লংগদুতে সেনাবাহিনীর ও সেটলার বাঙালির কর্তৃক অগ্নি সংযোগ ও পরিকল্পিত সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে, ঢাকার শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ

লংগদুতে সেনাবাহিনীর ও সেটলার বাঙালির কর্তৃক অগ্নি সংযোগ ও পরিকল্পিত সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে, ঢাকার শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ

অদ্য ২ জুন,২০১৭ ইং রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার লংগদু উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ি অধ্যুষিত গ্রামে সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ মদদে সেটলার বাঙালিদের কর্তৃক অগ্নি সংযোগ ও পরিকল্পিত সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে ঢাকার শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, ঢাকা মহানগর শাখা।

পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের ঢাকা মহানগর শাখার তথ্য ও প্রচার সম্পাদক অমরশান্তি চাকমার সঞ্চালনায় এবং জ্যোতি চাকমার সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অনন্যা চাকমা, রুনি চাকমা, পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য জিনেট চাকমা প্রমুখ, পিসিপি ঢাবি শাখার অরুনকান্তি তঞ্চঙ্গ্যা, হলাচন্দ্র ত্রিপুরা, নিশৈ মং মারমা পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সুলভ চাকমা।

বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাবাহিনীর প্রতক্ষ্য মদদে পাহাড়ীদের উপর পরিকল্পিত সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা নতুন নয়। কিন্তু এ যাবৎকাল পার্বত্য চট্টগ্রামে সংঘটিত মানবাধিকার লংঘনের কোন ঘটনারই সুষ্ঠু বিচার না হওয়ায় আজো পাহাড়ীদের ঘরছাড়া হতে হচ্ছে, সাম্প্রদায়িক হামলার শিকার হতে হচ্ছে, ভূমি থেকে উচ্ছেদ হতে হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অনন্যা চাকমা বলেন,- ”অনেক আশা-ভরসা নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়তে এসছিলাম। এই গ্রীষ্মের এই ছুটিতে অন্য সবার মত আমিও আজ রাতেই রাঙ্গামাটির লংগদুর টিনতিলায় আমার গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। আজ সকালে ঘুম থেকে উঠেই শুনলাম আমার বাড়ি পুড়ে ছাড়খার হয়েছে। আমি এখন কোথায় যাব?”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী রুনি চাকমা বলেন,- ”আর কত ঘরবাড়ি পুড়ে গেলে সরকারের টনক নড়বে। আদিবাসীদের নিজভূমে পরবাসী হয়ে থাকার যন্ত্রণা কি সরকারপ্রধান বুজেন না? নাকি বুজেও না বুজার ভান করে থাকাটাই এখন গণতন্ত্র?”

পিসিপি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য জিনেট চাকমা বলেন, ”আমার বাড়ির লোকজন কেমন আছে জানি না। লংগদু থেকে একবুক আশা নিয়ে ঢাকায় পড়তে এসছিলাম। আজ আমাদের কারও ঘর-বাড়িই আর নিরাপদ নয়। আমরা কিভাবে বাঁচবো?”

পিসিপি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক অরুন তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, ”আমাদের আর হারানোর কিছু নেই। আমরা আর প্রতিবাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবো না। আমরা এবার থেকে প্রতিরোধ গড়ে তুলবো।”

পিসিপির কেন্দ্রীয় তথ্য প্রচার সম্পাদক সুলভ চাকমা বলেন,- ”পাহাড়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা নতুন নয়। পাহাড়িদের ভূমি থেকে উচ্ছেদ করার ষড়যন্ত্র থেকেই এসব পরিকল্পিত সাম্প্রদায়িক হামলা চালানো হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে জুম্মদের অস্তিত্ব আর থাকবে না। তাই প্রতিরোধ করাই একমাত্র বিকল্প কর্তব্য হয়ে দাড়িয়েছে।”

বক্তারা আরো বলেন, ইতিমধ্যে আমরা জানতে পেরেছি যে, লংগদুতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। অথচ প্রশাসনের প্রত্যক্ষ মদদে ১৪৪ ধারা জারি থাকা অবস্থাতেই টিনটিলা, বাত্যেপাড়া, মানিকজোড়ছড়া প্রভৃতি জুম্ম অধ্যুষিত গ্রামসমূহে জুম্মদের ঘর-বাড়িতে লুঠপাঠ, হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

বিক্ষোভ মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে শুরু হয়ে পুরো ক্যাম্পাস এলাকা প্রদক্ষিণ করে শাহবাগে গিয়ে শেষ হয় এবং সেখানেই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked with *

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক মন্তব্য