চাপাইনবাবগঞ্জে ব্যবসায়ীর ভয়ে দিন কাটছে রাজোয়াড় সম্প্রদায়ের

চাপাইনবাবগঞ্জে ব্যবসায়ীর ভয়ে দিন কাটছে রাজোয়াড় সম্প্রদায়ের

চাপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের টংপাড়া গ্রামের আদিবাসী মানুষদের উচ্ছেদ করতে তরিকুল ইসলাম নামের এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগ উঠেছে। গতকাল রাজশাহী নগরের মিয়াপাড়াস্থ সাধারণ গ্রন্থাগারের সম্মেলনকক্ষে টংপাড়া গ্রামবাসীর পক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গতকাল মঙ্গলবার এই অভিযোগ করা হয়।

লিখিত বক্তব্যে কুটিলা রাজোয়াড় বলেন, টংপাড়া গ্রামে ৩৯টি রাজোয়াড় সম্প্রদায়ের পরিবার বসবাস করে। আরএস খতিয়ান ১৫৭ নম্বরের ৭২৬ ও ৭২৭ নম্বর দাগের ৬ দশমিক ১১ একর জমি (একটি পুকুরসহ)আদিবাসী লোকজন বংশপরম্পরায় ভোগদখল করছে। সিএস রেকর্ড অনুযায়ী এটি ওয়াক্ফ সম্পত্তি। জমিদারি প্রথা বিলোপের পর এই সম্পত্তি সরকারি। ভুলক্রমে আরএস রেকর্ড হয় রাজশাহীর টিকাপাড়া এলাকার গোলাম খালেক চৌধুরীর নামে। তরিকুল জমিটি কিনে নেওয়ার দাবি করছেন। জমিটি নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর সহকারী জজ আদালতে মামলা চলছে। কিন্তু ২০১৪ সাল থেকে তরিকুল জীবননাশ ও উচ্ছেদের হুমকি দিচ্ছেন।

জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে স্মারকলিপি দিলেও সুবিচার পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০১৪ সালের ২১ অক্টোবর তরিকুলের নেতৃত্বে প্রায় ২০০ লোক ককটেল, হাঁসুয়া, কাস্তে, রামদা, লাঠি নিয়ে টংপাড়া গ্রামে ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও উচ্ছেদের চেষ্টা করে। এতে আদিবাসী ও স্থানীয় বাঙালি জনগণ বাধা দিলে তারা পালিয়ে যায়। ২০১৬ সালের ১৪ আগস্ট তরিকুলের গুন্ডা বাহিনী গ্রাম ঘিরে ফেলে আগুন লাগানোর চেষ্টা করে। প্রতিরোধ করলে তারা পুকুরের পানিতে বিষ ঢেলে পালিয়ে যায়। পরদিন প্রথম আলোর চাঁপাইনবাবগঞ্জের নিজস্ব প্রতিবেদক আনোয়ার হোসেনসহ সাংবাদিকেরা সংবাদ সংগ্রহ করতে এলে তরিকুলের বাহিনী তাঁদের পিটিয়ে জখম করে।

২ জুন ১৫০ জন হাঁসুয়া, কাস্তে, রামদা, লাঠি নিয়ে টংপাড়া গ্রামে হামলা চালিয়ে সাতটি বাড়ি ভাঙচুর করে এবং নারীদের শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। এ ঘটনায় আদিবাসীদের পক্ষ থেকে থানায় মামলা করতে গেলেও মামলা নেওয়া হয়নি। তরিকুল উল্টো ৮ থেকে ১০টি মামলা করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে টংপাড়া গ্রামে ক্ষুদ্র জাতিসত্তার ভিটা ও পুকুর ভোগদখলের নিশ্চয়তাসহ চার দফা দাবি জানান আদিবাসীরা। দাবিগুলো হচ্ছে তরিকুলসহ তাঁর গুন্ডা বাহিনীর সদস্যদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ক্ষতিপূরণ প্রদান, ক্ষুদ্র জাতিসত্তার নিরাপত্তা ও স্বাধীনভাবে চলাফেরার নিশ্চয়তা এবং তরিকুলের করা মিথ্যা মামলাসমূহ প্রত্যাহার। এ ছাড়া তরিকুলকে সহায়তার অভিযোগে সদর থানার ওসিকে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন, উপদেষ্টা দেবাশীষ প্রামাণিক, আদিবাসী মুক্তিমোর্চা চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক রঞ্জনা রাণী বর্মণ, টংপাড়া গ্রামের উত্তম কুমার বর্মণ প্রমুখ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked with *

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক মন্তব্য