আটকে পড়া পাকিস্তানিদের ক্যাম্প থেকে উচ্ছেদে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে মামলা

আটকে পড়া পাকিস্তানিদের ক্যাম্প থেকে উচ্ছেদে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে মামলা

আটকে পড়া পাকিস্তানিদের মিরপুরের ৩৯টি ক্যাম্প থেকে ‘উচ্ছেদ চেষ্টা’ ঠেকাতে ঢাকার একটি আদালতে মামলা হয়েছে।
বুধবার ঢাকার প্রথম সহকারী জজ আদালতে উচ্ছেদ কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে এ মামলা করা হয়।

মামলায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঢাকার জেলা প্রশাসক ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়রসহ ১২ জনকে মূল বিবাদী করা হয়েছে।

এছাড়া জাতিসংঘের সমন্বয়কারী ও প্রতিনিধি এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানসহ তিন জনকে সহ-বিবাদী (মোকাবেলা বিবাদী) করা হয়েছে।

পল্লবীর ফুটবল গ্রাউন্ড ক্যাম্পের বাসিন্দা ও ‘উর্দু স্পীকিং পিপলস ইউথ রিহ্যাবিলিটেশন মুভমেন্ট’র সভাপতি মো: সাদাকাত খাঁন ফাক্কুসহ ৩৪ জন উর্দুভাষী বাদী হয়ে এ মামলা করেন বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান তাদের আইনজীবী হাবিবুর রহমান মিজান।

প্রথম সহকারী জজ আদালতের বিচারক মঞ্জুর হোসেন মামলাটির গ্রহণযোগ্যতা শুনানির জন্য রেখেছেন। আগামী সপ্তাহের যে কোনো দিন এর শুনানি হবে।

আরজিতে বলা হয়- ভারতীয় উপ-মহাদেশের বিভক্তির প্রেক্ষাপটে বাদীদের পূর্বপুরুষরা ১৯৪৭ সালে ভারতের উত্তর প্রদেশ, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ থেকে সবকিছু ত্যাগ করে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য ‘ধর্মীয় আবাসভূমি’ পূর্ব পাকিস্তান আসেন।

১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীনের পর সরকার এই জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে তাদের শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে একত্রিত করে বৃহত্তর মিরপুরের ১০,১১ ও ১২ নম্বর সেকশন এবং পল্লবীর খালি জায়গায় রেডক্রসের সহায়তায় ক্যাম্প স্থাপন করে। ১৯৭২ সাল থেকে এসব ক্যাম্পে তারা বসবাস করে আসছেন।

পরে এ ভূমিতে বৈধ আইনি সত্তা নিয়ে রেশন কার্ড পেয়ে বিহারী ক্যাম্প নামে পরিচিত এসব জমির ভোগ দখলে আছেন তারা। কিন্তু বিভিন্ন সময়ে এ জমি দখলের জন্য ‘বহিরাগতরা’ চেষ্টা চালায়। এমনকি সিটি করপোরেশন ও জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষও এই জমি ‘দখলের’ জন্য কয়েক দফা ‘হামলা’ চালায়।

সংস্থা দুটি কোন প্রকার নোটিস না দিয়ে তাদের উচ্ছেদের চেষ্টা চালায় অভিযোগ করে আরজিতে বলা হয়, এর বিরুদ্ধে ২০০১ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত সুপ্রীম কোর্টে ৯ টি রিট আবেদন করা হয়।

এর প্রেক্ষিতে আপিল বিভাগ বলেন- উর্দুভাষীদের কোন জায়গায় কোন ক্যাম্প তা বিতর্কিত বিষয় হওয়ায় এটি নির্ধারণের উপযুক্ত এখতিয়ার রয়েছে দেওয়ানী আদালতের।

পরে ২০১৪ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মিরপুরের ৩টি এবং মোহাম্মদপুরের ২টি ক্যাম্পের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকা এসব মানুষকে ঢাকার পাশে সুবিধাজনক জায়গায় পুনর্বাসনের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন।

কিন্তু এসব উপেক্ষা করে সিটি করপোরেশন মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনের কাশ্মিরী মহল্লা বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়।

গত জুন মাসে সিটি করপোরেশন আবার নতুন করে উচ্ছেদ চেষ্টা চালায় অভিযোগ করে মামলার বাদীরা বলছেন- তখন সিটি করপোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলামের সঙ্গে তারা একটি ‘সমঝোতা পত্র’ স্বাক্ষর করেন। সে অনুযায়ী মেয়রও উচ্ছেদ না করার আশ্বাস দেন।

কিন্তু ওই চুক্তি এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের সিদ্ধন্ত ভেঙ্গে ৪৬ বছর ধরে এসব জমির ভোগদখলকারী এই জনগোষ্ঠীকে উচ্ছেদের জন্য নতুন করে তোড়জোড় শুরু হয়েছে।

আরজিতে এই ৩৯টি ক্যাম্পের ৭০ হাজার উর্দুভাষীকে উচ্ছেদ না করার জন্য নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked with *

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক মন্তব্য