শিক্ষাক্ষেত্রে অবদানের জন্য সন্মাননায় ভূষিত প্রতিভা সাংমা

শিক্ষাক্ষেত্রে অবদানের জন্য সন্মাননায় ভূষিত প্রতিভা সাংমা

ডেইলি স্টার ও আইপিডিসি ফিন্যান্স লিমিটেডের উদ্যোগে “Unsung Women Nation Builders 2018” সন্মাননা পেতে যাচ্ছেন গারো আদিবাসী নারী প্রতিভা সাংমা। শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি এ সন্মাননা পাচ্ছেন। আজ ঢাকা বসুন্ধরা ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি হলে সন্ধ্যা ৬:৩০ এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ সন্মাননা তুলে দেয়া হবে।

আদিবাসী গারো অধ্যুষিত মধুপুর উপজেলার ইদিলপুর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন প্রতিভা সাংমা। বাবা মৃত সনাতন মৃ। মাতা মৃত বংগবালা চাম্বুগং। মা বংগবালা ছিলেন আদিবাসি সংস্কৃতির সমঝদার। মায়ের হাত ধরেই ১৯৩৮ সালে ময়মনসিংহ শহরের বিদ্যাময়ী স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হন। হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা। ১৯৪৯ সালে কৃতিত্বের সঙ্গে মেট্রিকুলেশ আর ৫১ সালে আনন্দ মোহন কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট। উচ্চশিক্ষা গ্রহণের ইচ্ছা থাকলেও মায়ের নির্দেশে ১৯৫২ সালে প্রথমে ময়মনসিংহ শহরের হলিফ্যামিলি এবং পরে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার সেন্টমেরি মিশনারি হাইস্কুলে শিক্ষকতায় যোগ দেন। মধুপুর বনাঞ্চলের গারোরা সে সময় শিক্ষাদীক্ষায় পিছিয়ে ছিল। নিজ সম্প্রদায়ের কথা ভেবে ১৯৬৫ সালে হালুয়াঘাটের সেন্ট মেরি মিশনারি হাইস্কুলের চাকরি ইস্তফা দিয়ে গ্রামে ফিরে আসেন। ভুটিয়া প্রাইমারি স্কুলে বিনা বেতনে শিক্ষকতা নেন। ছিলেন আশপাশের দুটি মিশন স্কুলেরও অতিথি শিক্ষক। ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরাও যাতে স্কুলে আসে এজন্য বাড়ি বাড়ি ঘুরে গারো মহিলাদের উদ্বুদ্ধ করতেন তিনি।

৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে মধুপুর বনাঞ্চলের গারোরাও সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। দেশে পুরো মাত্রায় যুদ্ধ শুরু হলে প্রতিভা আর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে আসেন। ধর্মপল্লীতে নার্স হিসাবে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা সেবা দিতেন। স্বাধীনতার পর আবার শিক্ষকতায় ফিরে যান এবং ৭২ সালে মধুপুর গার্লস হাইস্কুল প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখেন। এখানে শিক্ষকতাকালীনই ৯১ সালে অবসর নেন।

সন্মাননা প্রাপ্তি নিয়ে মুঠোফোনে কথা হল প্রতিভা সাংমার সাথে । এই সন্মাননায় বেশ উচ্ছসিত তিনি । আইপিনিউজকে জানালেন, আমি যে সন্মাননায় ভূষিত হচ্ছি তাতে আনন্দিত। আমি চাই আমাদের গারো আদিবাসীসহ নারীরা শিক্ষাক্ষেত্রে আরো এগিয়ে যাক পুরুষদের সাথে সমানতালে।

এর আগেও প্রতিভা সাংমা তার অবদানের জন্য ১৯৯৬ সালে বেসরকারি সংস্থা কারিতাস এবং ২০০২ সালে জয়েনশাহী আদিবাসি উন্নয়ন পরিষদের সম্মাননা লাভ করেন।

অনুষ্ঠানে সারা বাংলাদেশ থেকে নির্বাচিত ৭ মহিয়সী নারীকে তাদের অবদানের জন্য এ সন্মাননা পদক দিতে যাচ্ছে ডেইলি স্টার ও আইপিডিসি ফিন্যান্স লিমিটেড। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ডঃ গওহর রিজভী বিজয়ীদের হাতে এ সন্মাননা পদক তুলে দেবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked with *

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক মন্তব্য