জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের সহজ জয়

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের সহজ জয়

আজ মিরপুরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে সফরকারীদের বিপক্ষে ২৮ রানের সহজজয় পেয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের বোলিং ইনিংসের শুরুতে যা একটু সংশয়ের মেঘ জন্মেছিল, জিম্বাবুয়ের ওপেনিং জুটির দারুণ শুরুতে। তবে প্রথম উইকেট পড়ার পর আফ্রিকান দেশটি একবারের জন্যও চেপে ধরতে পারেনি বাংলাদেশকে। বরং ম্যাচ শেষ হওয়ার অনেক আগে থেকেই মাশরাফিরা পেতে থাকে জয়ের সুবাস। ২৭১ রান করার পর বল হাতে জিম্বাবুয়েকে ৯ উইকেটে ২৪৩ রানে থামিয়ে যেটা চূড়ান্ত করে বাংলাদেশ।

স্বাগতিকদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে জিম্বাবুয়ের কোনও ব্যাটসম্যানই সুবিধা করতে পারেননি। সর্বোচ্চ ৫০* রান করেছেন শন উইলিয়াম। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৭ রান আসে কাইল জার্ভিসের ব্যাট থেকে। বোলিংয়ে আলো ছড়িয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ, ৪৬ রান খরচায় তিনি পেয়েছেন ৩ উইকেট। আর ২ উইকেট শিকার নাজমুল ইসলামের।

জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ

মেহেদী হাসান মিরাজ তুলে নিলেন তার দ্বিতীয় উইকেট, আর ফজলে রাব্বির থ্রোতে ভেঙে গেল স্টাম্প। বাংলাদেশের জোড়া আঘাতে আরও এলোমেলো জিম্বাবুয়ে।

পিটার মুরকে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান মিরাজ। এলবিডাব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলে এই ব্যাটসম্যানকে আউট করেন তিনি ২৬ রানে, ৪৫ বলের ইনিংসটি তিনি সাজান ২ চার ও ১ ছক্কায়। মুরের আউটের খানিক পরই জিম্বাবুয়ে হারায় ডোনাল্ড তিরিপানোকে। ঝুঁকিপূর্ণ রান নেওয়া সময় রাব্বির চমৎকার থ্রোতে রান আউট হয়ে ফেরেন তিনি মাত্র ২ রান করে।

উইকেট উৎসবে যোগ দিলেন মেহেদীও

বোলিংয়ে শুরুটা খুব বাজে হয়েছিল মেহেদী হাসান মিরাজের। যদিও শুরুর হতাশা বাতাসে মিলিয়ে দিলেন তিনি বাংলাদেশের উইকেট উৎসবে যোগ দিয়ে। এই স্পিনার তার উইকেটের খাতা খুলেছেন ক্রেইগ এরভিকে ফিরিয়ে।

মাশরাফি বিন মুর্তজার সঙ্গে বোলিং শুরু করেছিলেন মেহেদী। জিম্বাবুইয়েন ওপেনারদের তাণ্ডবে প্রথম স্পেলে ছিলেন ব্যর্থ। অন্য সতীর্থরা বল হাতে উৎকেট উৎসব করলেও তিনি ছিলেন দর্শকের ভূমিকার। অবশেষে ২৬তম ওভারের প্রথম বলেই উইকেটের খাতা খোলেন এই স্পিনার। তার বলে সরাসরি বোল্ড হয়ে ফিরে যান এরভিন। আউট হওয়ার আগে এই ব্যাটসম্যান ৪৮ বলে করেন ২৪ রান।

নাজমুলের দ্বিতীয় আঘাত

আবারও উইকেট নাজমুল ইসলামের, আরও একবার স্টাম্প থেকে বেল উড়িয়ে ফেললেন মাটিতে। এবার এই স্পিনারের শিকার সিকান্দার রাজা।

নিজের প্রথম উইকেটটিও নাজমুল তুলে নিয়েছিলেন বোল্ড করে। ব্রেন্ডন টেলরের পর সিকান্দারকেও ফেরালেন একইভাবে। লেগ স্টাম্পে পড়া বল বাঁক খেয়ে ভেঙে দেয় উইকেট। বাংলাদেশি স্পিনারের শিকার হওয়ার আগে সিকান্দার ২২ বলে করেন ৭ রান।

জিম্বাবুয়ের নেই ৩ উইকেট

বলটা বুঝতেই পারলেন না ব্রেন্ডন টেলর। নাজমুল ইসলামের বাঁক নেওয়া বল সরাসরি আঘাত করে স্টাম্পে। এই স্পিনারের শিকারে বাংলাদেশ পায় দ্বিতীয় উইকেট। পরে নাজমুলের করা ওভারেই রান আউট হয়ে ফিরেছেন হ্যামিল্টন মাসাকাদজা।

নিজের দ্বিতীয় ওভারে উইকেটের খাতা খোলেন নাজমুল। মিডল স্টাম্পে পড়া বল হঠাৎ বাঁক নিয়ে আঘাত করে অফ স্টাম্পে, ব্যাটসম্যান টেলর রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে খেললেও শেষ রক্ষা হয়নি। বাংলাদেশি স্পিনারের বলে আউট হওয়ার আগে এই ব্যাটসম্যান করেন মাত্র ৫ রান।

টেলরের আউটের আঘাত কাটিয়ে ওঠার আগেই আবার ধাক্কা খায় আফ্রিকান দেশটি। দুঃখজনক রান আউটে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান অধিনায়ক মাসাকাদজা। ঝুঁকিপূর্ণ দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে ইমরুল কায়েসের থ্রো উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিম অনেকটা ঝাঁপিয়ে ভেঙে দেন স্টাম্প। জিম্বাবুয়ের তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়ার আগে মাসাকাদজা ৩৪ বলে করেন ২১ রান।

প্রথম বলেই মোস্তাফিজের উইকেট

বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ২৭২ রানের টার্গেটে নেমে সতর্ক ব্যাটিং শুরু করে জিম্বাবুয়ে। মাশরাফি মুর্তজা ও মেহেদী হাসান মিরাজের বলে দেখেশুনে খেলতে থাকেন দুই ওপেনার কেপাস ঝুওয়াও ও হ্যামিল্টন মাসাকাদজা। তবে একপ্রান্তে ঝড় তোলেন ঝুওয়াও। শেষ পর্যন্ত বল হাতে নিয়েই তাকে ক্রিজ থেকে বিদায় করলেন মোস্তাফিজুর রহমান। প্রথম বলটি ওয়াইড দেওয়ার পর এই ওপেনারকে বোল্ড করেন তিনি। ৪৮ রানে প্রথম উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। ২৪ বলে ৪টি চার ও ২ ছয়ে ৩৫ রান করেন ঝুওয়াও।

দুর্দান্ত ইমরুলে বাংলাদেশের ২৭১

ওপেনিংয়ে ফিরেই সেঞ্চুরি পেয়েছন ইমরুল কায়েস। এশিয়া কাপের নিচের দিকে ব্যাটিংয়ে নামলেও জিম্বাবুয়ের সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে খেললেন তিনি ওপেনারের ভূমিকায়। ফিরেই নিজের ওপেনিং সামর্থ্যের প্রমাণ দিলেন ইমরুল। তার দুর্দান্ত শতকে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে স্বাগতিকরা করেছে ২৭১ রান।

ওয়ানডে ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরির দেখা পেলেন ইমরুল। ৫০ ওভারের ম্যাচে প্রায় দুই বছর পর পূরণ করলেন আরেকটি শতক। ২০১৬ সালের অক্টোবরে শেষবার সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন এই ওপেনার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। ১১৮ বলে ৮ বাউন্ডারি ও ৩ ছক্কায় তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারের দেখা পান ইমরুল। শেষ পর্যন্ত খেলে যান ১৪৪ রানের ঝলমলে ইনিংস। তার সঙ্গে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের (৫০) কার্যকরী হাফসেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ পেয়েছে লড়াই করার মতো পুঁজি।

ইমরুল তার ১৪০ বলের ইনিংস সাজিয়েছেন ১৩ চার ও ৬ ছক্কায়। ১৪৪ রানের ইনিংসটি এখন তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ। আগের ১১২ রান ইমরুল করেছিলেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। তার সেঞ্চুরির দিনে ওয়ানডেতে ফিরেই ব্যাট হাতে অবদান রেখেছেন সাইফউদ্দিন। দলের বিপদের সময় ইমরুলকে সঙ্গ দিয়ে বাড়িয়ে নিয়েছেন রান। আউট হওয়ার আগে করেন তিনি ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম হাফসেঞ্চুরি। ঠিক ৫০ রানের ইনিংস এই অলরাউন্ডার সাজান ৩ বাউন্ডারি ও এক ছক্কায়।

হ্যামস্ট্রিংয়ের সমস্যার বেশ ভুগছিলেন কাইল জার্ভিস। শুরুতে মাঠ ছেড়ে গিয়েছিলেন পরিচর্যার আশায়। সেই পেসারের আঘাতেই ভাঙে ইমরুল কায়েস ও মোহাম্মদ মিঠুনের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ছন্দে থাকা মিঠুন উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নিয়েছেন ৩৭ রানে। এরপর মাহমুদউল্লাহ ও মেহেদী হাসান মিরাজ সাজঘরে ফিরলে বিপদ বাড়ে বাংলাদেশের। ৪ উইকেট পাওয়া জার্ভিস ঝড়ে এক পর্যায়ে ১৩৯ রানে বাংলাদেশ হারিয়েছিল ৬ উইকেট।

source: banglatribune.com

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked with *

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক মন্তব্য