ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় আদিবাসীদের নীতি-আদর্শগত সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে

ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় আদিবাসীদের নীতি-আদর্শগত সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে

দেশের আদিবাসীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠাক্ষেত্রে নীতি-আদর্শগত সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সভাপতি শ্রী জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা)। আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে আজ ৯ই আগস্ট ২০১৭ ইং ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিশাল আদিবাসী সমাবেশে সন্তু লারমা এ মন্তব্য করেন। প্রতিবছরের ন্যায় এবছরও জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসকে সামনে রেখে আজ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দিনব্যাপী বর্ণাধ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম। সকাল ১০.০০টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া অনুষ্ঠান বেলুন উড়িয়ে উদ্বোধন ঘোষণা করেন দেশবরেণ্য শিক্ষাবিদ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড: মুহাম্মদ জাফর ইকবাল।

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদব বিশিষ্ট কলাম লেখক ও মানবাধিকারকর্মী সঞ্জীব দ্রং-এর পরিচালনায় এবং বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সভাপতি শ্রী জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা)-র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এমপি। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক শক্তিপদ ত্রিপুরা, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন, মানবাধিকারকর্মী খুশী কবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেসবাহ কামাল, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ, সিপিবির মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট রানা দাশগুপ্ত, চাকমা সার্কেল চীফ ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায় প্রমুখ।

সন্তু লারমা বলেন, “দেশের আদিবাসীরা আজ ভালো নেই। শোষণ-নিপীড়ন-বঞ্চনার যাতাকলে পিষ্ট আজ আদিবাসী সমাজ। শাসকশ্রেণীর এই শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হলে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের কোন বিকল্প নেই। তাই দেশের আদিবাসীদের অধিকার প্রতিষ্ঠাকল্পে ঐক্যবদ্ধভাবে নীতি-আদর্শগত সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। দেশের আপামর প্রগতিশীল মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিপীড়িত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে পারে।”

উদ্বোধনী বক্তব্যে ড: মুহাম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, “বৈচিত্রের মধ্যেই সৌন্দর্য নিহিত। দেশের আদিবাসীরা, জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা ভালো আছেন কিনা তা দিয়ে একটি দেশ কেমন চলছে তা সহজেই বুজা যায়। দেশের সার্বিক অবস্থা ভালো নেই তা আদিবাসীদের জীবনযাত্রা দেখলে অণুধাবন করা যায়। তারপরেও দেশের সামগ্রিত বিকাশের স্বার্থেই এদেশে আদিবাসীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা পাওয়া জরুরী। তার জন্য প্রয়োজন সাংবিধানিক অঙ্গীকার।”

প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাশেদ খান মেনন বলেন, “মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের অধিকার প্রতিষ্ঠাক্ষেত্রে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে।”

“আদিবাসী অধিকার বিষয়ক জাতিসংঘ ঘোষণাপত্রের এক দশক”- এই প্রতিপাদ্যকে সামনের রেখে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিল আদিবাসী সমাবেশ, প্রতিবাদী গান ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং রেলী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked with *

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক মন্তব্য