রায়গঞ্জে আদিবাসী সমন্বয় কমিটির হুঁশিয়ারি

রায়গঞ্জে আদিবাসী সমন্বয় কমিটির হুঁশিয়ারি

মাঝে মাত্র দুদিনের সময়, চার আদিবাসী মহিলাকে পুর বাসস্ট্যান্ডে নির্যাতনের ঘটনায় এবার উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ পুরসভার উপ-পুরপিতাকে গ্রেফতারের দাবি জানালো উত্তর দিনাজপুর আদিবাসী সমন্বয় কমিটি। পাশাপাশি দোষীদের শাস্তির দাবিতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে আন্দোলনকে নিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিল সমন্বয় কমিটি। শুক্রবার উত্তর দিনাজপুর জেলা শাসকের কাছে এই বিষয়ে স্মারকলিপিও জমা দেন কমিটির সদস্যরা।

তৃণমূল এসটি-এসসি সেলের আদিবাসী সংগঠনের উত্তরবঙ্গের সভাপতি তথা কমিটির সদস্য স্যামুয়েল মার্ডি বলেন, আদিবাসী মহিলাদের সম্মান রক্ষার জন্য আমরা রক্তের শেষ বিন্দু পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবো। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে রাজ্যের প্রতিনিধি দল আমাদের সাথে দেখা করেছিল ঠিকই কিন্তু তাঁরা কেউই কথা রাখেননি। পুরবাস স্ট্যান্ড এলাকার হোটেল ব্যবসায়ী ও ইউনিয়নের নেতা অরিন্দম সরকারকে গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়েছিল কিন্তু তাও এখনও হয়নি। আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে দুই দোষীকে গ্রেফতার করা না হলে আগামী ৩১ আগষ্ট জেলা জুড়ে পথ অবরোধের ডাকও দেন স্যামুয়েল মার্ডি। এছাড়াও তিনি বলেন ইতিমধ্যেই দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন আদিবাসী সংগঠনগুলির সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে। প্রতিবাদের ঝড় উঠবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে। দোষীদের শাস্তির দাবি জানানো হবে রাষ্ট্রপতি রাজ্যপালের কাছেও। এবং আগামী সাতদিনের মধ্যে দোষীদের গ্রেফতার করা না হলে তৃণমূলের সকল আদিবাসী নেতারা তাঁদের পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন বলেও সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে দাবি করেন স্যামুয়েল। তাঁর হুঁশিয়ারি, দুটি ওয়ার্ডের ভোট প্রয়োজন নাকি রাজ্যের হাজার হাজার আদিবাসীর ভোট বেশি গুরুত্বপূর্ণ এই সিদ্ধান্ত নিতে হবে মুখ্যমন্ত্রীকেই। এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে উপ-পুরপতি অরিন্দম সরকার বলেন, আসল ঘটনা থেকে নজর ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্যই এই চক্রান্ত করা হচ্ছে। এর পেছনে রয়েছে তৃণমূলেরই কিছু নেতা। যারা এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার হয়েছে তারা কেউই আইএনটিটিইউসির সদস্য নয়। শুধুমাত্র আমাকে হেনস্তা করার জন্যই দলেরই কিছু নেতা এই চক্রান্ত করছে বলেও মন্তব্য করেন উপ-পুরপতি অরিন্দম সরকার।

এদিকে আদিবাসীদের এই চরম আন্দোলনের হুমকিতে অস্বস্তিতে জেলা পুলিশ প্রশাসন। এমনিতেই আদিবাসী মহিলাদের নিগ্রহের ঘটনায় দীর্ঘ ২০ দিন ধরে উৎকন্ঠা আর অশান্তির পরিবেশ রায়গঞ্জ শহর জুড়ে। ৯ই জুলাই এই ঘটনার পর প্রতিবাদ জানিয়ে আদিবাসীদের পাঁচটি সংগঠন গত ১৪ই জুলাই শহর জুড়ে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ সহ বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটায়। ক্ষতিগ্রস্ত হন রায়গঞ্জ শহরের ব্যাবসায়ীরা। প্রতিবাদে ব্যাবসায়ীরাও টানা দুদিন বন্ধ পালন করে। আজও আদিবাসী তান্ডবের আতঙ্কে রায়গঞ্জ শহরবাসী। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ও আদিবাসীদের সাথে কথা বলতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে রায়গঞ্জে আসেন আদিবাসী কল্যাণ মন্ত্রী জেমস কুজুরের নেতৃত্বে তিন মন্ত্রী। তারা আশ্বাস দেন এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও আদিবাসীদের দাবি পূরণ করা হবে। এরপরেও তাদের দাবি মতো আরও দুজনকে গ্রেফতার করা হয়নি। আদিবাসীদের পক্ষ থেকে আরও দু’দিন সময় দেওয়া হল, যদি এরমধ্যে ওই দুজনকে গ্রেফতার না করা হয় তবে ৩১শে জুলাই উত্তর দিনাজপুর জেলার সমস্ত সড়ক অবরোধ করে দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি আগামী সাতদিনের মধ্যে রাজ্যের সব আদিবাসী তৃণমূল নেতা একযোগে পদত্যাগ করবে বলে হুমকি দেন আদিবাসী সমন্বয় কমিটি। ফলে আবারও আদিবাসী আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠতে পারে এই আশঙ্কায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি জেলা পুলিশ প্রশাসন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked with *

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক মন্তব্য