আট বছরে ৪৩৪ জন আদিবাসী নারী ও কন্যাশিশু যৌন নির্যাতনের শিকার

আট বছরে ৪৩৪ জন আদিবাসী নারী ও কন্যাশিশু যৌন নির্যাতনের শিকার

গত ২৩ মার্চ সকাল ১০.৩০ মিনিটে বাংলাদেশের আদিবাসীদের মানবাধিকার রিপোর্ট ২০১৫ এর প্রকাশ ও মোড়ক উন্মোচন উপলক্ষে  দি ডেইলি স্টার ভবনের তৌফিক আজিজ খান সেমিনার হলে কাপেং ফাউন্ডেশন আলোচনা অনুস্থানের আয়োজন করে।

কাপেং ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন রবীন্দ্রনাথ সরেন এর সভাপতিত্বে মোড়ক উন্মেচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী ও আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামাল। সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়েশা খানম; জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সম্মানিত সদস্য নিরুপা দেওয়ান; বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট রানা দাশ গুপ্ত; উন্নয়ন সংস্থা অক্সফামের প্রোগ্রাম ডাইরেক্টর এমবি আক্তার; বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কাপেং ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারপার্সন চৈতালী ত্রিপুরা এবং সঞ্চালনা করেন কাপেং ফাউন্ডেশনের ফাল্গুনী ত্রিপুরা। অক্সফামের সহযোগিতায় কাপেং ফাউন্ডেশন প্রতিবছরের ন্যায় আদিবাসীদের মানবাধিকার বিষয়ক বার্ষিক এই রিপোর্ট প্রকাশ করেছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুলতানা কামাল বলেন, রাষ্ট্রীয়ভাবেই আদিবাসীদের প্রান্তিকতার মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। আজকে আদিবাসীদের সার্বিক মানবাধিকার প্রতিবেদনে যে কথাগুলো বলা হয়েছে সেগুলো অবশ্যই রাষ্ট্রকে ইতিবাচকভাবে শুনতে হবে এবং আদিবাসীসহ দেশের আপামর জনসাধারনের মানবাধিকার রক্ষার ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা নারী পুরুষ যে কেউ যেখানেই থাকি যেভাবেই থাকি যে মতের থাকি যে দলেরই থাকি আমরা যদি নিরাপদ থাকি তাহলে বুঝবো গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে নতুবা নয়।

আয়েশা খানম বলেন, আদিবাসীদের দীর্ঘ লড়াই সংগ্রাম, অধিকার প্রতিষ্ঠিত না হওয়ার বেদনা, বারংবার মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ও তার বিচার না হওয়া আদিাবাসীদের মনে একধরনের বিচ্ছিন্নতা তৈরি করছে। এদেশের বৈচিত্র্যতা রক্ষা করতে হলে রাষ্ট্রকে তার দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে।

এডভোকেট রানা দাশ গুপ্ত বলেন, এখনো এদেশের সংখ্যালঘুদের মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নত হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীতে আদিবাসীদের ক্ষুদ্র পরিচয়ে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিয়ে সরকার নিজেই দেশের জনগণের সাথে বৈষম্য করেছে। ক্ষুদ্র এবং বৃহৎ বলে জাতিগত বিভক্ততা বাড়িয়েছে।

নিরুপা দেওয়ান বলেন, আদিবাসীদের মানবাধিকার প্রতিনিয়ত লঙ্ঘিত হচ্ছে তারপরও কিন্তু আদিবাসীরা এখনো আশায় বুক বেধে আছে। আদিবাসীরা এখনো বিশ্বাস করে সংবিধানের চোখে, রাষ্ট্রের চোখে এদেশের সকল নাগরিক সমান।

এমবি আক্তার বলেন, আদিবাসীদের মানবাধিকার পরিস্থিতি ও আদিবাসী অধিকার আন্দোলন গত ১৫-২০ বছর ধরে একই রকম অবস্থায় আছে। হয় এটি আন্দোলনের ব্যর্থতা নয়তো রাষ্ট্র ব্যবস্থা আদিবাসীদের ব্যাপারে আন্তরিক নয়।

সঞ্জীব দ্রং বলেন,  একটি দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কেমন তার বুঝার বড় মাপকাঠি হচ্ছে সেদেশের সংখ্যালঘু জনগণ কি অবস্থায় আছে। যদি তারা ভালো না থাকে তাহলে বুঝতে হবে গণতন্ত্রের অবস্থা ভালো নয়। রাষ্ট্র্র যদি আদিবাসী মানুষের হত্যার বিচার করতে না পারে, আদিবাসী নারী ধর্ষণের বিচার করতে না পারে, আদিবাসীদের উপর নির্যাতন বন্ধ করতে না পারে অন্তত যেন রাষ্ট্র আদিবাসী মানুষের প্রতি মানবিক হয়, দুঃখ প্রকাশ করে।

সভাপতির বক্তব্যে রবীন্দ্রনাথ সরেন বলেন, আদিবাসীদের প্রতি প্রতিনিয়ত নানা ধরনের নির্যাতন নিপীড়ণ চলছে। এটা নিশ্চয় কেউ অস্বীকার করবেনা। প্রতিদিনি আমরা সংবাদপত্রে আদিবাসীদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাও দেখি। তিনি আরো বলেন, আমরা আদিবাসীরাও মুক্তিযুদ্ধ করেছি। কিন্তু এই ৪৫ বছর পর আমরা উপলব্ধি করছি স্বাধীনতার ফলে যা অর্জিত হয়েছ তার সবই ভোগ করবে বাঙালি। কেননা সংবিধানেই বলা আছে এদেশের নাগিরকগণ বাঙালি বলে পরিচিত হবেন।

মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের মুক্ত আলোচনায় আরো অংশ্রগহণ করেন, মানবাধিকার কর্মী রোজালিন কস্তা, জান্নাতুল ফেরদৌসী, অজয় এ মৃ, হামিদুর রহমান, শিপন রিবদাস প্রাণকৃষ্ণ, গনেশ মার্ডী, চঞ্চনা চাকমা প্রমুখ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked with *

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক মন্তব্য