জামিন পেলেন আলোকচিত্রী ড. শহিদুল আলম

জামিন পেলেন আলোকচিত্রী ড. শহিদুল আলম

বিচারিক আদালতে জামিন প্রত্যাখ্যানের পর হাইকোর্টে কয়েকদফা আবেদনের মাধ্যমে জামিন পেলেন আলোকচিত্রী ড. শহিদুল আলম। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলায় শহিদুল আলমকে কেন জামিন দেওয়া হবে না সে সংক্রান্ত রুল যথাযথ ঘোষণা করে তাকে বৃহস্পতিবার (১৫ নভেম্বর) জামিন দেন আদালত। এর ফলে কারাবন্দি শহিদুল আলমের মুক্তিতে আর কোনও বাধা থাকছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।

হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর শহিদুল আলমের কারামুক্তির প্রক্রিয়া সম্পর্কে তার অন্যতম আইনজীবী ব্যারিস্টার জোতির্ময় বড়ুয়া গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এখন হাইকোর্টের জামিন আদেশের অনুলিপি চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে যাবে। এরপর সেখানে (সিএমএম) আমরা একটি জামিননামা দাখিল করবো। সবশেষে সেই জামিননামা সিএমএম’র মাধ্যমে জেলগেটে যাবে। এরপরই শহিদুল আলম জামিনে বেরিয়ে আসতে পারবেন।’

তিনি বলেন, ‘হাইকোর্টের জামিন আদেশের অনুলিপি হাতে পাওয়ার ওপরে সবকিছু নির্ভর করছে। কেননা, আদেশের অনুলিপি হাতে না পাওয়া পর্যন্ত জামিন প্রক্রিয়ার অন্যান্য কার্যক্রমগুলো থেমে থাকবে।’

প্রসঙ্গত, দৃক গ্যালারির প্রতিষ্ঠাতা শহিদুল আলম ছাত্র আন্দোলন নিয়ে সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দেন। ওই ঘটনায় রমনা থানার তথ্যপ্রযুক্তি আইনে দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ। গত ৬ আগস্ট ডিবি (উত্তর) পরিদর্শক মেহেদী হাসান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। পরে এ মামলায় শহিদুল আলমকে কারাগারে হাজির করা হলে গত ১২ আগস্ট তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ঢাকা মহানগর হাকিম ফাহাদ বিন আমিন চৌধুরী।

এরপর শহিদুল আলমের জামিন চেয়ে তিন বার হাইকোর্টে আবেদন জানান তার আইনজীবীরা। এর ধারাবাহিকতায় গত ৭ অক্টোবর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলায় জামিন আবেদন করলে আলোকচিত্রী ড. শহিদুল আলমকে কেন জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। এরপর এ মামলায় তার জামিন বিষয়ে হাইকোর্টে রুল শুনানি হয়। শুনানিকালে সড়ক আন্দোলন নিয়ে আল জাজিরা টেলিভিশনে দেওয়া শহিদুল আলমের সাক্ষাৎকার ও লাইভ ভিডিওগুলো দেখাতে রাষ্ট্রপক্ষকে নির্দেশ দেন আদালত। ভিডিও ফুটেজগুলো প্রজেক্টরের মাধ্যমে আদালতে প্রদর্শনের পর গত ১ নভেম্বর হাইকোর্ট শহিদুল আলমের জামিন আবেদন আদালতের কার্যতালিকা থেকে বাদ দেন।

এরপর শহিদুল আলমের জামিন চেয়ে হাইকোর্টের বিচারপতি শেখ আব্দুল আউয়াল ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর বেঞ্চে আবেদন জানানো হলে বৃহস্পতিবার (১৫ নভেম্বর) আদালত শহিদুল আলমকে জামিন দেন।

আদালতে শহিদুল আলমের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফজলুর রহমান খান ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আলী জিন্নাহ্।

শহিদুল আলমের আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, ‘এই উপমহাদেশের এমনকী সারাবিশ্বে তিনি একজন নামকরা আলোকচিত্রী। এ বিষয়টি আদালত বিবেচনায় নিয়েছেন এবং তাকে জামিন দিয়েছেন। এর ফলে তার মুক্তিতে আর বাধা নেই। তবে সরকারপক্ষের আইনজীবীরা যদি এই জামিন আদেশের বিরোধিতা করেন তবে তা পরে দেখা যাবে। ’

জানতে চাইলে সরকার পক্ষে কৌঁসুলি সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আলী জিন্নাহ্ সংবাদ মধ্যমকে জানান, ‘আমরা শহিদুল আলমের জামিন আদেশের বিরুদ্ধে আপিলে যাবো। হাইকোর্টের আদেশের অনুলিপি হাতে পেলেই তার জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালতে আমরা আবেদন করবো।’ কবে নাগাদ অনুলিপি হাতে পাওয়া যেতে পারে, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked with *

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক মন্তব্য