শাসকগোষ্ঠী অস্ত্র ভাষা প্রয়োগ করলে জুম্ম জনগণও সে ভাষাতেই উত্তর দিবেঃ সন্তু লারমা

শাসকগোষ্ঠী অস্ত্র ভাষা প্রয়োগ করলে জুম্ম জনগণও সে ভাষাতেই উত্তর দিবেঃ সন্তু লারমা

চুক্তি বাস্তবায়নের লড়াইয়ে শাসকগোষ্ঠী অস্ত্র ভাষা প্রয়োগ করলে নিরস্ত্র এক জুম্মও বাধ্য হয়ে অস্ত্র ভাষা প্রয়োগ করতে পারে। জুম্ম জনগণ পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে বৃহত্তর আন্দোলন চালিয়ে যাবে এবং পার্বত্য চুক্তি বিরোধী ও জুম্ম স্বার্থ পরিপন্থী সকল প্রকার কার্যক্রম প্রতিরোধ করবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির যথাযথ বাস্তবায়ন করা না হলে পার্বত্য চট্টগ্রামে আগুন জ্বলবে।

শনিবার, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি কর্তৃক পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির দুই দশকপূর্তি উপলক্ষ্যে রাজধানীর ডেইলী স্টার ভবনে এক আলোচনা সভায় জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সামগ্রিক বাস্তবতা আজ অত্যন্ত নাজুক । জুম্ম জনগোষ্ঠীর আজ পেছনে যাওয়ার জায়গা নেই। পার্বত্যবাসীরা বিশেষত জুম্ম জনগণ নিরাপত্তাহীন ও অনিশ্চিত এক চরম বাস্তবতার মুখোমুখী হয়ে কঠিন জীবনযাপনে বাধ্য হচ্ছে। জুম্ম জনগণ এই শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে আজ সংকল্পবদ্ধ।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সদস্য দীপায়ন খীসার সঞ্চালনায় এবং ঐক্যন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য্যর সভাপতিত্বে আমন্ত্রিত অতিথি ও আলোচকবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি ও আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি, বিশিষ্ট কলামিষ্ট ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সাবেক মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক শক্তিপদ ত্রিপুরা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ভারপ্রাপ্ত ডীন অধ্যাপক সাদেকা হালিম, শিক্ষক অধ্যাপক মেজবাহ কামাল, রোবায়েত ফেরদৌস, সৌরভ শিকদার, জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, বাসদের প্রেসিডিয়াম সদস্য রাজেকুজ্জামান রতন, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ তালুকদার, গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতি নুরুল রহমান সেলিম, লেখক ও সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদক গোলাম মোর্তোজা, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদাসহ বিভিন্ন আদিবাসী ও প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

আলোচনা সভার সূত্রপাতে জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২০তম বর্ষপূর্তি আজ। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার সমাধান করার লক্ষ্যেই পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু চুক্তির ২০ বছর অতিক্রান্ত হবার পরেও এখনো চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলোরও বাস্তবায়ন না হওয়ায় পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা দূর হয়নি। উপরন্তু পার্বত্য চুক্তিকে উপেক্ষা করে সরকারী, বেসরকারী উদ্যোগে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে প্রতিনিয়ত বহিরাগত সেটেলার বাঙালী ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিস্পত্তিকরণ, তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ নির্বাচন, আঞ্চলিক পরিষদ নির্বাচন প্রভৃতি মৌলিক বিষয়গুলো এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার সমাধান করতে হলে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। চুক্তির ২০তম বর্ষপূর্তিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তিন পার্বত্য জেলায় ভিডিও কনফারেন্সে দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার দেওয়া বক্তব্যে অনেকগুলো বিতর্কিত বিষয় উত্থাপন করেছিলেন যেগুলো আদতে সত্য নয়। পর্যটন শিল্প, বেসামরিক প্রশাসন, সামরিক প্রশাসন প্রভৃতি বিষয়গুলো জেলা পরিষদে হস্তান্তর করাসহ চুক্তির ৭২ টি ধারার ৪৮ টি ধারা বাস্তবায়ন হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে দাবী করা হলেও তা শুভঙ্করের ফাঁকি ভিন্ন কিছু নয়। তিনি ১৯৯৭ সালের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য আর বর্তমানে দেওয়া বক্তব্যের মধ্যে আকাশ পাতাল ব্যবধান বলেও অভিযোগ করেন।

তিনি আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিকের মান উন্নয়ন না করে রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজ স্থাপন করে প্রকৃতপক্ষে শিক্ষাকে রাজনৈতিক পণ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। পর্যটনের নামে সেনাবাহিনী জোরপূর্বক জুম্ম জনগোষ্ঠীর ভূমি বেদখল করে তাদের ভিটেছাড়া করছে। ভূমি বিরোধ নিস্পত্তির জন্য যে ভূমি কমিশন সে কমিশন এখনো কার্যকর না হওয়ার দরুন ভূমি বিরোধ এখনো রয়ে গেছে। ভূমি কমিশনে তহবিল না থাকার দরুন ভূমি কমিশনের কাজ এখনো মুখ থুবড়ে পরে আছে। সরকারের পক্ষ থেকে চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য আঞ্চলিক পরিষদ অসহযোগিতা করছে এ ধরণের বক্তব্য আদতে সরকারের চুক্তি বাস্তবায়নের অসদিচ্ছা, অক্ষমতা, অসামর্থ্যরে পরিচায়ক। শুধু তাই নয়, পার্বত্য চট্টগ্রামে আজ ২০ বছর যাবত সেনাশাসন বিরাজমান। অপারেশন উত্তরণের নামে প্রতিদিন পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাকর্তৃক জুম্ম জনগোষ্ঠীর উপড় শারীরিক নির্যাতন, নিপীড়ন, মিথ্যে মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল চাকুরীতে জুম্মদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা চুক্তিতে লিপিবদ্ধ থাকলেও পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রায় সকল সরকারী কার্যালয়ে আজ অধিকাংশই বাঙ্গালী জনগোষ্ঠীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চুক্তি বিজয়ের মাসেই করা হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের বহুত্ববাদী চেতনায় সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের ভিত্তিতেই প্রকৃত গণতান্ত্রিক পরিবেশের সৃষ্টি হবে।

রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, যে বিজয়ের মাসে পার্বত্য চুক্তি হয়েছিল, সে বিজয়ের মাসেই সামরিক শাসক এরশাদের পতন ঘটেছিল। সুতরাং, পার্বত্য এলাকায় কখনো সামরিক শাসন চলতে পারেনা।

গোলাম মোর্তজা বলেন, বিশ্বের অনেক জায়গা রয়েছে যেগুলো বিশেষ শাসিত অ ল হিসেবে পরিগণিত হয় । পার্বত্য চুক্তির মধ্যে দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশ রাষ্ট্র থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার যে সম্ভাবনা ছিলো সেটা ভন্ডুল হয়ে যায়। সুতরাং চুক্তি বাস্তবায়ন করা হলে কখনো পার্বত্য চট্টগ্রাম এ দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হবেনা।

আবু সাঈদ খান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় স্বাধীন বাংলাদেশ কখনো মুসলমানের রাষ্ট্র, বাঙালীর রাষ্ট্র হবে এমনটা কথা ছিলোনা। গণপ্রজাতন্ত্রের চেতনা-ই ছিলো মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান চেতনা। সুতরাং প্রকৃত অর্থে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করে পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থানীয় শাসনব্যবস্থার মাধ্যমে আদিবাসীদের রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশিদারিত্বের ব্যবস্থা করা দরকার ।

রাশেদ খান মেনন বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা এখনো কেবলমাত্র জনসংহতি সমিতির সমস্যার মধ্যে আছে। এ সমস্যাকে জাতীয় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা না গেলে আসলে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে না।
অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন হওয়ার অন্যতম প্রধান তিনটি কারণের কথা তিনি উল্লেখ করে বলেন, পাহাড়ী এবং বাঙালী বিভেদকরণ, দেশের সার্বভৌমত্বের নিরাপত্তার প্রশ্নে প্রশাসন ও সরকারকে ভুল তথ্য প্রেরণ, পার্বত্য চুক্তি সামরিক চুক্তি নয় রাজনৈতিক চুক্তি, এ সত্যটি মেনে না নেওয়ার অভাব এ তিনটি কারণে এখন পর্যন্ত পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের মুখ দেখছে না। তিনি ভূমি বিরোধ নিস্পত্তি হয়ে গেলে চুক্তির অন্যন্য বিষয়গুলোও বাস্তবায়িত হবে বলে উচ্চারণ করেন।
সৌরভ শিকদার বলেন, চুক্তির একটি ধারার এক অংশ বাস্তবায়িত করে অপর অংশ অবাস্তবায়িত অবস্থায় রেখে সে ধারার পূর্ণ ও যথাযথ বাস্তবায়ন হয়েছে বলে দাবী করা যায় না। তিনি বলেন অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে একটি সংস্কৃতি চালু করা হয়েছে, বাঙালীদের মধ্যে আধিপত্যবাদের সংস্কৃতি আর পাহাড়ীদের মধ্যে সংকীর্ণতার, ভয়ের সংস্কৃতি যার কারণে সমতার প্রয়োগ হচ্ছে না।

কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে সরকারের মিথ্যাচারের কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি বর্তমানে ভয়ংকর অবস্থার দিকে ধাবিত হচ্ছে। তিনি কথা প্রসঙ্গে বলেন, দেশের নির্যাতিত মানুষদের প্রতি দরদ না দেখিয়ে রোহিঙ্গাদের দরদ দেখানো দ্বিচারিতার সামিল । তিনি পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে যে কোন লড়াই সংগ্রামে সর্বদা পাশে থাকবেন বলেও আশ্বাস প্রকাশ করেন।
নুরুল ইসলাম সেলিম বলেন, প্রশাসনের ভিতরে কিছু মহল রয়েছে যারা এ চুক্তি বাস্তবায়িত হোক সেটা চায় না।
নুমান আহমেদ খান বলেন, আ লিক পরিষদকে একটি অথর্ব প্রতিষ্ঠান হিসেবে ফেলে রাখা হয়েছে যার ক্ষমতা একটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়েও কম। অথচ চুক্তি অনুযায়ী আ লিক পরিষদ পার্বত্য চট্টগ্রামের সর্বময় ক্ষমতার প্রতিষ্ঠান হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার কথা ছিলো।
অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম বলেন, পাবর্ত্য চুক্তির ভিত্তি ছিল ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি। অর্থাৎ চুক্তির মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামকে একটি সায়ত্বশাসিত অ ল হিসেবে স্বীকার করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ এবং অন্যন্য এজেন্সির মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্মদের ভূমি বেদখলের একটা সূক্ষ্ম প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। ভারতের সেভেন সিস্টার্সের আদিবাসীদের পার্লামেন্টে যে পরিমাণ গণতান্ত্রিক অধিকার দেয়া হয়েছে সেটা বর্তমানে বাংলাদেশে অনুপস্থিত বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

ড. নূর মোহাম্মদ তালুকদার বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সেনাবাহিনী এবং প্রশাসনের মানুষেরা মুনাফা লাভের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম জনগোষ্ঠীর ভূমি বেদখল করে রিসোর্ট, ট্যুরিস্ট স্পট তৈরী করছে।
এ্যাড. রানাদাশ গুপ্ত বলেন, ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ শুধুমাত্র সামরিক বিজয় লাভ করেছে প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের বিজয় পাওয়া যায়নি। তিনি জাতীয় স্বার্থে সংবিধানে আদিবাসীদের আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে রাষ্ট্রকে সমতার, সাম্যর রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য সরকারের কাছে আহ্বান জানান ।
শামসুল হুদা বলেন, সরকার যেহেতু চুক্তি করেছে সুতরাং সরকারকেই চুক্তি বাস্তবায়নে এগিয়ে আসতে হবে। ভূমি কমিশন সচল করতে হবে। ভূমি বিরোধ নিস্পত্তিকরণে দ্রুত রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে।
প্রফেসর মেজবাহ কামাল বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি একটি ঐতিহাসিক চুক্তি। যে সরকার সে ঐতিহাসিক চুক্তি করেছিল সে সরকার বর্তমানে চুক্তি বাস্তবায়নে অপারগ আচরনকে ঢাকার জন্য মিথ্যাচারের আশ্রয় নিচ্ছে। অথচ মুক্তিযুদ্ধের যে বাঙালী জাতীয়তাবাদ সে জাতীয়তাবাদের সাথে একাত্ম হয়ে দেশের আদিবাসীরা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন নিজেদের জাতীয়তাবাদের মুক্তির আশায়। দেশে বাঙালী ছাড়াও অন্যন্য আদিবাসীদের সমানাধিকার প্রদান করার জন্য পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের বিকল্প নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি পার্লামেন্টে আদিবাসীদের জন্য পৃথক আসন সংরক্ষণেরও দাবী জানান।
সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, আজ আদিবাসীরা রাষ্ট্রের যে অত্যাচার সে অত্যাচারের যাঁতাকলে পিষ্ঠ হচ্ছে। সরকার চুক্তির ৭২ টি ধারার মধ্যে ৪৮ টি ধারা বাস্তবায়ন হয়েছে বলে সরকারের যে মিথ্যাচার তিনি সে মিথ্যাচারের প্রবল সমালোচনা করেন। রাষ্ট্র, সরকার চুক্তি নিয়ে ভাওতাবাজী শুরু করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে পঙ্কজ ভট্টাচার্য্য বলেন, সংবিধানে সাম্প্রদায়িকরনের, আধিপত্যবাদের সূক্ষ্ম বীজ বপন করা হয়েছে। যার কারণে সমগ্র দেশ জুড়ে সাম্প্রদায়িকরণের সংস্কৃতি চলছে। গণতন্ত্রের সীমাবদ্ধতার কারণে আজ রাষ্ট্র সমতার, ন্যায়ের রাষ্ট্রে রুপান্তরিত হতে পারছে না। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে এক নিরন্তর সেনাশাসন বিরাজমান। সেনাশাসনের কারণে প্রতিনিয়ত সেখানে সাম্প্রদায়িক হামলা, নির্যাতনের মত ঘটনাগুলো ঘটে চলেছে। তিনি পার্বত্য চুক্তির প্রতিটি ধারা বাস্তবায়নসহ মুক্তিযুদ্ধের হারানো আদর্শ ফিরিয়ে আনতে প্রগতিশীল সকল দলকে একত্রে আন্দোলন সংগ্রামে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked with *

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক মন্তব্য