পাকিস্তানকে নিরাপত্তা সহায়তা বন্ধের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

পাকিস্তানকে নিরাপত্তা সহায়তা বন্ধের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

সন্ত্রাস দমনে ব্যর্থ হওয়ায় পাকিস্তানে প্রায় সব সামরিক সহায়তা বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পররাষ্ট্র দফতর জানায়, হাকানি নেটওয়ার্কে ও আফগান তালেবানের বিরুদ্ধে পাকিস্তান কার্যকরী পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত সবরকম সহায়তা স্থগিত থাকবে।
চলতি বছর নববর্ষে শুভেচ্ছায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও সন্ত্রাসে মদদের অভিযোগ তোলেন। যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশের অভিযোগ আফগান তালেবান ও হাকানি নেটওয়ার্ককে আশ্রয় দিচ্ছে পাকিস্তান। সেখান থেকেই সীমান্ত পেরিয়ে আফগানিস্তানে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছে তারা।
ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে বারবারই এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সবসময়েই পাকিস্তানের সমালোচনা করে আসছেন। পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র হেদার নরেট বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে যারা সন্ত্রাসে মদদ দেয় তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক থাকতে পারে না।

তিনি বলেন, পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়মিত যোগাযোগ থাকলও তালেবান ও হাকানি নেটওয়ার্ক সেখানে ঘাঁটি গড়েছে। তারা আফগানিস্তানে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে চায় এবং মার্কিন সেনাদের ওপর হামলা চালাতে চায়।

ঠিক কি পরিমাণ সহায়তা বন্ধ করা হবে সেটা নরেট নির্দিষ্ট করে না বললেও ২২৫ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা ইতোমধ্যে স্থগিত করা হয়েছে। টুইন টাওয়ার হামলার শিকার হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাস বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে কোটি কোটি ডলার সহায়তা পেয়েছে পাকিস্তান।

দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশেষজ্ঞর জানান, বর্তমান মার্কিন নীতি পূর্ববর্তী প্রশাসন থেকে অনেকটা কঠোর। বুশ ও ওবামা প্রশাসের সময় মার্কিন কর্মকর্তারা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানালেও প্রেসিডেন্টরা তাদের কথাবার্তায় এতটা কঠোর ছিলেন না। বরং বেশ কূটনৈতিভাবে বক্তব্য দিতেন তারা।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এবার মিষ্টি কথা কম হবে এবং পদক্ষেপ কঠিন হবে। ‘নো এক্সিট ফ্রম পাকিস্তান’ গ্রন্থের লেখব ড্যানিয়েল মার্কি বলেন, ‘এখন আমরা শুধু সহায়তা বন্ধের মতো পদক্ষেপ দেখছি। ভবিষ্যতে নিষেধাজ্ঞাও নেমে আসতে পারে। কিংবা আইএমএফের মতো প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ সহায়তাও বন্ধ হয়ে যেতে পারে। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরে কাজ করা এই লেখক আরও বলেন, এর সম্ভাবনা খুবই কম। তবে অসম্ভব নয়।

বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞরাই মনে করেন, এখনও যুক্তরাষ্ট্রকে কিছুটা সহায়তা করে পাকিস্তান। তাদের মাধ্যমেই আফগানিস্তানে অস্ত্র ও সেনা প্রবেশ করে। আর পরমাণু শক্তিধর দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ভালো সম্পর্ক রাখতে চাইবে।

পাকিস্তানিরা জানান, তারা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে অনেক কিছু হারিয়েছেন। তার এই ত্যাগকে ট্রাম্প মূল্য না দেওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ।y

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked with *

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক মন্তব্য