছে শিক্ষা গ্রহণ এবং আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীসমূহের সহিত আলোচনা,” ব্যারেনটস অবজারভার (Barents Observer) এর কাছে রাভনা তাঁর মতামত ব্যক্ত করেন।
অধ্যাপক সাহেব হচ্ছেন, নরওয়ের সর্বাপেক্ষা উত্তরস্থ কাউন্টি’র ফিনমার্কে সামি আদিবাসী সম্পর্কিত নরওয়ে আন্তর্জাতিক আইনগত বাধ্যবাধকতা বিষয়ে, একজন বিশেষজ্ঞ।
Øyvind Ravna, Professor at the Faculty of Law with the Arctic University of Norway in Tromsø. Photo: Thomas Nilsen
জাতিসংঘ কার্যক্রম ফলপ্রসু হিসেবে প্রতীয়মান হয়
গান-ব্রিট র‌্যাটার, উত্তর মেরু ও পরিবেশ বিভাগ এর সামি পরিষদের প্রধান, বলেন বান কি-মুনের র‌্যাকজাভিকে প্রদত্ত বক্তব্যটি ছিল অসাধারণ।
“আমি খুব কম দেখেছি ঐ ধরনের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা তাঁর বক্তব্যের উল্লেখযোগ্য অংশ আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীসমূহের বিষয়ের উপর র্দীঘ সময় ধরে ব্যয় করতে। তিনি জলবায়ু কার্যক্রম সম্পর্কে আমাদের দাবী বিষয়সমূহ জোরালোভাবে তুলে ধরেন,” র‌্যাটার উল্লেখ করেন।
এটি প্রতীয়মান হয় যে জাতিসংঘ কার্যক্রম প্রকৃতপক্ষে কাজ করে। আমাদের জাতিসংঘে আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীসমূহের অধিকারসমূহের বিষয়ের উপর একজন বিশেষ প্রতিবেদক রয়েছেন, এবং আজকে তিনি বান কি-মুন এর বক্তব্য শুনছেন, আমরা সুস্পষ্টভাবে দেখতে পাচ্ছি যে আমাদের মতামতসমূহ সর্ব্বোচ্চ পর্যায়ে বিবেচনায় নেয়া হয়,” গান-ব্রেট র‌্যাটার উল্লেখ করেন।
ভাষান্তরঃ পাপেল চাকমা

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked with *

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক মন্তব্য