‘দারিদ্র্য দূরীকরণ’ এবং ‘অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির’ প্রত্যাশা নিয়ে এবছরের জাতিসংঘের হাই লেভেল পলিটিক্যাল ফোরাম শুরু

‘দারিদ্র্য দূরীকরণ’ এবং ‘অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির’ প্রত্যাশা নিয়ে এবছরের  জাতিসংঘের হাই লেভেল পলিটিক্যাল ফোরাম শুরু

১১ জুলাই, নিউ ইয়র্ক থেকে পল্লব চাকমা

২০১৫ সালে বৈশ্বিক টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট বা এসডিজি ঘোষণা করার পর দ্বিতীয় বছরের মত জাতিসংঘ হাই লেভেল পলিটিক্যাল ফোরাম আয়োজন করতে যাচ্ছে তার সদর দপ্তর নিউ ইয়র্কে। এসডিজি ঘোষণা করার পর সদস্য রাষ্ট্রসমূহ সেই অভীষ্ট বাস্তবায়নের জন্য নিজ নিজ দেশে কী কার্যক্রম বা কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বা সে লক্ষে কতটুকু অগ্রগতি সাধন করেছে তা মূল্যায়নের জন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোর এই উচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক ফোরাম প্রতি বছর অনুষ্টিত হয়ে থাকে। এই বছর এই ফোরাম অনুষ্ঠিত হবে ১০-১৯ জুলাই পর্যন্ত। এবছরের জন্য মূল থিম নির্ধারন করা হয়েছে – ‘পরিবর্তনশীল বিশ্বে দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং সমৃদ্ধি আনয়ন’।

গতকাল ১০ জুলাই জাতিসংঘের সদর দপ্তর নিউ ইয়র্কে এই বছরের হাই লেভেল পলিটিক্যাল ফোরামের উদ্বোধন করেন এই আন্তর্জাতিক সংস্থার অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের প্রেসিডেন্ট ফ্রেডেরিক মুসিওয়া মাকামুরি শাভা। বিভিন্ন সদস্য রাষ্ট্রের সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন ‘কেউ বাদ যাবে না’ এই মূলমন্ত্রের মাধ্যমে সদস্য রাষ্ট্রসমূহ টেকসই উন্নয়নের জন্য যে যৌথ অঙ্গীকার করেছে তা যথাযথ বাস্তবায়ন নির্ভর করবে বাৎসরিক এই ফোরামের সফল কার্যক্রমের উপর। তিনি আরও বলেন এই বছরে ফোরাম ক্ষুধা ও দারিদ্র্য দূরীকরণ, সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণ, লিংগীয় সমতা অর্জন, পরিকল্পিত ও যথাযথ অবকাঠামো নির্মান, অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি প্রভৃতি বিষয়র উপর যে গুরুত্বপুর্ন আলোচনা হবে সেই আলোচনা থেকে সদস্য রাষ্ট্রসমূহ উপকৃত হবে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল উ হোংবো বলেন, এসডিজি’র সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন বিষয় হল সকল সদস্য রাষ্ট্র এবং বিভিন্ন অংশীজন মনেপ্রাণে এজেন্ডা ২০৩০ এর অংশীদারিত্ব নিচ্ছেন এবং তা বাস্তবায়নের জন্য এগিয়ে আসছেন। অনেক দেশ এবং প্রতিষ্ঠান নিজ দেশের সীমানার বাইরেও সমাজের পিছিয়ে পড়া এবং ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের জন্য কাজ করছেন। তিনি আরও বলেন সবাইকে এভাবে সাথে নিয়ে উন্নয়ন করে এগিয়ে যাওয়ায় হবে মানব জাতির জন্য মঙ্গলজনক।

ফোরামের কার্যক্রম অনুযায়ী ফোরামের শেষ দিকে ৩ দিন ব্যাপী মন্ত্রী পর্যায়ের সেশন অনুষ্ঠিত হবে যেখানে বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৭০ জন মন্ত্রী অংশ নিবেন বলে ধারনা করা হচ্ছে। একটি মিনিস্ট্রিয়াল ডিক্লারেশন গ্রহণের মাধ্যমে এই ফোরাম সমাপ্ত হবে। এছাড়াও দুই সপ্তাহ ব্যাপী এই ফোরামে মোট ৪৪ টি দেশের ভলান্টারি ন্যাশনাল রিভিউ রিপোর্ট উপস্থাপন করা হবে এবং সেইসব দেশে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট বাস্তবায়নে কি কি চ্যালেঞ্জ ও গ্যাপ রয়েছে সে সম্পর্কেও আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এই বছর বাংলাদেশ সরকারও ৪৪টি দেশের অন্যতম হয়ে ভলান্টারি ন্যাশনাল রিভিউ রিপোর্ট উপস্থাপন করবে। এশিয়ার অন্য আরও ১০টি দেশ এই রিভিউ কার্যক্রমে অংশ নিবে।

বাংলাদেশসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ১৫ জন আদিবাসী প্রতিনিধি এই ফোরামে অংশ নিচ্ছেন। যেসব দেশ ভলান্টারি ন্যাশনাল রিভিউতে অংশ নিচ্ছে সেসব দেশে আদিবাসীদের ভূমির অধিকার এবং এসডিজি বাস্তবায়নের পরিকল্পনায় এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় বিশেষ করে স্থানীয় এবং আঞ্চলিক পর্যায়ে আদিবাসীরা যেন বাদ না যান, আদিবাসীদের যথাযথ অংশগ্রহণ যেন নিশ্চিত হয় সেজন্য আদিবাসী প্রতিনিধিরা এই ফোরামের বিভিন্ন অধিবেশনে এবং সাইড ইভেন্টগুলোতে তাদের দাবি তুলে ধরবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked with *

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক মন্তব্য