সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় ৫ম জাতীয় হাজং সম্মেলন অনুষ্ঠিত

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় ৫ম জাতীয় হাজং সম্মেলন অনুষ্ঠিত

সোহেল হাজংঃ ‘আদিবাসী’ বলতে ‘আদিবাস’ নয়। আদিবাসীদের সংস্কৃতি বা কালচার সবকিছু নিয়ে তাদের বসবাস। তাই এটাকে ছোট চিন্তা করে ছোট গোষ্ঠী বা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ভাবা, আমিও এটাকে বিশ্বাস করি না।- এমনটাই বললেন ৫ম জাতীয় হাজং সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুনামগঞ্জ ১ আসনের মানীয় সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন ।
তিনি আরো বলেন ‘নৃ-গোষ্ঠী কিংবা ছোট গেষ্ঠী এমন বলা এটা আমার কাছেও ভাল লাগে না। আপনারাও তো মানুষ। সম্প্রদায় বিভিন্ন হতে পারে যেমন- হাজং সম্প্রদায়, গারো সম্প্রদায়, খাসি সম্প্রদায়, কিন্তু তারা আদিবাসী।’ তিনি বিশ্বান করেন, আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবি যদি সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় উত্থাপন করা হয় তাহলে মানীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অবশ্যই গুরুত্ব দেবেন। তিনি আদিবাসী হাজং ও অন্যান্যদের জন্য শুধু আদিবাসী একাডেমি নয় একটি আদিবাসী মডেল গ্রাম বানানোর প্রতিশ্রুতি দেন যেখানে তারা বিদ্যুৎ পানিসহ সকল সুযোগ সুবিধা নিয়ে বসবাস করবেন।

বাংলাদেশ জাতীয় হাজং সংগঠনের উদ্যোগে গত ৯ ও ১০ মার্চ সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাা উপজেলার ঘিলাগড়া নামক হাজং গ্রামে ‘৫ম জাতীয় হাজং সম্মেলন’ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রথমদিনের হাজং সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ ১ আসনের মানীয় সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উত্তর বংশীকুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ বিল্লাল হোসেন, চামড়দানি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকিরুল আজাদ মান্না, পাইকুরহাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফেরদৌস রহমান, সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন রোকন, বিরিশিরি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমির পরিচালক মি. শুভ্র চিরান, ময়মনসিংহ রামকৃষ্ণ মিশন ও আশ্রমের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ স্বামী ভক্তিপ্রদানন্দ জী মহারাজ, মধ্যনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেলিম নেওয়াজ, গবেষক পাভেল পার্থ, আদিবাসী ফোরামের অর্থ সম্পাদক এন্ড্রু সলমার, উন্নয়নকর্মী ইলিমেন্ট হাজং, কৃষকলীগ নেতা স্বপন হাজং, নারী নেত্রী স্বপ্না হাজংসহ অনেকে। জাতীয় হাজং সংগঠনের সভাপতি খগেন্দ্র হাজং-এর সভাপতিত্বে এ সমাবেশে অতিথিরা ছাড়াও হাজং জাতীয় নেতৃবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, হাজং ছাত্র-যুব ও নারী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। সমাবেশের শুরুতে সভাপতি খগেন্দ্র হাজং তাদের আদিবাসী হাজং ও তাদের সংস্কৃতি রক্ষায় ১০দফা দাবি নিয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে বিবৃতি পাঠ করেন। এর আগে সকালে দুইদিনের এ হাজং সম্মেলনের উদ্বোধনী ঘোষণা করেন হাজংমাতা রাশিমণি কল্যাণ পরিষদের সভাপতি মতিলাল হাজং।

সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে ‘জাতীয় হাজং সংগঠনের ইতিহাস ও বর্তমান হাজংদের অবস্থা’-এর ওপর আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া বিকেলে সংগঠনের পক্ষ থেকে ‘জাতীয় হাজং সম্মননা ২০১৮’ প্রদান করা হয়। এবারে ‘বীরত্ব’ ‘বিপ্লবী নারী’ ও ‘সমাজসেবা’ এই তিনটি বিষয়ের ওপর সম্মাননা পান যথাক্রমে বীর শহীদ নীলকণ্ঠ হাজং, কমুদিনী হাজং ও মতিলাল হাজং।

সম্মেলনের দুইদিনের সন্ধ্যায় হাজংদের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী ও শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। সারাদেশ হতে আগত একহাজারেরও অধিক হাজং লোকজন সক্রিয়ভাবে এ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked with *

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক মন্তব্য