পিসিপি বান্দরবান জেলা শাখার ১৭তম বার্ষিক সম্মেলন ও কাউন্সিল সম্পন্ন

পিসিপি বান্দরবান জেলা শাখার ১৭তম বার্ষিক সম্মেলন ও কাউন্সিল সম্পন্ন

“সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুঁখে দাড়াও, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের আন্দোলনে ছাত্র জনতা ঝাঁপিয়ে পড়” এই শ্লোগানকে সামনে রেখে গত ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ফারুখপাড়া কমিউনিটি হলে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, বান্দরবান জেলা শাখার ১৭তম বার্ষিক সম্মেলন ও কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত সম্মেলনে পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ বান্দরবান জেলা শাখার সভাপতি উবাসিং মারমা সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের বান্দরবান জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক অজিত ত ঙ্গার সঞ্চালনায় প্রথম অধিবেশনে প্রধান অথিতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবং আ লিক পরিষদের সম্মানিত সদস্য কে এস মং মারমা। বিশেষ অথিতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি বান্দরবান জেলা শাখার সহ-সভাপতি এবং রুমা উপজেলা চেয়ারম্যান অংথোয়াইচিং মারমা, পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারন সম্পাদক সুমন মারমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশন বান্দরবান জেলা শাখার সভাপতি শান্তি দেবী তঞ্চঙ্গা ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির বান্দরবান জেলা কমিটির সভাপতি উছোমং মারমা।

আলোচনাসভায় শুরুতে সকাল ১০ঘটিকায় জাতীয় সঙ্গীত ও দলীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে জাতীয় পতাকা এবং দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করা হয়। সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বান্দরবান সরকারী কলেজ শাখার সাধারন সম্পাদক প্রু নু অং মারমা এবং তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের বিবধমান বাস্তবতা তুলে ধরেন। তাছাড়া শাসকগোষ্ঠী বিভিন্ন কায়দায় পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত পাহাড়ী জনগোষ্ঠীকে সংখ্যালঘু থেকে সখংখ্যালঘুতে পরিণত করার জন্য সর্বোপরি বিলুপ্ত করার জন্য নানান রকমের ষড়যন্ত্রের। তাস্বত্বেও পিসিপি ভিন্ন ভাষা-ভাষি ১৪টি আদিবাসী জুম্ম জনগোষ্ঠীর মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তাই শাষক গোষ্ঠীর এই ষড়জন্ত্রকে প্রতিহত করতে ছাত্র-যুব সমাজের এগিয়ে আসার জন্য উদাত্ত আহবান জানান।

প্রধান অথিতির বক্তব্যে কে এস মং মারমা বলেন, পিসিপি একটি প্রতিষ্ঠানের নাম, বিপ্লবী সংগঠনের নাম, একটি রাজনৈতিক দলের নাম, লাখো জুম্ম জনগনের আস্থার নাম। পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা এবং সুদীর্ঘ লড়াই সংগ্রামের গৌরবময় ইতিহাস রয়েছে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে রক্তাক্ত সংগ্রামের মধ্য দিয়ে পিসিপির জন্মলাভ করে। পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ কখনো আপস করেনা, শাসকগোষ্ঠীর চোখ রাঙানিকে কখনো ভয় করেনা, বন্দুকের নলের সামনে দাঁড়িয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করতে ও কখনো দ্বিধাবোধ করেনি। ১৯৮৯ সালে ৪ঠা মে লংগদুর গনহত্যার প্রতিবাদে এবং রক্ত হোলিখেলা থেকে ১৯৮৯ সালে ২০ মে এই পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের জন্ম হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের এই ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য পিসিপি নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান। তাছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামে সামগ্রিক বাস্তবতা সম্পর্কেও পর্যালোচনা করতে গিয়ে তিনি আরো বলেন, ১৯৯৭ সালে ২রা ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও এখনো পর্যন্ত চুক্তি মৌলিক বিষয়গুলো সরকার বাস্তবায়ন করেনি। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়িত না হওয়ার কারনে জুম্ম জনগনের মনে হতাশা আর ক্ষোভ তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। এই ক্ষোভ একদিন পার্বত্য চট্টগ্রামে ফেঁঠে পড়বে এবং চুক্তি বাস্তবায়ন করতে সরকার বাধ্য হবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষে পার্টির কর্তৃক ঘোষিত অসহযোগ আন্দোলনে ছাত্র সমাজকে এগিয়ে আসার আহব্বান জানান। পিসিপি আগে যেমনি এক হাতে বই, আরেক হাতে লড়াইয়ের নিশান নিয়ে মাঠে কাজ করেছে তেমনি বর্তমান পিসিপি কর্মীদের সেভাবে কাজ করে যাওয়ার আহবান জানান।

অংথোয়াইচিং মারমা বলেন, বর্তমান ছাত্র-যুব সমাজকে ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহন করতে হবে। অতীতে পার্বত্য চট্টগ্রামে যখনি বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড, ধর্ষণ, নিপীড়ন-নির্যাতন, গুম, ভূমি বেদখল হয়েছে, তখনি ছাত্র-যুব সমাজ প্রতিবাদ করেছে এবং রুখে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি এর চইতেও ভয়াবহ পরিস্থির দিকে ধাবিত হচ্ছে। তাই ছাত্র ও যুব সমাজকে এই অন্যায়ের প্রতি তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

বক্তব্যে পিসিপি কেন্দ্রীয় সাধারন সম্পাদক সুমন মারমা বলেন, আজ আমাদের সংগঠন করার স্বাধীনতা, বাক স্বাধীনতা নেই। পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপত্তা দেওয়ার নামে শাসক গোষ্ঠী আজ অবরুদ্ধ করে রেখেছে। সেনা ক্যাম্প সম্প্রসারনের নামে, পর্যটনের নামে, বনায়নের নামে চোখের সামনে ভূমি বেদখল করা হচ্ছে। তিনি ছাত্র-যুব সমাজের উদ্দেশ্য বলেন, সাহসিকতা মানে সবসময় গর্জে উঠা নয়, সাহসিকতা মানে সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপে গর্জে উঠা। পার্বত্য চট্টগ্রামের চলমান বাস্তবতার আলোকে ছাত্র যুব সমাজকে সাহসিকতার পরিচয় দেওয়ার আহবান জানান।

বিশেষ অতিথিদের বক্তব্যের পর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ বান্দরবান জেলা শাখার সভাপতি উবাসিং মারমার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সম্মেলন ও কাউন্সিলের প্রথম অধিবেশন সমাপ্তি ঘোষনা করেন।

পরবর্তীতে বেলা ২:০০ ঘটিকায় সম্মেলনের ২য় অধিবেশনে শুরু হয়। ২য় অধিবেশনে সংগঠনের বান্দবান জেলার সভাপতি উবাচিং মারমার সভাপতিত্বে প্রধান অথিতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি বান্দরবান জেলা কমিটির সভাপতি উছোমং মারমা। বিশেষ অথিতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেনপার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি বান্দরবান জেলার সদর থানা কমিটির সভাপতি উচসিং মারমা , পার্বত্য চট্টগ্রাম যুব সমিতি, বান্দরবান জেলা কমিটির সভাপতি মস্তু মারমা। দ্বিতীয় অধিবেশনের শুরুতে পর্যবেক্ষক ও প্রতিনিধিদের সামনে বান্দরবান জেলা পিসিপির সাংগঠনিক রিপোর্ট পেশ করেন পিসিপি বান্দরবান জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অজিত ত ঙ্গা। এরপর বান্দরবান জেলার ভিবিন্ন থানা থেকে আসা প্রতিনিধি বৃন্দরা নিজেদের সাংগঠনিক এলাকার স্ব স্ব প্রতিবেদন পেশ করেন।

সবশেষে ১৭তম কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে অজিত ত ঙ্গাকে সভাপতি, প্রু নু অং মারমাকে সাধারন সম্পাদক ও পরিমল চাকমাকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ২১ সদস্য বিশিষ্ট বান্দরবান জেলা কমিটি এবং ৮ম কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে থোয়াইক্য যাই চাককে সভাপতি, বাঅং সিং মারমাকে সাধারন সম্পাদক ও গোপাল চন্দ্র চাকমাকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ১৯ সদস্য বিশিষ্ট বান্দরবান সরকারি কলেজ কমিটি ঘোষনা করা হয়। নবগঠিত কমিটিদ্বয়কে শপথ বাক্য পাঠ করান পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মিন্টু ত্রিপুরা।

পরিশেষে সভাপতি উবাচিং মারমার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতা সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked with *

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক মন্তব্য