রাজীব মীরের জীবন জয়ে প্রাণের সাথে মিলাবো প্রাণ: দীপায়ন খীসা

রাজীব মীরের জীবন জয়ে প্রাণের সাথে মিলাবো প্রাণ:    দীপায়ন খীসা

রাজীব মীর। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিভাগে অধ্যাপনা করেছেন। তারপর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। উচ্ছল প্রাণের তরুণ শিক্ষক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে ছাত্র জীবন শেষ করেছেন। শিক্ষক রাজীব মীরের সাথে যোগাযোগ যখন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনায় ছিলেন তখন থেকে। তরুণ শিক্ষক তবে বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিল সেই সময়। চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের কর্মসূচীতে আসত সংহতি জানাতে কিংবা আলোচক হিসেবে। ঢাকায় কালেভদ্রে দেখা হত। আড্ডা হত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ক্লাবে রাজীব মীরের শিক্ষক রোবায়েত ফেরদৌসের আমন্ত্রণে। আর সেই সময় আমার প্রকাশিত মাওরুম পত্রিকায়ও লিখতেন। এইভাবে ধীরে ধীরে রাজীব মীরের কাছে আসা ও ঘনিষ্ঠতা। তারপর যখন রাজীব মীর জগন্নাথে যোগ দিলেন যোগাযোগটা আরও নিবিড় হলো। সেই সাথে আদিবাসী জনগণের অধিকার আদায়ে আমাদের কাছের একজন হয়ে গেলেন। আনুষ্ঠানিক সম্পর্কের বৃত্ত ভেঙে আমাদের নিকটজন হলেন রাজীব মীর। নিছক বক্তৃতার মে কিংবা সংহতি জানানোর মধ্য দিয়ে রাজীব মীর নিজেকে আদিবাসী অধিকার আদায়ের আন্দোলনে সীমাবদ্ধ রাখেন নি।
আদিবাসী জনগণ কি পাহাড়ে, কি সমতলে যখনই আক্রান্ত হয়েছে রাজীব মীর ছুটে গেছেন। পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছেন। আক্রান্ত মানুষের বিপদে সাহস জুগিয়েছেন, প্রেরণা দিয়েছেন, অভয়বাণী শুনিয়েছেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার সময় দেশে যখন জরুরি অবস্থা জারি ছিল সেই কঠিন সময়ে, ছুটে গিয়েছিলেন বাঘাইহাটে আগুনে পোড়া পাহাড়ী জনপদে। দিঘীনালার বাবুছড়ায় বিজিবি যখন গ্রামবাসীদের উচ্ছেদ করেছিল সেই সময় পাশে গিয়ে মানুষের কথা শুনেছেন। ছুটে গিয়েছিলেন তাইন্দং এর পোড়া জনপদে। বগাছড়ির ঘরপোড়া মানুষের কাছে গিয়েছেন। বান্দরবানের খানসামা পাড়ায় মারমাাদের জায়গা-জমি বিজিবি-র অবৈধ দখল বিষয়ে সরেজমিন দলে ছিলেন।

সাঈদীর ফাঁসির রায়কে কেন্দ্র করে আক্রান্ত ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের পুড়ে ছাই হওয়া বসত ভিটায় গিয়ে সহমর্মিতা জানিয়েছেন। নোয়াখালী থেকে সাতক্ষীরা সর্বত্রই ছিলেন রাজীব মীর। রামুর বিধ্বস্ত জনপদে ঘুরেছেন মানবতার ডাকে। খাসিয়াদের পানজুম রক্ষার্থে খাসি পুঞ্জিতে গিয়েছেন, পাশে দাঁড়িয়েছেন বার বার। দিনাজপুরে আদিবাসীদের ডাকে হাজির হয়েছেন, দখল ও উচ্ছেদের বিরুদ্ধে তাদের সাথে সংগ্রামে সামিল হয়েছেন। যখনই আদিবাসী জনগণ আক্রান্ত হয়েছে, ধর্মীয় সংখ্যালঘু আক্রান্ত হয়েছে তখনই রাজীব মীর আক্রান্ত জনপদে ছুটে যেতে বিলম্ব করেন নি। আমার ভরসার অন্যতম বন্ধুটির নাম রাজীব মীর। মুঠোফোনে একবার আলাপ হলেই কখনো না বলেন নি। কি সংবাদ সম্মেলনে, কি মানব বন্ধনে, কি সংহতি সমাবেশে, কি আগুনে পোড়া জনপদে সর্বত্রই রাজীব মীরের সক্রিয় উপস্থিতি। মনে পড়ে হেফাজতের তান্ডবে আহত সাংবাদিক নাদিয়া শারমীনের চিকিৎসায় রাজীব মীরের সেই সক্রিয় মানবিকতার কথা। আমি দু একবার নাদিয়াকে হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলাম। কিন্তু রাজীব মীর সার্বক্ষণিক পাশে ছিলেন। গণ জাগরণ মঞ্চের উত্তাল দিনগুলোতে শিক্ষক রাজীব মীরের গগণ বিদারী শ্লোগান এখনও কানে বাজে।

কতদিন কবিতা পড়া হয়ে উঠেনি। গদ্যময় জীবনে কবিতা প্রায় ছুটিতে ছিল। রাজীব মীর আমাকে ফেসবুকের ইনবক্সে খন্ড খন্ড কবিতা পাঠাতেন। পাঠিয়েই ক্ষান্ত থাকেন নি। মতামত চাইতেন। রাজীব মীরের সুবাদে আবার কবিতার ছন্দে ফিরলাম। কিছুদিন পর তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ “শুধু তোমার জন্য লিখি”। এইভাবে দিন দিন রাজীব মীর নিজেকে বিকশিত করছিল। তারপর হঠাৎ ছন্দ পতন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজীব মীর চাকুরীচ্যুত হলেন। চাকুরী ফিরে পাওয়ার জন্য হাইকোর্ট-এর শরনাপন্ন হলেন। হাইকোর্ট জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে কারণ দর্শানোরও রুল জারি করলো।

আবার দীর্ঘ নিরবতা। কিন্তু রাজীব মীরের এই দীর্ঘ নীরবতার সাথে আমাদের ব্যস্ততার একটা ব্যবধান তৈরী হলো। এই ব্যবধান টা যে জীবন মরণের কাছাকাছি সেটা জানলাম এপ্রিলের শেষের দিকে। উচ্ছল প্রাণবন্ত জীবনের রাজীব লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত। যখন লেখাটা লিখছি তখন রাজীব মীর ভারতের চেন্নাই-এ লিভার প্রতিস্থাপনের জন্য হাসপাতালে প্রহর গুনছেন। সময়টাও খুব কম। ক্ষণ গণনার সাথে সাথে রাজীবের বন্ধুরাও প্রচেষ্ঠা চালাচ্ছেন। একজন চাকুরীহারা শিক্ষকের পক্ষে ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া খুবই কঠিন। তার পারিবারিক সদস্যদের জন্যও এই চিকিৎসা ব্যয় বহন করা দুরূহ বিষয়। তাই রাজীব মীরের জীবন জয়ে এগিয়ে আসতে হবে তার বন্ধুদের। প্রাণের সাথে প্রাণ মেলানোর এখনই সময়। রাজীব মীরের ফুটফুটে কন্যা শিশুটির কাছে তার বাবাকে ফিরিয়ে দিতে আসুন সকলে দ্রুততার সাথে উদ্যোগ নিই। রাজীব মীর ফিরে আসুক কবিতার ছন্দ নিয়ে, ফিরে আসুক গণ জাগরণ মে র গগণ বিদারী শ্লোগান নিয়ে। ফিরে এসে অবারও জীবনের জযগানে মেতে উঠুক। তাই আসুন যত দ্রুত সম্ভব রাজীব মীরের পাশে দাঁড়াই। মানবিতকার হাত বাড়িয়ে দিই। যারা রাজীব মীরের জীবন জয়ে শরিক হতে চান যোগাযোগ করুন-

Sayeda Farjana Yasmin
Dutch Bangla Bank SWIFT Code : DBBLBDDH
A/C # 186-103-00-1964
Dutch Bangla Bank Munshiganj Branch, Munshigan

টেলিফোনে রাজীবের ছোট বোন নিপার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন এই নাম্বারে: 01711278526


দীপায়ন খীসা,

রাজীব মীরের সুহৃদ,তথ্য ও প্রচার সম্পাদক, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked with *

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক মন্তব্য