আদিবাসী অধিকার বিষয়ক জাতিসংঘ ঘোষণাপত্রের এগারো বছরে স্থায়ী ফোরামের বিবৃতি

আদিবাসী অধিকার বিষয়ক জাতিসংঘ ঘোষণাপত্রের এগারো বছরে স্থায়ী ফোরামের বিবৃতি

সোহেল হাজং: গত ১৩ সেপ্টেম্বর। ঠিক ১১ বছর পূর্বে ২০০৭ সালের এই দিনে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে, আদিবাসী অধিকার বিষয়ক জাতিসংঘ ঘোষণাপত্রটি গৃহীত হয়। ২০১৮ সালের এই দিনে আদিবাসী বিষয়ক জাতিসংঘের স্থায়ী ফোরামের চেয়ারপার্সন মিস. মারিয়াম ওয়ালেট এম. এ্যাবাউবাক্রিণ একটি বিবৃতি দিয়েছেন। এই বিবৃতিটি বাংলায় অনুবাদ করেছেন কাপেং ফাউন্ডেশনের সদস্য সোহেল হাজং।

এগারো বছর আগে, ২০০৭ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে, আদিবাসীদের অধিকার বিষয়ক জাতিসংঘ ঘোষণাপত্রটি গৃহীত হয়। এটি আদিবাসী মানুষের অধিকারের উপর ন্যূনতম মানদণ্ড নির্ধারণ করে এবং বৈশ্বিক ঐক্যমত্য তৈরি করে। ঘোষণাপত্রটি গ্রহণের মাধ্যমে বিশ্বেজুড়ে আদিবাসীদের কয়েক দশক ধরে চলে আসা লড়াই-সংগ্রামের চূড়ান্ত পরিণতি ঘটবে বলে মনে করা হয় যা বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিশ্বের আদিবাসীদের টিকে থাকা, মর্যাদা প্রদানসহ তাদের জীবনে কল্যাণ বয়ে নিয়ে আসবে। জাতিসংঘের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো আদিবাসী জনগণ এবং সদস্য রাষ্ট্র পাশাপাশি থেকে এই ঘোষণাপত্রটির খসড়া তৈরির কাজ করে। এই সহযোগিতামূলক কাজটি একটি প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়ায় রূপ নেয় এবং এখানে এমন কোন নীতি গ্রহণ করা হয়নি যা আমাদের সম্মতি ব্যতীত আমাদের সম্পর্কে বলা হয়েছে, এই বিষয়টি ঘোষণাপত্রটির সম্পূর্ণ বাস্তবায়নে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ঘোষণাপত্রটি গ্রহণের পর থেকে, আদিবাসী জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আন্তর্জাতিক, আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়ে অনেক অগ্রগতি হয়েছে, কোন কোন সদস্য রাষ্ট্র তাদের জাতীয় আইনে এই ঘোষণাপত্রকে অন্তর্ভূক্ত করেছে। তবুও, অগ্রগতি সর্বক্ষেত্রে সমান নয়, বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলভেদে এর তারতম্য লক্ষ্য করা যায়। সারা বিশ্বব্যাপী আদিবাসী জনগণের অধিকার সম্পর্কে কার্যকরভাবে উপলব্ধি করার জন্য আমাদের এখনও লম্বা পথ পাড়ি দিতে হবে। দুর্ভাগ্যবশত, কিছু সদস্য রাষ্ট্র এখনও আদিবাসী জনগণের অধিকার, ভূমি, অঞ্চল ও সম্পদ এবং তাদের আত্মমর্যাদাকে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে। আদিবাসী জনগোষ্ঠী সাধারণত অ-আদিবাসী জনগোষ্ঠীর তুলনায় অবস্থার দিক থেকে নিম্নতর পর্যায়ে রয়েছে। আদিবাসীদের মধ্যে অনেকেই উচ্ছেদের শিকার হয়েছেন বা তাঁরা তাদের ঐতিহ্যবাহী অঞ্চল থেকে দেশান্তরিত হয়েছেন এবং কোন কোন জায়গায় রাষ্ট্র তাদের অঞ্চলকে দ্বিখণ্ডিত করেছে। আদিবাসী সম্প্রদায় ও জাতিগোষ্ঠীগুলো তাদের অধিকার রক্ষার জন্য একসাথে আন্দোলন করে। এটি করতে গিয়ে অনেক আদিবাসী নেতৃবৃন্দ এবং মানবাধিকার সুরক্ষাকর্মীদেরকে মহান আত্মত্যাগের পাশাপাশি জীবনও দিতে হয়েছে। এসবক্ষেত্রে প্রায়শই আদিবাসী নারীরা সামনের সারিতে থাকেন এবং তাদের সংগ্রাম চালিয়ে নিতে নারীদেরকেই কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালনে লক্ষ্য করা যায়।

২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত আদিবাসী জনগণের বিশ্ব সম্মেলনে, সদস্য দেশগুলি তাদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে এবং এই ঘোষণাপত্রটি বাস্তবায়ন করার জন্য সুনির্দিষ্ট কার্যক্রম গ্রহণের জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়। টেকসই উন্নয়ন এজেন্ডা ২০৩০ প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে, কাউকে পেছনে রাখা যাবে না, বরং যারা সবচেয়ে বেশি পেছনে রয়েছে তাদের কাছে সবার আগে পৌঁছানো। তবে, এজেন্ডা ২০৩০-এর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য অবশ্যই তাদের কর্ম ও নীতিমালার মধ্যে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রান্তিকীকরণকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে রাখতে হবে।

আদিবাসী অধিকার বিষয়ক জাতিসংঘ ঘোষণাপত্রের এই ১১তম বার্ষিকীতে, আমি সদস্য রাষ্ট্র, আদিবাসীদের, জাতিসংঘের কাঠামো এবং অংশীদারদের দৃঢ় পদক্ষেপ নিয়ে ঘোষণাপত্রটি বাস্তবায়নে একসাথে কাজ করার জন্য অনুরোধ করছি। এর মাধ্যমেই আমরা আদিবাসী জনগণের বেঁচে থাকার, মর্যাদা ও কল্যাণের জন্য একটি বাস্তব দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারব।

সকল পোস্ট

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked with *

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক মন্তব্য